শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯
জাতীয়
পদ্মা-গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পে ভারতের আপত্তি নেই
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 8 August, 2019 at 8:48 PM
পদ্মা-গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পে ভারতের আপত্তি নেইবাংলাদেশের পদ্মা-গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পে ভারতের আপত্তি নেই। বরং যৌথ সমীক্ষা করতে দুই দেশের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানানো হয়। ৮ বছর পর ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার ও ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে এমন একটি কমিটি হয়েছিল, তা বাতিল করে নতুন কমিটি করা হয়েছে।
ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং বলেন, বাংলাদেশের পদ্মা-গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে ভারতের কোনো সমস্যা নেই। তবে দুই দেশই এ প্রকল্প থেকে কীভাবে লাভবান হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি কমিটি হবে যেখানে দুই দেশের ২ জন করে চারজন থাকবেন। তারা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট দেবেন।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে ঢাকার ছয়টি প্রস্তাব নিয়ে ও ভারতের ৪টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো হলো—গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে যৌথভাবে সমীক্ষা ও বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে ভারতীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা; অন্যান্য অভিন্ন নদী যেমন— মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বণ্টন চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন; আপারা সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পের ইনটেক চ্যানেলের (রহিমপুর খাল) অবশিষ্ট অংশের খনন কাজ বাস্তবায়ন; বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা সসম্প্রসারণ; বাংলাদেশের আখাউড়ায় সিঅ্যান্ডবি খাল ও জাজি নদীতে দূষণ; এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর অববাহিকাভিত্তিক পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা।
ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আরও বলেন, অনেকদিন পর এ বৈঠক হচ্ছে, তা আশার কথা। দুই দেশের রাজনৈতিক বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে এটি দেরি হয়ে এখন যাত্রা শুরু হলো। পানি এখন বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এ উপমহাদেশে বিশ্বের মাত্র ৪ শতাংশ পানি আছে কিন্তু মানুষ আছে ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে জলবায়ু বদলে গেছে। বৃষ্টিপাত কমেনি। কিন্তু মাত্র ২-৩ মাসে সব বৃষ্টি হচ্ছে। তাই পানি ব্যবস্থাপনা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। ভারত জলশক্তি অভিযান ক্যাম্পেইন শুরু করেছে।
উপেন্দ্র প্রসাদ সিং বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোনো বড় পানি সমস্যা নেই। ৫৪টি নদীর কথা বলা হলেও, ফেনি নদী গুরুত্বপূর্ণ। এ নদীর ডাটা কালেকশন সঠিকভাবে হচ্ছে না। গঙ্গা-পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে ভারতের আপত্তি নেই। তবে এখানে কীভাবে দুই দেশ লাভবান হবে সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং বলেন, নয়া দিল্লির প্রস্তাব হচ্ছে— মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা বা জলঢাকা এবং দুধকুমার বা তরসা ছয়টি আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টন; পশ্চিম বাংলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই, পুনর্ভবা ও টাংগন নদীতে শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়া; বাংলাদেশের চিনিকল থেকে নির্গত তরল বর্জ্য দ্বারা পশ্চিম বাংলার মাথাভাঙ্গা-চূর্ণী নদী দূষণ; এবং ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি উত্তোলনের মাধ্যমে ত্রিপুরার সাবরুম শহরে ‘ড্রিংকিং ওয়াটার সাপ্লাই স্কি’ বাস্তবায়ন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft