সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯
শিক্ষা বার্তা
স্কুল পরিদর্শনে যান না শিক্ষা কর্মকর্তারা
কলাপাড়ায় শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক সঙ্কট প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাহত
এইচ,এম,হুমায়ুন কবির, করাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Wednesday, 7 August, 2019 at 6:32 PM
কলাপাড়ায় শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক সঙ্কট প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাহত পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকের পদগুলো দীর্ঘ দিন ধরে শুণ্য রয়েছে। ফলে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তদারকি না থাকায় সরকারের অগ্রাধিকার ভিক্তিক প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানাগেছে, উপজেলায় দু’টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৭৩টি এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫টি। বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থী রয়েছে ২২হাজার। এই বিদ্যালয়গুলো তদারকি জন্য একজন শিক্ষা কর্মকর্তা ও পাঁচজন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা পদ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে রয়েছে তিন জন সহকারি শিক্ষাকর্মকর্তা। তার মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি দুইজন ৮৮টি বিদ্যালয় পরিদর্শনের কাজ করছেন। দুইজন সহকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনসহ তদারক চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শুধু তাই নয় আবার ৮৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৭টি প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ১২২টি সহকারি শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এ যেন মড়ার উপড় খাঁড়ায় ঘা। আর এ সুযোগে উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকÑশিক্ষিকা নিয়মিত বিদ্যালয়ের পাঠদানে হাজিরা হচ্ছেনা। সময়মতো অনেক শিক্ষক হাজিরা হচ্ছেনা। আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেয়া হচ্ছে। অনেক শিক্ষক Ñশিক্ষিকা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে পারিবারিক ও রাজনৈতিক কাজে সময পার করছেন। প্রতিদিনই কিছু শিক্ষক বিদ্যালয় চলাকালিন উপজেলা শিক্ষা অফিসে আনাগোনা ব্যস্ত থাকেন। আবার কেউ কেউ জমি দালালি.সার্ভেয়ারি নিয়ে ব্যস্ত। এরই বাস্তব উদাহরন- উপজেলা ধুলাসার ইউনিয়নে নয়াকাটা গ্রামের বেীলতলী সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন গাজী ভুমিদস্যু প্রায় দিনই স্কুলে অনুপস্থিত থেকে জমি দালালি ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়, শালিস বানিজ্য ব্যস্ত থাকে। ওই শিক্ষকের কাছে যে কোনো ভুমি অফিসের কর্মকর্তাও সিল,স্বাক্ষর, সইমোহর, পর্চা পাওয়া যায়। এমন কি পাকিস্তানি আমলের দলিলসহ যেকোনো সালের জাল দলিল তৈরি করে দিতে পারেন তিনি। তিনি জাল দলিল তৈরি করে যাদের জমি নেই তাদেরকে লোনের ব্যবস্থা করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে এজন্য তার বিরুদ্ধে মহিপুর কৃষি ব্যাংক বাদী হয়ে ২১.১২.২০১০ইং মামলা করে ও তার বিরুদ্ধে ৬.৩.২০১৫ সালে দুদক মামলা হয়েছে এবং মো.আজাদ হোসেনের জমি জরিফের মাধ্যমে নিজের নামে রেকট করে নেয় হারুন গাজী এ জন্য আজাদ হোসেন ২৫.১২.২০১৯ সালে মামলা করেন। ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নে পেয়ারপুর গ্রামে তোহা মিয়ার জমিতে সাইন বোড টানিয়ে দেয় ভুমি দস্যু হারুন গাজী। দোহার আরো ৪০ বছর পুর্বে এ জমি কেনা। দোহা তার বিরুদ্ধে ২৮.৭.২০১৯ মামলা করেন। তিনি বেশির ভাগ সময় কলাপাড়াÑমহিপুর ভুমি অফিসে কাটান। তিনি শুক্্র ও শনিবার ব্যতিত কলাপাড়ায় দুপুর ১ থেকে ১.৩০ টার মধ্যে তার দালালি কাজের জন্য চলে আসেন। তিনি নি¤œ পরিবারের লোক হয়ে এখন সে কোটি কোটি টাকা ও জমির মালিক। ধুলাসার ইউনিয়নে যেখানে জমি নিয়ে সমস্যা সেখানে শালিস বানিজ্য ব্যস্ত। তার রয়েছে নিজস্ব গাড়ী ও পিয়েস। তার কারনে এলাকার লোকজন জিম্মি হয়ে জমিজমা নিয়ে বসবাস করছে। তার বিরুদ্ধে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা বারবার লিখিত অভিযোগ দিলেও আজো পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেনি। তার এ অপকর্ম  ও দূর্নীতি কতবার স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা তার ছবিসহ প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে , উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে তার এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।               
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সুত্রে জানায়, প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের বিদ্যালগুলোর তদারকির অভাবে তৈরি হচ্ছে নানা অনিয়ম। এখনই তদারকি না বাড়লে সরকারের অতি গুরুত্বপুর্ন প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
এছাড়াও ১০টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো খুবই জরাজীর্ণ। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ,সহকারি শিক্ষাকর্মকর্তা ,প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকসহ মোট ১৫২টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শুন্য রয়েছে অনেক দিন যাবৎ। ফলে কোনো মতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে পটুয়াখালীর অতি গুরুত্বপুর্ন এলাকায় কলাপাড়া প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্্রম ।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ,সহকারি শিক্ষাকর্মকর্তা ,প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক পদ শুন্য রয়েছে তা উবর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাটানো হয়েছে। সহকারী শিক্ষক নেই সেগুলোতে শিগগির শুন্য পদে শিক্ষক দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে কিছু দিনের মধ্যে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নিয়ে মামলা চলমান। তারা সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক দাবী করছে।  



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft