সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯
শিক্ষা বার্তা
কলাপাড়ায় ২৭ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ও ১১২ সহকারী শিক্ষক পদ শুন্য
ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
এইচ,এম, হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া(পটুয়াখালী) :
Published : Saturday, 3 August, 2019 at 3:04 PM
কলাপাড়ায় ২৭ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ও ১১২ সহকারী শিক্ষক পদ শুন্য শিক্ষক স্বল্পতায় পটুয়াকালীর কলাপাড়া উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান কার্যত্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ দিন থেকে এ সমস্যা চলমান থাকলেও তার সমাধান হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তেমনি বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছেন নিয়মিত শিক্ষকেরা। শিক্ষক সঙ্কটে থাকা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদেও অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও এ নিয়ে বিরক্ত। বারবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে ধরনা দিয়েও এ সমস্যার সমাধান হচ্ছেনা। তাই ক্ষুক্ক অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা প্রতিদিনের কার্যত্রম আর সময়মতো সিলেবাস সম্পন্ন শিক্ষা ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানাগেছে, উপজেলায় ১৭৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২২হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ১১২জন সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের পদ শুন্য থাকায় ওই সব প্রতিষ্টানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলাও ভেঙ্গে পড়েছে। শিক্ষক স্বল্পতায় মানসম্মত ফলাফলের দিক দিয়েও পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই অভিভাবকদের। তারা বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারনে নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এর সমাধান না নিলে আগামী দিনে উপজেলায় ভালো ফলাফল আসবে না। ওই বিদ্যালয়গুলোতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রশাসনিক ও পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষক সঙ্কটে পড়ে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনের পাঠদান কার্যক্রম চলছে কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে। উপজেলায় কিছু মহিলা শিক্ষক মাতৃত্বকালিন ছুটিতে থাকায় ও বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক দীর্ঘ দিন ধরে প্রশিক্ষণে থাকায় চলমান সঙ্কট আরো প্রকট হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও প্রতিভা বিকাশের উপযুক্ত স্থান হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের শিক্ষক স্বল্পতায় হোঁচট খেতে হচ্ছে। শিক্ষক স্বল্পতায় থাকা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা নিজেদের ইচ্ছে মতো ক্লাস নিয়ে থাকেন। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে অফিসের কাজের পাশাপাশি এক শিক্ষককে দু’টি ক্লাসে ও পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হয়। তাই শিক্ষককেরা যেমন অতিরিক্ত কাজ আর পাঠদান কার্যক্রমে ক্লান্ত হচ্ছেন। তেমনি এক বা দু’টি বিষয় সারা দিন পড়া নিয়ে শিক্ষার্থীরাও বিরক্ত হচ্ছে। আর এ কারনেই অনেক বিদ্যালয় খুদে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় যেতে আগ্রহ হারাচ্ছে। ওই সব বিদ্যালয় সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল ও আশানুরুপ হচ্ছে না। যে সব বিদ্যালয়ের ফলাফল ভালো হয়। তারাও আশানুরুপ ফলাফল অর্জন করতে না পারায় হতাশায় ভোগে।
অভিভাবকদের মতামত তারা বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার এমন বেহাল দশার কারনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকেরা। দ্রুত এ অবস্থার উওোরন না হলে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে ও কিছু কিছু শিক্ষক বদলী নিয়ে ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ জমি দালালি.সার্ভেয়ারি নিয়ে ব্যস্ত এর উদাহরন- উপজেলা ধুলাসার ইউনিয়নে নয়াকাটা গ্রামের বেীলতলী সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী হারুন অর রশিদ প্রায় দিনই স্কুলে অনুপস্থিত থেকে জমি দালালি ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়, শালিস বানিজ্য ব্যস্ত থাকে। ওই শিক্ষকের কাছে যে কোনো ভুমি অফিসের কর্মকর্তাও সিল,স্বাক্ষর, সইমোহর, পর্চা পাওয়া যায়। এমন কি পাকিস্তানি আমলের দলিলসহ যেকোনো সালের দলিল তৈরি করে দিতে পারেন তিনি। তিনি জাল দলিল তৈরি করে যাদের জমি নেই তাদেরকে লোনের ব্যবস্থা করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে এজন্য তার বিরুদ্ধে মহিপুর কৃষি ব্যাংক বাদী হয়ে মামলা করে ও তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে দুদক মামলা হয়েছে। তিনি বেশির ভাগ সময় কলাপাড়াÑমহিপুর ভুমি অফিসে কাটান। তিনি শুক্্র ও শনিবার ব্যতিত কলাপাড়ায় দুপুর ১ থেকে ১.৩০ টার মধ্যে তার কাজের চলে আসেন। তিনি নি¤œ পরিবারের লোক হয়ে এখন সে কোটি কোটি টাকা ও জমির মালিক। ধুলাসার ইউনিয়নে যেখানে জমি নিয়ে সমস্যা সেখানে শালিস বানিজ্য ব্যস্ত। তার রয়েছে নিজস্ব গাড়ী ও পিয়েস। তার কারনে এলাকার লোকজন জিম্মি হয়ে জমিজমা নিয়ে বসবাস করছে। তার বিরুদ্ধে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা বারবার লিখিত অভিযোগ দিলেও আজো পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেনি। তার এ অপকর্ম  ও দূর্নীতি কতবার স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা তার ছবিসহ প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে , উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে তার এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।         
কুয়াকাটার খাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কটে ফলে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন অভিভাবক। পর্যটনগরী কুয়াকাটার খাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হলেও শিক্ষক সংখ্যার কোনো হেরফের হয়নি। যেখানে সঠিক পাঠদানে অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ই আটজন শিক্ষক প্রয়োজন। সেখানে অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীত করলেও চারজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে। অথচ ভালো পাঠদানে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষক দরকার ১০ জন।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুস ছালাম গাজী বলেন, ২০১২ সালে স্কুলটি অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীত হওয়ার পর থেকে শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাইনি। অথচ এমনো স্কুল রয়েছে যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে দশের অধিক শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষক সঙ্কটে থাকা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদেও অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও এ নিয়ে বিরক্ত। বারবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে ধরনা দিয়েও এ সমস্যার সমাধান হচ্ছেনা। তাই ক্ষুক্ক অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা প্রতিদিনের কার্যত্রম আর সময়মতো সিলেবাস সম্পন্ন শিক্ষা ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক মো.ছগির মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, শিক্ষক সঙ্কটের বিষয় একাধিকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাচ্ছি না। আমার স্কুলে বর্তমানে চারজন শিক্ষক আছেন। এই ক’জন শিক্ষক দিয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত্ সঠিকভাবে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, শিক্ষক সঙ্কটের বিষয়টি অবগত আছি। সহকারী শিক্ষক নেই সেগুলোতে শিগগির শুন্য পদে শিক্ষক দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে কিছু দিনের মধ্যে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নিয়ে মামলা চলমান। তারা সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক দাবী করছে। খাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কটের কথা বললে তিনি বলেন,  ওই স্কুলে আরো দুইজন শিক্ষক দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত  হয়েছে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft