বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯
আন্তর্জাতিক সংবাদ
মোদীর ভারতে হিন্দু তালিবান
কাশ্মীর হবে ফিলিস্তিন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
Published : Friday, 9 August, 2019 at 6:37 PM
মোদীর ভারতে হিন্দু তালিবানভারতে মুসলিম বিদ্বেষ ও ডানপন্থী হিন্দু রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির আচমকা আসেনি, ইতিহাসেই রয়েছে উপমহাদেশে জাতিগত দাঙ্গার বিশাল তালিকা। যার বৃদ্ধি আজও ঘটে চলেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উপমহাদেশের মানুষের রক্তে জাতিগত হিংসা গেঁথে আছে। ১৯৪০-এর দশকে আরএসএসের তৎকালীন প্রধান এম গোলওয়ালকার ভারতের মুসলিমদের সঙ্গে ইহুদীদের তুলনা করেছিলেন। ইহুদিদের সঙ্গে হিটলারের নাৎসিরা যে বর্নবাদী আচরণ করেছিলেন, ভারতীয় মুসলিমদের সঙ্গেও আরএসএস তেমন কিছু করতে চেয়েছিল। আরএসএস তখন না পারলেও সেই দায়িত্ব এখন খুব ভালভাবে বাস্তবায়ন করছে মোদী-অমিতের বিজেপি।  
যতই নিজেদের বহুত্ববাদী, বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ বলে ভারতীয়রা চিৎকার করুক না কেন, কিছুই বদলাবে না, ক্রমে ভারতের হিন্দুত্ববাদ সামনে আসবে, যেমন মোদী নিয়ে এসেছে বিজেপির ঘাড়ে চাপিয়ে। মুসলমানদের প্রতি বিজেপির ঘৃণা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত, শতাব্দী প্রাচীন তার আধা-সামরিক অভিভাবক সংস্থা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) উত্তরাধিকার বিজেপি। যে সংগঠনটি ভারতকে একটা ডানপন্থী হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র নির্মাণে স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই নিজেদের দাবি জানান দিয়ে আসছে।
হিন্দু ধর্মের দেবতা বিষ্ণুর বেশ কয়েকটি অবতার রয়েছে, তাদের মধ্যে অধিকাংশই মানব রূপ। তবে, সর্বশেষ নরেন্দ্র মোদীর রূপে হাজির হলেন বিষ্ণু। পুরো ভারতবর্ষে তার ছবি রয়েছে, সৌভাগ্যের সদর্থক অঙ্গভঙ্গিতে ডান হাত উত্থাপিত ছবি ঝুলছে ঘর, অফিস, আদালত, রাস্তা সর্বত্র। তবে এই শক্তিশালী কিন্তু আলোকিত মূর্তির পেছনে এক ভিন্ন চরিত্রের চিত্রকে আড়াল করে রাখা আছে। ভারতকে এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে মোদীর সেনাপতি হিসেবে তাই দায়িত্ব পালন করছে অমিত শাহ।
এবারের, লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভের পরে শিবসেনা সংযুক্ত বিজেপি হয়েছে শক্তিশালী, নিম্নকক্ষে বিজেপির নেই কোন শক্ত প্রতিপক্ষ, যার ফলে কাশ্মীরে এমন ভয়াবহ পদক্ষেপ নিতে মোদীকে তেমন কোন প্রতিবন্ধকতার সম্মুক্ষীন হতে হয়নি। বিষ্ণুর অবতারের আড়ালে মোদীর তালিবান রূপটা তাই এখন কথা বলতে শুরু করেছে, কাশ্মীরের স্বাতন্ত্র্য ছিনিয়ে সেখানে হিন্দুদের প্রবেশকে করেছে সহজ।
মোদী-নেতৃত্বাধীন ভারতে ক্রমবর্ধমান হিন্দু আধিপত্যের ভয়াবহ ও সঙ্কীর্ণ বাস্তবতাকে যত কৌশলেই আড়ালের চেষ্টা করা হোক না কেন, এক হিন্দু তালিবানের শাসনাধীন ভারত তার বহুত্ববাদের বলি কাশ্মীরের আর্তনাদকে আটকাতে পারবে না। ১৯৮৯ সাল থেকে কাশ্মীরে জঙ্গিবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে, মোদী ক্ষমতায় আসার পরে কাশ্মীরের নিরাপত্তার নামে বিনাবিচারে হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। থেমে থাকেনি কাশ্মীরিরাও, নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে চোরাগোপ্তা হামলা, আত্মঘাতী হামলয় মোদী সেনাদের হতাহতের সংখ্যাটাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।  
মোদি নেতৃত্বাধীন হিন্দু ডানপন্থীরা হিন্দুত্ববাদী ভারতবর্ষ তৈরির কাঙ্খিত লালসার কাছাকাছি যেতে দেশব্যাপী ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি করে আসছে, যা মূলত ভারতকে একচেটিয়াভাবে হিন্দুদের রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করবে। ২০০২ সালে মোদী যখন পশ্চিমের রাজ্য গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন এক অভিযানে সহস্রাধিক মুসলিমকে হত্যা করেছিল হিন্দুত্ববাদীরা, শরণার্থীতে পরিণত করেছিল অনেক মুসলিমদের।
সেই মোদী ২০১৪ সালেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়, এবং ২০১৯ এ দ্বিতীয়বারের মতো আরও ব্যাপক আকারের জয় নিয়ে। দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণের পরে মোদীর ডানপন্থী হিন্দু ভোটাররা পুরো দেশ জুড়ে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, গণপিটুনি, জেল-জরিমানা বৃদ্ধি পায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে। লোকসভার পরে জয় শ্রীরাম স্লোগানকে কেন্দ্র করে ভারতের মুসলিমদের ওপর যে অমানবিক নির্যাতন শুরু হয়েছে, তা ভারতকে শুধুমাত্র উগ্র হিন্দুদের রাষ্ট্র হিসেবেই তুলে ধরছে। নাটকীয়ভাবে হলেও রাম কিন্তু বিষ্ণুর ই একটি অবতার ছিল।
মুসলিম বিদ্বেষ যে ভারতে খুব কার্যকরী তা ২০০২ সালেই মোদী পরখ করে নিয়েছিলেন, আর সেই মনোভাবকে অনুপ্রেরণা বানিয়ে ২০১৯ সালে বিপুল ব্যবধানে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসেন। মোদী যে শুধু উগ্র হিন্দু ডানপন্থী ভক্তদের সমর্থণে ক্ষমতায় এসেছেন, তা নয়, দেশটির উদারপন্থী এবং পশ্চিমাপন্থীরাও মোদীকে এক উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে যাবতীয় সমর্থণ করে যাচ্ছেন।
উদারপন্থী ও পশ্চিমা ভক্তরা মোদীর হিংসাত্মক, ভৌতিক ও স্বৈরাচারী ব্যক্তিত্বকে সুশাসনের বিরুদ্ধে ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে করেন। ভারতকে একটি উদার পুঁজিবাদী রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সূচনা করবেন মোদী। তারা বিশেষত ক্রনিক পুঁজিবাদকেই পছন্দ করছে যা ভারতের অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং সামাজিক সংকটকে গভীরতর করে তুলেছে। ঠিক যেমনটা হচ্ছে আফগানিস্তানে।
ভারতে সামাজিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা (৫০ কোটিরও বেশি লোক) উদারতা এবং আঞ্চলিক পার্থক্যের গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মোদীর গেরুয়া পোশাকে উগ্র হিন্দু শিবসেনা-আরএসএস কর্মীরা গো-মাংস খাওয়া, বর্ণ বিধি অমান্যকারী বা 'হিন্দু জাতীয়তাবাদ' এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতার নামে মুসলিমদের ওপর চালাচ্ছে নির্যাতন। এই গেরুয়ারা মোদীর বেসামরিক সেনাবাহিনী, যারা ভারতের রূপান্তরে বিজেপির হাতিয়ার।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি ভারত, বিশ্ব বাজারে যারা এখন চীনকে টেক্কা দিচ্ছে, অর্থনৈতিক দিক থেকেও প্রধান ৫টি দেশের মধ্যে প্রবেশ ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারত এক স্বর্গরাজ্য। মোদী যে এই স্বর্গরাজ্য তৈরি করেছে, তা নয়, বৈশ্বিক শিল্প বিপ্লবের জোয়ার ভারতও এগিয়ে গিয়েছে। মোদী সেই পথটাকে মসৃণ করতে এক উদার অর্থনৈতিক নীতিমালা কার্যকর করেছে। বিশ্ব এখন ডানপন্থীদের, মোদী ক্ষমতায় আসায় সেই জোয়ারে ভারত ও খুব ভালভাবে মিশে গেছে, ফলে এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নতি সাধিত হচ্ছে ভারতে।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর অর্থনৈতিক উন্নতি জড়িত, ভারতের ক্ষেত্রে একটু ঘুরিয়ে চিন্তা করলে মোদীর সাফল্যের বিষয়টা স্পষ্ট হবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ফলে মোদী ক্ষমতায় টিকে থাকাটা স্থায়ী করেছে। বর্তমান বিশ্বে প্রায় ১৩০ কোটি মানুষের বাজারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ই স্বাভাবিক। মোদী শুধু সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতীয়দের দৃশ্যমান অভাবকে ঘুচিয়ে দিচ্ছে। আর তার বিরুদ্ধে তাদের রক্তে শিথিল থাকা জাতিবিদ্বেষকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছে।
মোদী ক্ষমতায় আসার পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করেছে তা হলো, হিন্দু ভারতীয়দের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা জাতীয়তাবাদকে বের করে আনা। গো-রক্ষা, অযোধ্যা, জয়-শ্রীরামের আদলে তিনি এই কাজটি সেরেছেন। এখানে তিনি যে সফল তার সবটুকু সন্দেহ কাশ্মীরের মাধ্যমে ঘুচিয়ে দিলেন।  
বিশ্বের সবচেয়ে রক্তাক্ত, একঘেয়ে এবং বিতর্কিত স্থানের নাম কাশ্মীর। সেই কাশ্মীরের সংস্কারের নামে স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়ার পেছনে মোদীর আসল উদ্দেশ্য কি শুধুমাত্র 'পুনর্গঠন'? নিশ্চয়ই না, ইতিহাস পাল্টে দেয়া এক পদক্ষেপের পেছনে মোদীর ধর্মীয় উদ্দেশ্যই মুখ্য।
দেশটির একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যটির বিশেষ অধিকার, যে অধিকার মোদীর পূর্বসুরীর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে কাশ্মীরিদের দেয়া হয়েছিল তা কেড়ে নেয়ার পেছনে হিন্দুত্ববাদের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর ভারতের একমাত্র রাজ্য যেখানে অধিকাংশ মুসলিম, এবং আজাদ কাশ্মীরের শতভাগ মুসলিম। কাশ্মীর ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা লগ্ন থেকেই দু-দেশের মধ্যে বিবাদমান।
দেশ বিভাগের আগে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলটির হিন্দু রাজা হরি সিং ৩৭০ অনুচ্ছেদের শর্তে কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। যার ফলে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রটিতে একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যটি পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উত্তপ্ত স্থান হিসেবে। এই উত্তাপে পারমাণবিক শক্তিধর দেশদুটি একাধিকবার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল, আর সর্বদা যুদ্ধের পরিস্থিতি বজায় রেখে চলেছে।
পাহাড় ঘেরা হিমালয় অঞ্চলটির এই উত্তেজনা প্রশমনে ভারতের একাধিক সরকার সংগ্রাম করে গিয়েছে। কিন্তু, মোদীর হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের আচমকা একপাক্ষিক এই পদক্ষেপ বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। অনেক সমালোচোক একে ভয়াবহ অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বলেছে। মোদী ভারতবর্ষে তার শাসনামলের ছাপ রাখতে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রটিকে আরও কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদী ও স্বৈরাচারি রাষ্ট্রে পরিণত করতে এই অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কলামিস্ট প্রতাপ ভানু মেহতার উদ্দৃতি দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, 'প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এমন অনেক সময় আসে যখন এটি নিজেকে ছোট করে জ্যাকবুটের সাইজে (সামরিক বুট) নিয়ে এসে। বেশিও না আবার কমও না। আমরা কাশ্মীরে ঠিক সেই মুহূর্তটিই প্রত্যক্ষ করছি। এটি একটি সংবিধানিক বন্দোবস্তের নতুন কোন ভোর নয়, এটি নিখরচায় আনুগত্যের জন্য তৈরি করা এক পরিকল্পনা। এটি সরল, সাধারণ এক দমনমূলক পরিকল্পনা।'
কাশ্মীরের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে এবং প্রায় সমস্ত ফোন লাইনও বন্ধ করে ভারত তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মোদীর বিরুদ্ধে কটূক্তি করে বলেছিলেন, 'তিনি এমন একটি মতাদর্শের প্রচার করেছিলেন যা হিন্দুদেরকে অন্য সকল ধর্মের চেয়ে উচ্চতর করে তোলে এবং এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় যা অন্য সমস্ত ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে দমন করে'।
জনাব মোদীর এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল উদযাপন করেছিল, বিশেষত হিন্দু জাতীয়তাবাদী দক্ষিণপন্থী লোকেরা এটি উদযাপন করেছিল। অন্যদিকে কাশ্মীরিরা ৫ দিন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থেকে আজকে জুমার নামাজের ফলে কিছু নিষেধাজ্ঞায় শিথলতা লাভ করে, সামনে ঈদ। স্বাতন্ত্র হারানো জাতির কাছে ঈদের অর্থ কী হবে, তা এই মুহূর্তে ধারণাতীত।
ভারতের একমাত্র মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলটির স্বাতন্ত্র কেড়ে নেয়ার নীল নকশা একদিনে বাস্তবায়ন করেনি মোদী। অত্যন্ত পরিকল্পনামাফিক অস্থির অঞ্চলটিকে তিনি নিরাপত্তার চাঁদরে পুরোটা ঢেকে ফেলেছেন অমরনাথ যাত্রার অজুহাতে। আর সে ফাঁকেই আসলো ৩৭০ বাতিলের ঘোষণা। স্তম্ভিত কাশ্মীরিরা ততক্ষণে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, কার্যকর কারফিউ, বন্দি রাজনৈতিক নেতারা। এ যেন এক আফগানিস্তান।
বিংশ শতকের শেষদিকে তালিবানরা আফগানিস্তানে যে শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, ভারতেও মোদী ঠিক সেটাই করছে। মুসলিমদের ওপর হামলার অনুপাত তালিবানদের থেকে কম হলেও একটা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের জন্য যা অস্বাভাবিক। তালিবানেরা যে ভুল করেছে, বিজেপি তা করবে না, স্থানীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মোদীসেনারা খুব দক্ষতার সঙ্গে হিন্দুত্ববাদকে আড়াল করে উদ্দেশ্য হাসিল করে নিচ্ছে।
কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে কাশ্মীরে মুসলিমদের ওপর যে পরাধীনতা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তা ফিলিস্তিন, কিরঘিজ, উইঘুর, রোহিঙ্গা, কাতালোনিয়, পশতু, কুরদিশদের থেকে আলাদা না। কাশ্মীরিরা এই স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয়ার বিরুদ্ধে যে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরাও শঙ্কিত। যে কাশ্মীরিরা তাদের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের জন্য বিশ্বের কাছে উপত্যকাটিকে সবচেয়ে রক্তাক্ত স্থান হিসেবে পরিচিত করেছে, তাদের সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনকে এভাবে কেড়ে নেয়ার পরে যে এক বিশাল বিষ্ফোরণ ঘটতে যাচ্ছে তা খুব সাধারণ অনুমান।
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানে এক ভারতীয় কলামিস্ট ২০১৫ সালেই বলে দিয়েছিলেন যে, 'ভারত এক হিন্দু তালিবান দ্বারা শাসিত হচ্ছে'। ২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই কাশ্মীরের থেমে যাওয়া সহিংসতা বাড়িয়ে তোলা, দেশজুড়ে গো-রক্ষার নামে মুসলিমদের ধরে ধরে পিটানোর হার বাড়ানো এবং ভারতের মুক্তিবাদী, বহুত্ববাদী বুদ্ধিজীবীদের দমনপীড়ন বৃদ্ধির শুরুটা হয়েছিল। তখনই ভারতকে তালিবান শাসনের দেশ বলা হয়েছে।
এখন... মোদীর ভারতকে প্রো-ইজরায়েল বললেও ভুল হবে কী? একদম না, ফিলিস্তিনের মতো কাশ্মীরকে এখন হিন্দু দখলদারদের কাছে চলে যাবে, অন্যান্য রাজ্যের হিন্দু ভারতীয়রা বিকাশের নামে সেখানে গড়ে তুলবে হিন্দুত্ববাদী সাম্রাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী এক কাশ্মীরি তাই নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকের কাছে প্রশ্ন করেন, 'তারা (ভারত সরকার) কাশ্মীরের মানুষের ওপর জয়লাভ করবে, কাশ্মীরকে আরেক ওয়েস্ট ব্যাংক বানাবে?'




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft