রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
এনায়েতপুর এলাকায় তুমুল হৈচৈ
সরকারি স্কুল ভবন নির্মাণে ঘাপলা ধরতে সরেজমিনে এলজিইডি
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Wednesday, 7 August, 2019 at 6:24 AM
সরকারি স্কুল ভবন নির্মাণে ঘাপলা ধরতে সরেজমিনে এলজিইডি যশোর সদর উপজেলার কিসমত এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ঘাপলার অভিযোগ সরেজমিন তদন্ত করে এলাবাবাসীর মধ্যে সন্তোষ ফিরিয়ে দিয়েছে এলজিইডি যশোর। ৬ আগস্ট সকাল  সাড়ে ১০ থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত স্থানীয়দের সাথে নিয়ে মাপযোক করে এলাকায় হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী।
ভবন নির্মাণ কাজের শেষের দিকে ওঠা অভযোগটি পুংখানুপুংখ তদন্তে এক ঝাঁক প্রকৌশলী মাটি খুঁড়ে ঢালাই ভেঙে, এমনকি দেয়াল ফুটো করে পরীক্ষা করে ঘাপলা ধরার চেষ্টা করেন। তবে শেষমেষ অভিযোগটি অসত্য প্রমাণিত হয়। সিডিউল মোতাবেক নির্মাণের সব অংশ ঠিক হয়েছে বলে উল্লেখ করে এলজিইডি জানিয়েছে, স্থানীয় কোনো স্বার্থান্বেসী মহলের ইন্ধনে বেনামে অভিযোগটি করা হয়েছে অসৎ উদ্দেশে।
সূত্র জানিয়েছে, বছরের পর বছর একটি পুরাতন ভবনে কোনো রকমে ক্লাস চলা কিসমত এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণে এবার টেন্ডার করে এলজিইডি যশোর। ৫৮ লাখ ৩২ হাজা ৬শ’ টাকার এই কাজটি পায় যশোরের এসএস ট্রেডার্স। ৫ কক্ষের এই ভবন নির্মাণ কাজটি প্রায়ই শেষের পথে। ভিম ছাদ ঢালাই সবই শেষ। বাকি শুধু স্যানিটারী, প্লাস্টার, রঙ ও দরজা জানালার কাজ। আর হঠাৎ এলজিইডিতে এলাকাবাসীর পক্ষে রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নির্মাণ কাজে ঘাপলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ভিমের রড ২০/ ১২ সাইজের দেয়ার কথা থাকলেও চিকন রড ব্যবহার করা হয়েছে।  ছাদ ও সাইড বেজ ঢালাই ৬ ইঞ্চির পরিবর্তে কম পুরু করা হয়েছে। একইসাথে বেজ ঢালাইয়ের গভীরতায় সরকারি স্কুল ভবন নির্মাণে ঘাপলা ধরতে সরেজমিনে এলজিইডি সিডিউলের ব্যত্যয় করা হয়েছে। এছাড়া খোয়া সিমেন্ট ও বালি মিশ্রণে অনুপাত না মেনে ঘাপলা করা হয়েছে। নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়েছে। আর এলাকায়ও এসব অভিযোগ ঘুরপাক খেতে থাকে। নানা প্রশ্নের জন্ম নেয় স্থানীয়দের মধ্যে। ওই সব প্রশ্ন গতকাল শেষ করেছে এলজিইডি। খোঁজ নিতে তড়িৎ ব্যবস্থা নেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ। তিনি ৬ আগস্ট যশোর সদর উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামসহ আরও ৩ প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে চলে যান নির্মাণ স্থলে। ফিতা, রড মাপ যন্ত্রপাতিসহ আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র সাথে নিয়ে তিনি সরেজমিন তদন্ত শুরু করেন। স্থানীয় লোকজন, কাশিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান সাগর, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আশরাফ উদ্দিন ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসএস টেডার্সের প্রতিনিধি আলী হোসেন নয়নকে সাথে নিয়ে কাজ শুরু করেন। ঘাপলার অভিযোগ তোলা প্রত্যেকটি অংশে মাপযোক করেন তিনি। জনসম্মুখে মাটি খুঁড়ে বেজ ঢালাইয়ের মাপ পরীক্ষা করেন। ছাদ ঢালাই পরীক্ষা করেন। সিডিউল ও ম্যাপ উপস্থাপন করে পরিচালনা করা তদন্তে নির্বাহী প্রকৌশলী নিশ্চিত হন, সবই সিডিউল মোতাবেক হয়েছে। এমনকি বেজ ঢালাইয়ের গভীরতা সিডিউলের চেয়ে আরও একটু বেশিই করা হয়েছে।  
নির্মাণ কাজে ঘাপলার অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ গ্রামের কাগজকে জানান, কোনো ঘাপলা পরিলক্ষিত হয়নি। মাপযোক সবই পাবলিকের সামনেই করা হয়েছে। বেনামে অভিযোগটি গিয়েছিল। রহুল আমিন নামে একজনের নাম এই দরখাস্তের নিচে দেয়া আছে। তবে এনায়েতপুর এলাকায় ওই নামের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বেনামে অভিযোগ হলেও তড়িৎ তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্ত অভিযোগ সব অসত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। কোনো স্বার্থান্বেসী মহল এই অভিযোগটি করতে পারে হীনস্বার্থে।
সদর উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, মাপযোকে কোনো ঘাপলা পরিলক্ষিত হয়নি। একটু আধটু সিডিউল ব্যত্যয় ঘটলে তা মিশ্রণে হতে পারে। বালি সিমেন্ট ও খোয়ার অনুপাত মানা না মানা নিয়ে অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু সেটা ঢালাই চলার সময় করলে ঘাপলা ধরার সুযোগ থাকে। কাজ শেষ, এখন এই অভিযোগ করার বিষয়টি  মহৎ নয়। যেহেতু মাপযোকে অন্যসব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, কাজেই মিশ্রণও সঠিক ছিল বলে ধরে নেয়া যায়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান সাগর জানান, এলাকার স্কুলের ভবন নির্মাণে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে দেখে ভাল লাগলো। আর মাপজোক তার সামনেই হয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশরাফ উদ্দিন জানান, ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো অভিযোগ নেই নির্মাণ কাজ নিয়ে। তিনি ৩ মাস আগে বদলি হয়ে এসেছেন। নির্মাণ নিয়ে বিস্তারিত তথ্যও নেই তার কাছে। অভিযোগ কে করেছে তাকেও তিনি চেনেন না।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এসএস টেডার্সের পক্ষে আলী হোসেন নয়ন জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি চক্র নির্মাণ চলার সময় তার কাছে অনৈতিক সুবিধা দাবি করে আসছিল। পাত্তা না পেয়ে নাখোশ হয় তারা। ঠিকাদার ও এলজিইডিকে হয়রানী করতেই অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগ করতে পারলো, অথচ আজ তদন্তের সময় তারা পালিয়ে আছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft