শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
তীরে ভিড়লো জান্নাতের স্বপ্নতরী
এস.এম আরিফ :
Published : Friday, 2 August, 2019 at 6:27 AM
তীরে ভিড়লো জান্নাতের স্বপ্নতরী জান্নাতুল মাওয়ার মুখে ছিল অনাবিল হাসি। বৃহস্পতিবার সে বুঝে পেয়েছে স্থায়ী ঠিকানা। ধুলিমাখা পথে পথে ঘোরা ইজিবাইক কন্যার যেন শাপমুক্তি হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের নিজের বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে চলেছে সরকারের গৃহীত ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্প আর যশোর জেলা প্রশাসনের আন্তরিকতায়। যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের ম-লগাতি মৌজার ১ নং খতিয়ানের ৭১২ নং দাগে পাঁচ শতক জমি বৃহস্পতিবার সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে মেপে জান্নাতুল আর তার বাবাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ জাকির হাসান। এখন এই জমির ওপর উঠবে জান্নাতুলের স্বপ্নের ঘর।
কপালের ফেরে ইজিবাইকে শুধু শৈশবই নয় বাধা পড়েছিল জীবনও। জীবন জীবিকার তাগিদে কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত অবধি ইজিবাইক চালানো বাবার সাথে পথে পথে ঘুরতে হতো তাকে। খেতে হতো হোটেলে হোটেলে। কারণ, বাবা ছাড়া সংসারে তার আর কেউ নেই। ফুটফুটে মেয়েটির বয়স যখন মাত্র আড়াই বছর তখন দারিদ্র্যতার অজুহাতে বাবাকে ছেড়ে অন্য সংসারে মায়ের চলে যাওয়ায় বাবা মেয়ে দু’জনের জীবন এক ফ্রেমে ছিল আটকানো। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের মাথা গোজার ঠাঁইও ছিল না। জীবনের প্রয়োজনে ইজিবাইক চালানো শুরু করলে যশোর শহরের নাজির শংকরপুর চাতাল মোড় এলাকার শামীম হোসেনের একটি ইজিবাইক চার্জের দোকানেই বাধা পড়েছিল বাবা মেয়ের কষ্টের জীবন। নিরাপত্তা আর দেখভালের লোকের অভাবে ছোট ফুটফুটে মেয়ে জান্নাতুল মাওয়াকে ইজিবাইকে চড়িয়েই ভাড়া খাটতে বের হতেন চালক মুরাদুর রহমান মুন্না। ভোর বেলায় বাবা মুন্না যখন তার মেয়ে তীরে ভিড়লো জান্নাতের স্বপ্নতরী জান্নাতুল মাওয়াকে ঘুম থেকে উঠিয়ে গোছগাছ করাতেন যে কেউ দেখলে ভাবতেন যেন মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্যে ব্যস্ততা!  অথচ নির্মম নিয়তির কারণে ইজিবাইকে চলতি পথে দেখা ছাড়া স্কুলের চৌকাঠ মাড়ানোর সৌভাগ্য হয়নি তার। ধুলো ধূসরিত পথে বাবার ইজিবাইকে কেটেছে সাড়ে তিন বছর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গণমাধ্যমে জান্নাতুল মাওয়ার করুণ কাহিনী প্রকাশিত হলে যশোরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল ইজিবাইক চালক মুরাদুর রহমান মুন্না ও শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন। পথে পথে ঘুরে তখন জান্নাতুল সর্দি জ্বরে আক্রান্ত।তীরে ভিড়লো জান্নাতের স্বপ্নতরী জেলা প্রশাসক চিকিৎসার ব্যবস্থা করাসহ সেইদিন থেকে শিশুটির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। শিক্ষা উপকরণের সাথে তার হাতে তুলে দেন চকলেট আর খেলনা। জান্নাতুলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল আর কিছু চাওয়ার আছে কিনা। সে সময় জেলা প্রশাসকের কাছে জান্নাতুল নিজের একটি বাড়ির আবদার করে। ততক্ষণাৎ জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জান্নাতুলকে একটি বাড়ি বানিয়ে দেয়ার কথা দেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২ মে যশোর জিলা স্কুল অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট (এসডিজি) বিষয়ক কর্মশালা এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, দুঃস্থ ও অসহায়দের মধ্যে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী জান্নাতুল মাওয়ার হাতে তুলে দেন যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের মন্ডলগাতি মৌজায় সাড়ে পাঁচ শতক জমির দলিল। অনুষ্ঠানে জান্নাতুল মাওয়া ও তার বাবার হাতে তুলে দেয়া হয় বাড়ির একটি রেপ্লিকা। সেই সাথে জমির ওপর জেলা প্রশাসনের আর্থিক সহযোগিতায় বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার আশ্বাস। সেই প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়নে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ জাকির হাসান বৃহস্পতিবার জান্নাতুলের জমি বুঝিয়ে দিয়েছেন। অচিরেই শুরু হবে ঘর তৈরির কাজ।
খুশির উজ্জ্বল আভা চোখমুখে প্রতিফলিত হচ্ছিল জান্নাতুলের। কেমন লাগছে জানতে চাইলে শিশুতোষ উচ্চারণে সে জানায়, ‘ডিসি কাকু অনেক ভালো। তার ঘর বানিয়ে দিচ্ছেন ডিসি কাকু।’ আর কিছু জানতে চাওয়ার আগে শৈশবের চপলতায় দে ছুট। স্বপ্ন পূরণের পথে তাকে আর কে আটকাবে এখন! তার খুশিতে উদ্বেলিত হয়েছিল কর্মযজ্ঞ দেখতে আসা ম-লগাতি গ্রামের আগত জনতাও।




আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft