বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯
আন্তর্জাতিক সংবাদ
কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের প্রস্তাব ভারতের মন্ত্রিসভায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
Published : Monday, 5 August, 2019 at 3:39 PM
কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের প্রস্তাব ভারতের মন্ত্রিসভায়ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের সাংবিধানিক রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এ ৩৭০ ধারাকে। এটি তুলে দিলে বিশেষ সুবিধা হারাবেন অঞ্চলটির বাসিন্দারা।
কাশ্মিরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ ঘোষণা দেন তিনি। সোমবার রাজ্যসভায় এ সংক্রান্ত বিলও উত্থাপন করেছেন অমিত শাহ। এর মাধ্যমে সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দিয়ে কাশ্মিরের সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করতে চাইছে ভারতের মোদি সরকার।
সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টে কাশ্মিরের সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার আগেই অঞ্চলটিতে ব্যাপক সামরিক সমাবেশ করে ভারত। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলে গত সপ্তাহে কাশ্মিরে আধা সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত ৩৫ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর এসব বাড়তি সদস্যদের রাজ্যের রাজধানী শ্রীনগর এবং কাশ্মির উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে এমনকি গ্রামাঞ্চলেও মোতায়েন করা হয়েছে।
ইতোমধ্যেই কাশ্মিরের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট। নিষিদ্ধ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ। রবিবার রাত থেকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে গৃহবন্দি করে রেখেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও নিজ বাড়িতে নজরদারির মধ্যে রয়েছেন সেখানকার আরেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ ও পিপলস কনফারেন্স পার্টির চেয়ারম্যান সাজাদ লোন। সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্পর্শকাতর এলাকায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রোববার মধ্যরাত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে শ্রীনগর জেলায়।
রোববার (৪ আগস্ট) কাশ্মিরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্পর্শকাতর এলাকায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানের সঙ্গে সহিংসতা বৃদ্ধি ও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বহু স্থানে বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ইন্টারনেট। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেখানকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ছাত্রাবাস খালি করে ফেলারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাশ্মির পুলিশের দাবি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিন রাজ্য সরকারের এক নির্দেশনায় বলা হয় যেকোনও ধরণের সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে। তবে কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে কারফিউ জারির কথা বলা হলেও তা জারি করা হয়নি বলে জানানো হয় ওই নির্দেশনায়। তবে রোববার মধ্যরাত থেকে শ্রীনগর জেলায় ১৪৪ ধারা কার্যকরের কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রবিবার দিনের বেলায় ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান ফারুক আবদুল্লাহর বাসভবনে বৈঠকে বসেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লাহসহ রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। ওই বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, কাশ্মিরের বিশেষ অধিকার (সংবিধানের ৩৫ এ ধারা ও ৩৭০ অনুচ্ছেদ) বাতিল করা হলে সরকারকে পরিণাম ভোগ করতে হবে।
ওই বিবৃতি প্রকাশের পর রোববার (৪ আগস্ট) রাত থেকে গৃহবন্দি করে রাখা হয় কাশ্মিরের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদদের। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রধান মেহবুবা মুফতি এক টুইট বার্তায় লেখেন, কী পরিহাস যে আমাদের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা শান্তির জন্য সংগ্রাম করেছে তাদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। বিশ্ব দেখছে যে কাশ্মিরের মানুষ ও তাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে রাখা হয়েছে। আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ লিখেছেন, যা কিছুই ঘটুক আপনাদের সবার সঙ্গে আমার দেখা হবে। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলে গত সপ্তাহে কাশ্মিরে আধা সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত ৩৫ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft