শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
রাজশাহীতে এডিস মশার ব্যাপক লর্ভা
রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Wednesday, 7 August, 2019 at 4:44 PM
রাজশাহীতে এডিস মশার ব্যাপক লর্ভারাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবন ও ছাত্রীনিবাসের সামনেই মিলেছে এডিস মশার লার্ভা। ইহাছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পাত্রে, দোকানের ব্যাটারির সেল ও টায়ারে এবং রাস্তার ধারে পাইপে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে, নারকেলের মালায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি মিলেছে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি দেখা গেছে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য নিজে উদ্যোগে কীটতত্ববিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে গত পাঁচদিন ধরে মাঠ পর্যায় থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক-স্বাস্থ্যর কার্যালয় থেকে গঠিত কীটতত্ববিদদের তিন সদস্যের একটি কমিটি গত পাঁচ দিন ধরে রাজশাহীতে এডিস মশার উপস্থিতি নিয়ে মাঠে কাজ করেছেন। তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশে পাশেসহ নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তারা এসব নমুনা থেকে এডিস মশার লার্ভার ব্যাপক উপস্থিতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই কমিটির প্রধান হচ্ছেন সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে জেলা কীটতত্ববিদ তায়েজুল ইসলাম। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের কীটতত্বীয় কারিগর (টেকনিশিয়ান) আব্দুল বারী ও রাজশাহী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের কীটতত্বীয় কারিগর উম্মে হাবিবা।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক-স্বাস্থ্য গোপেন্দ্রনাথ আচার্য বলেন, রাজশাহীতে এডিস মশার উপস্থিতি আছে কি না, এ ব্যাপারে তার কাছে কী তথ্য আছে, সরকার জানতে চাইলে তিনি যাতে এডিস মশার ঘনত্ব, প্রজনন ক্ষেত্র ও বিস্তার সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য দিতে পারেন এ জন্য তিনি গত ১ আগস্ট তিনজন কীটতত্ববিদকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন।
এই কমিটি গত ২ আগস্ট থেকে কাজ শুরু করেন। পাঁচ দিনে তারা নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের সন্দেহজনক জায়গাগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফালগুনী ছাত্রীনিবাসের সামনে আইসক্রিমের বক্সে জমে থাকা পানিতে ও অধ্যক্ষের বাসভবনের সামনে নারকেলের মালায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে তারা এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি মিলেছে। একইভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে পড়ে থাকা ভাঙা বেসিন ও ওয়ার্ডের পাঁচটি জায়গায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
এই দল নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে নগরের উপশহর এলাকার রংধনু টাওয়ারের পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের ড্রামে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে, একই এলাকার ২২৪ নম্বর বাড়িতের পরিত্যক্ত পাত্রে, তিন নম্বর সেক্টোরের ১৬৪ নম্বর বাড়ির ফুলের টবে, পরিত্যক্ত কর্কশীটে ও ২০১ নম্বর বাড়ির ফুলের টবে, ব্যাটারির সেলে জমে থাকা পানিতে এই লার্ভার উপস্থিতি মিলেছে।
এছাড়া নগরীর শিরোইল এলাকা থেকে ভদ্রা পর্যন্ত রাস্তার পাশে হাঁটু সমান উুঁচ করে যেসব পাইপ পুঁতে রাখা হয়েছে, তার ভেতরে জমে থাকা পানিতেও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।
নগরীর শিরোইল এলাকার ব্যবসায়ী সেলিমের টায়ারের দোকানের টায়ারে নাসির হোসেনের দোকানের ব্যাটারির সেলে জমে থাকা পানি ও শুকুর আলী নার্সারির মাটির পাত্রে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতেও তৈরি হয়েছে এডিস মশার লার্ভা।
নগরীর সিপাইপাড়া এলাকার মারুফের বাড়ির সামনের নারকেলের মালায়, একই এলাকার আরেকটি বাড়িতে ফুলের টবে, চার নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুরের মাসুদ রানার বাড়ির প্লাস্টিকের পাত্রে, সেলিনা বেগমের বাড়ি ফুলের টবে ও মিলনের বাড়ির টায়ারে ও মাটির পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবনের সামনে থেকে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অধ্যক্ষ নওশাদ আলী বলেন, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবনটি গত আট দশ বছর ধরে পরিত্যাক্ত রয়েছে। ওই বাসায় তিনি থাকেন না।
রাজশাহী মহানগর এলাকায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া ব্যাপারে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, বাংলাদেশে যখন এডিস মশা আছে তখন রাজশাহীতেও থাকতে পারে। তবে সেই মশাটি ডেঙ্গু আক্রান্ত কি না অর্থাৎ মশাটি ডেঙ্গুর জীবনু বহন করছে কি না সেটাই কথা। তবে আক্রান্ত হলে তা পরীক্ষার ব্যবস্থা এখানে নেই। সেই জন্য তাদের উচিত মাঠপর্যায়ের তথ্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মেয়রকে হস্তান্তর করা। তাহলে মেয়র ওই মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করার উদ্যোগ নিতে পারেন। বাড়িতে হলে তাদেরও সতর্ক করতে পারেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft