রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ডেঙ্গু : যশোরে মশারির দোকানে ভিড়
জগদীশ দাস :
Published : Friday, 2 August, 2019 at 6:27 AM
ডেঙ্গু : যশোরে মশারির দোকানে ভিড়সারাদেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোতে বাড়ছে নতুন নতুন রোগী। রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ  শুরু হলেও  তা বর্তমানে  সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মশার অবিরাম উৎপাতে নাকাল হয়ে পড়েছে আবাল বৃদ্ধ বণিতা। সারাক্ষণই ডেঙ্গু আতঙ্কে রয়েছেন সবাই। অন্যান্য সময় মশার কামড় অনেকটা সামলে নিলেও এ বছর  মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবরে মানুষ নিজেদের পরিবার পরিজন নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন।
এ তালিকা থেকে বাদ নেই যশোর জেলাও। সারাদেশের মতো এখানেও  মানুষ এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গুর আশঙ্কায় সময় পার করছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক গুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্তদের ভর্তির খবরে ভয়ে ভয়ে সময় কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মশা দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে যাচ্ছেন সবাই। ডেঙ্গুবাহিত মশা নিধনের জন্যে আধুনিক ব্যবস্থা থাকলেও এই মুহূর্তে মশারির বিকল্প কিছুই ভাবতে পারছেন না তারা। যারা মশারি মোটেও ব্যাবহার করতেন না  তারাও এখন ব্যবহার করছেন।
মশার কয়েল, অ্যারোসল, মশা মারার ব্যাট প্রভৃতি সামগ্রী ব্যবহার করা হয়ে থাকলেও মশারিতে আস্থা রাখছেন মানুষ। আর তাই সাম্প্রতিক সময়ে  মশারির দোকানে ভিড় বাড়ছে। শহরের বড়বাজারে একটা দোকানের সামনে কথা হয়  শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার দীপা ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, সারা বছর মশা মারার স্প্রে, মরটিন অ্যারোসল, মশা মারার ব্যাট ব্যাবহার করলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারি কিনতে এসেছেন।
শহরের বিভিন্ন দোকানেও মশারি বিক্রি হচ্ছে চোখে পড়ার মতো। এ বিষয়ে কথা হলে কয়েকজন ক্রেতা জানান, ডেঙ্গু মশার ভয়ে তারা মশারি কিনতে এসেছেন। সারাবছর তারা মশারি না টাঙালেও এ সময় তারা মশারি ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারছেন না। শহরের হাশিমপুর থেকে এসেছিলেন নাজমা খানম এবং তার স্বামী আজগর আলী। নাজমা খানম জানান, বাড়ি গ্রামের দিকে হওয়ায় প্রায় সারাক্ষণই মশা থাকে, বাড়িতে মশারি থাকলেও মশা আটকাচ্ছে না তাই তারা ম্যাজিক মশারি কিনবেন।
ছোট বড়, মাঝারী আকারের মশারি বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানগুলোতে। অনেক ক্রেতাকে নকশা আঁকা মশারি কিনতে দেখা  গেছে। দোকানিরা বলছেন, বছরের অন্যান্য সময় মশারি কম বেশি বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি বেড়েছে। যশোরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন দোকানে দোকানিরা নিজেদের দর্জি দিয়ে তৈরি সিঙ্গেল মশারি বিক্রি হচ্ছে একশ’ ৮০ থেকে দুশ’ টাকায়। গার্মেন্টেসের মশারি বিক্রি করছেন একশ’ ২০ থেকে দেড়শ’ টাকায়, এসব সিঙ্গেল মশারী খুচরা বিক্রি হচ্ছে  দুই’শ কুড়ি টাকায়। এছাড়া নিজেদের তৈরি চার/পাঁচ হাত মশারির পাইকারি দাম তিনশ’ ৫০ থেকে চারশ’ ৫০ টাকায় এবং খুচরা দামে বিক্রি করছেন পাঁচশ’ টাকার উপরে। অনেকে রেডিমেড কিনছেন আবার কেউ কেউ মশারির কাপড় কিনেও নিজেরা দর্জি দিয়ে তৈরি করে নিচ্ছেন। একটা মশারি তৈরির খরচ পড়ছে দেড়শ’ থেকে দুশ’ টাকা। আলী হোসেন নামে একজন দর্জি বলেন, অন্য সময় পুরানো জামা কাপড় সেলাই করলেও এখন প্রায় প্রতিদিন দু’ থেকে তিনটি মশারি সেলাই করছেন। তবে, ক্রেতাদের পছন্দেও মধ্যে রয়েছে ম্যাজিক মশারী। তুলনামূলকভাবে এ মশারির বিক্রি বেড়েছে। সহজে বাতাস প্রবেশ এবং মশা আটকানোর জন্যে এ মশারি সবার পছন্দের। হাট চান্নী মার্কেটের নূর বস্ত্রালয়, কবিরুল বস্ত্রালয়, সজ্জা বস্ত্রালয়সহ অন্যান্য মশারি দোকানের মালিকরা জানান, ডেঙ্গুর প্রভাবে মশারির দোকানে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আগে তেমন বিক্রি না হলেও এখন প্রায় প্রতিদিনই কম বেশি বিক্রি হচ্ছে।  নূর বস্ত্রালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী ইউনুছ আলী বলেন, শহরের মানুষ তেমন মশারি ব্যবহার না করলেও এ সময় মশার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যে মশারির দোকানে আসছেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft