রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
অটোরিকশার উচ্চশব্দের হর্নে কান ঝালাপালা পথচারীর!
কাগজ সংবাদ :
Published : Tuesday, 23 July, 2019 at 6:14 AM
অটোরিকশার উচ্চশব্দের হর্নে কান ঝালাপালা পথচারীর!কিছুদিন আগেও পৌরসভার উদ্যোগে অটোরিকশা চলাচলে বাধা দেয়া হয়। পরে তা সীমিত সংখ্যায় চলাচল করলেও সেটা করে পৌরসভা বা ট্রাফিকের চোখ ফাঁকি দিয়ে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই। অলিগলিসহ সব জায়গাতেই চলছে অটোরিকশা। অল্প সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্যে শহরবাসীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ বাহনটি। তবে, যেমন জনপ্রিয় হয়েছে আবার অনেকটা যন্ত্রণার কারণও হয়েছে অটোরিকশা।
অভিযোগ উঠেছে, নিয়মনীতি না মেনেই হর্ন লাগানো হচ্ছে অটোরিকশায়। যে হর্নের শব্দ অত্যন্ত যন্ত্রণার। তবে, বিআরটিএ বলছে যে বাহনের চলাচল বন্ধে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা শহরে চলাচল সমীচীন নয়। তাছাড়া অবৈধ অটোরিকশার উচ্চ শব্দের হর্নের দায়িত্ব নেবে কে।
রোববার শহর ঘুরে দেখা গেছে, শহরে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চলাচলে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। অনেকটা এলোমেলো চলাচল করছে এ রিকশাগুলো। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মানবিক দৃষ্টিতে অটো রিকশা চলাচল করছে। কারণ সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে রিকশা চালকদের সংসার। যার জন্যে অনেকটা না দেখার ভান করেই চলছে বলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের দাবি।
শহরের চৌরাস্তায় কথা হয় মামুনুর রশিদ নামে এক স্কুল শিক্ষকের সাথে। উচ্চশব্দের হর্ন বাজানো নিয়ে তিনি বলেন, পেছন দিক থেকে যখন হর্ন বাজায় তখন অত্যন্ত বিরক্তি লাগে। কারণ অটোরিকশার হর্ন এত উচ্চশব্দে বাজে, যা সহ্য করা যায় না। কানে এসে খুব লাগে এ হর্নের আওয়াজ। যা সাধারণ মানুষের সহ্য করতে যথেষ্ট কষ্ট হয়।
মৌমিতা আক্তার সুমি। শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় বসবাস করেন। তার অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে বঙ্গবাজার থেকে ওষুধ নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দেড় বছরের মেয়ে তার কোলে ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় একটি রিকশা বিনা কারণে ফাঁকা রাস্তায় হর্ন বাজাতে বাজাতে চলে যায়। এতে করে সুমির মেয়ে চমকে উঠে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। যা নিয়ে অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন তিনি। তিনি বলেন, এ ধরনের রিকশা কেন চলাচল করে রাস্তায় তার জানা নেই। পুলিশ প্রশাসন কী করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ ব্যাপারে ফরহাদ হুসাইন নামে এক রিকশাচালক ফাঁকা জায়গায় হর্ন বাজানো নিয়ে বলেন, মানুষ যখন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন তখন তারা হর্ন বাজান। হর্নের মাধ্যমে যাত্রীকে বোঝানো হয় রিকশা লাগবে কি না। অথচ মানুষ এ ধরনের অসচেতনতার জন্যে যথেষ্ট বিরক্ত হন বলে জানান একাধিক যাত্রী।
বিশেষ করে বিকেলে অফিস ছুটির সময় ও সন্ধ্যার পরে শহরের মণিহার, চৌরাস্তা, গাড়িখানা, এইচএমএম রোড, দড়াটানা, জেলরোড, কাঠেরপুল এলাকায় বেশি ভিড় হয়। এ সময় বিনা কারণে রিকশা চালকরা উচ্চশব্দের এ হর্ন বাজান। যে কারণে অনেকেই আতংকগ্রস্ত হয়। এ ধরনের হর্নগুলো মূলত ইজিবাইক, থ্রিহুইলারে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু ভেপু বাঁশির বদলে অটোরিকশা চালকরা উচ্চ শব্দের এ হর্ন রিকশায় সংযোজন করেছেন। যা নিয়ে তারা রীতিমত শহরকে যন্ত্রণার শহরে পরিণত করেছে বলে অনেকেরই মন্তব্য।
যশোর বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) কাজী মোরছালীন বলেন, অটোরিকশা মূলত হাইকোর্ট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছে বেশ আগেই। কিন্তু মানবিক কারণে রিকশাগুলো শহরে চলছে। তবে, হর্ন উচ্চশব্দে বাজানো বন্ধে তাদের বিরুদ্ধে বিআরটিএ’র কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই। প্রথমত তারা হাইকোর্টের নিষিদ্ধ একটি বাহন। দ্বিতীয়ত বিআরটিএ’র তালিকাভুক্ত বাহন না। এ ব্যাপারে পৌরসভার উদ্যোগটাই শ্রেয়। কারণ তারা পৌরসভার রাস্তা ব্যবহার করছে।
মোরছালীন আরো বলেন, অটোরিকশার উচ্চশব্দের হর্ন বন্ধে শুধু পৌরসভা নয়, পুলিশ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে বিআরটিএও কাজ করবে। এ জন্যে দরকার সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ। তা না হলে এ অবৈধ অটো রিকশার উচ্চ শব্দের হর্নের দায়িত্ব নেবে কে! 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft