বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯
অর্থকড়ি
যশোরসহ গোটা দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম
ফার্মের ডিমের বাজারে নৈরাজ্য
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Thursday, 1 August, 2019 at 6:09 AM
ফার্মের ডিমের বাজারে নৈরাজ্যযশোরাঞ্চলসহ গোটা দেশে ফার্মের মুরগির ডিমের বাজারে ব্যাপক নৈরাজ্য চলছে। গত এক মাস জুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বৃদ্ধি বহাল রেখে ভোক্তা ও ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। বাজারে এর প্রভাব পড়ছে অন্যান্য ডিমের ক্ষেত্রেও। যশোর, পাবনা, গাইবান্ধা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর ও উত্তরবঙ্গের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রীতিমত সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ খুচরা দোকানিদের।
এক মাসের ব্যবধানে চলতি মাস জুড়ে ফার্মের মুরগির ৭ টাকার ডিমের খুচরা দাম হাকা হচ্ছে প্রতি পিস সাড়ে ৯ টাকা থেকে ১০ টাকা। ক্ষুদ্র ডিম ব্যবসায়ী ও ঢাকা সমিতি সিন্ডিকেটের কারণে ডিমের বাজার অস্থির রয়েছে। তারা ফোনে ফোনে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় এ ভোগ্য পণ্যটির বাজার এখন বেশামাল রূপ নেয়ায় কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে সরকারি নজরদারী ও তদারকি জরুরি।  
সেই আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে গণমানুষের আমিষ চাহিদার বিশাল একটি অংশ পূরণ করে আসছে ফার্মের ডিম। প্রতিদিনই নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আমিষের যোগানে এই ডিম ভূমিকা রেখে আসছে। অথচ জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে হঠাৎ ৭ টাকার ডিম খুচরা কিনতে হচ্ছে সাড়ে ৯ টাকা থেকে ১০ টাকায়। দাম বেড়ে আর নামছে না। দাঁড়িয়ে আছে সাড়ে ৯ টাকা থেকে ১০ টাকায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর শহরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, পাবনাসহ উত্তর বঙ্গের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আধিপত্য বিস্তার করে আছে ডিম বাজারে। আর ঢাকা পোল্ট্রি ডিম ব্যবসায়ী সমিতি গোটা দেশের ডিমের বাজার ও দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। ঢাকার সমিতি নেতারা ও পোল্ট্রি খামারিরা ফোনে ফোনে প্রতিদিনের দাম নির্ধারণ করছেন। কতিপয় বড় ব্যবসায়ী দাম কমিয়ে দিয়ে বাজার থেকে সব ডিম কিনে গুদামজাত  করেছেন। ২০ থেকে ৫০ লাখ পিস ডিস গুদামে ঢুকিয়ে আবার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা। ওই ব্যবসায়ীরা শিল্পপতি খামারিদেরকেও জিম্মি করে ফেলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে সরাসরি ডিম উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডিম কিনতে পারছেন না দোকানি কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। যার প্রতিকূল প্রভাব পড়ছে বাজারে। খতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রেতা সাধারণ।  
গত ৩ দিন যশোরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি ফার্মের লাল ডিমের খুচরা মূল্য সাড়ে ৯ টাকা থেকে ১০ টাকা। মুরগির খাবারের দাম বস্তা প্রতি যৎসামান্য বাড়লেও ডিমের হালিপ্রতি দাম বাড়ানো হয়েছে ৮ থেকে ১০ টাকা।  
যশোর ঘোপ জেল রোডের ব্যবসায়ী শফি জানান, বড় বড় ডিম ব্যবসায়ী কারসাজি করে ডিমের বাজারটিকে ধ্বংস করছে। এখন পুরো বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করছে ঢাকা সমিতির সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেট লাখ লাখ ছোট ব্যবসায়ীকে পথে বসিয়েছে। প্রতিটি ডিমের খুচরা মূল্য ৮ টাকা হওয়ার কথা। অথচ পাইকারিই কিনতে হচ্ছে সাড়ে ৮শ’ টাকায়। এতে দোকানদার ও ক্রেতা উভয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। যে কারণে দোকানে ডিম তুলতেও ভয় করছেন বলে জানান এ ব্যবসায়ী।
ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের ডিম ব্যবসায়ী লিটন জানান, জুলাই মাস জুড়ে ৮শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৮শ’ টাকা শ’ কিনতে হচ্ছে। যে কারণে সাড়ে ৯ টাকা থেকে ১০ টাকা খুচরা বিক্রি করতে হচ্ছে। মাস কয়েক আগেও ৮ টাকা সাড়ে ৭ টাকা পিস ডিম বিক্রি করেছেন।
আরও কয়েক ব্যবসায়ী ও ডিমের ডিলার জানান, বড় বড় শিল্পপতির কাছে ডিম সেক্টর জিম্মি হয়ে পড়েছে। আগে বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট মুরগির খামার ছিল। তারা নিজেরা ডিম উৎপাদন ও বাজারজাত করতেন। বড় বড় ব্যবসায়ীদের সাথে প্রতিযোগিতায় ঠিকতে না পেরে সেসব খামার অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে বাজারটা এখন গুটিকতক ব্যবসায়ীর দখলে চলে গেছে। তারা বাজারটাকে যেভাবে চালাচ্ছে, সেভাবে চলছে। তারা যদি মনে করে, আজকে ডিমের বাজার দর ৬ টাকা হবে, তাহলে ৬ টাকা। যদি মনে করে প্রতিটি ডিমের দাম ৯ টাকা হবে, তাহলে ৯ টাকা।
যশোরের অপর এক ডিম ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গত ২৮ জুলাই উৎপাদন খামারগুলোতে ৮শ’২৫ টাকা ডিমের শ’। ২৯ জুলাই ৮শ’ ৩৫ টাকা, ২৭ জুলাই ৭শ’৩০ টাকা শ’ পাইকারি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ৩০ জুলাই ৮শ’১৫ থেকে ৮শ’২০ টাকা বিক্রি হয়েছে। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ৮শ’৫০ টাকা পর্যন্ত পাইকারি বিক্রি করেছে। আর ৩০ জুলাই পর্যন্ত মাস জুড়ে যশেরাঞ্চলের জনসাধারণকে খুচরা কিনতে হয়েছে ৯ টাকা, সাড়ে ৯ টাকা থেকে ১০ টাকা পিস।  
এ ব্যাপারে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভবতোষ কুমার সরকার গ্রামের কাগজকে বলেন, যশোরাঞ্চলে ডিম উৎপাদন ও চাহিদা প্রায়ই কাছাকাছি। এরপরও বাইরে থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ ডিম এ অঞ্চলে ঢুকছে। এরপরও দুঃখজনকভাবে বেসরকারি বড় ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হঠাৎ হঠাৎ করে ডিমের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে সিন্ডিকেট করে। এর নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে এই মুহূর্তে নেই। তবে দ্রুতই এই নৈরাজ্য রুখে দিতে মাঠে নামবে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। সরকারিভাবে ভর্তূকি দিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডিম উৎপাদন করে কম দামে বাজারে ডিম ছাড়লেই এই নৈরাজ্য রোধ হতে পারে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft