শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
জলাবদ্ধতায় নাকাল সিটি কলেজ পাড়ার মানুষ
মিনা বিশ্বাস :
Published : Saturday, 10 August, 2019 at 6:05 AM
জলাবদ্ধতায় নাকাল সিটি কলেজ পাড়ার মানুষপথের কোথাও উঁচু, কোথাও নীচু। একটু বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এ পথেই বছরের পর বছর ধরে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল। এলাকাবাসী ও সংলগ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারো কারো মতে বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গৃহিত না হওয়ায় এ অচলাবস্থা চলে আসছে ৩০ থেকে ৩৫ বছর। রাস্তাটি যশোর সরকারি সিটি কলেজের প্রবেশ পথ থেকে শুরু হয়ে চলে গেছে সিটি কলেজ পাড়ার বিভিন্ন গলিতে। বর্ষায় এ পথ পাড়ি দেয়া যেন এলাকার মানুষের কাছে এক চরম অভিজ্ঞতা!   
আবাসিক এলাকা, শিক্ষার্থীদের মেস ও শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব মিলে যশোর শহরের সিটি কলেজ পাড়া এক ব্যস্ততম এলাকা। প্রতিদিন অফিস, ব্যবসা, লেখাপড়ার জন্যে শহরে যাতায়াত, প্রার্থণার জন্যে কলেজসংলগ্ন মসজিদে চলাচল, কেনাকাটাসহ নানা প্রয়োজনে বাইরে বের হন এখানকার হাজারো মানুষ। মহল্লার ভেতরে ছোট ছোট গলি থাকলেও শহরে যেতে তাদের পথ একটিই সরকারি সিটি কলেজের সামনের রাস্তা। কলেজের গেট থেকে রাস্তাটি চলে গেছে সিটি কলেজ পাড়ার আবাসিক এলাকার অলি-গলিতে।
এলাকাবাসী ও কলেজ কর্তৃপক্ষের মতে পানি নিষ্কাশনে পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে বছরের পর বছর ধরে এ রাস্তার পানি সিটি কলেজ ও মহল্লার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে ইটের তৈরি এ রাস্তাটির বিভিন্ন স্থান উঁচু-নীচু হয়ে পড়েছে, দেখা দিয়েছে ফাটল। বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাই এ পথে চলাচল পথচারীদের জন্যে দুঃস্বপ্নর মতো হয়ে উঠেছে। এ অচলাবস্থা না কাটায় কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী অসহায় হয়ে পড়েছেন।
এলাকাবাসী আরো জানান, বছরের অন্য সময়ে এ পথে চলাচলে সমস্যা না হলেও বর্ষায় এ পথ পাড়ি দেয়া কঠিন। এলাকাবাসী, কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সবাই এর একটি সমাধান চান। অন্যদিকে, এ অবস্থা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পেতে তাই অনেকটা ক্ষোভের বশেই সিটি কলেজ পাড়ার ২০টি পরিবার পাড়ার মন্দিরসংলগ্ন আড়াইশো ফুট দৈর্ঘ্যরে গলি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এলাকার অমল কৃষ্ণ সাহা ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘নিজেদের টাকায় রাস্তা বানাচ্ছি। রাস্তা উঁচু করার কাজ চলছে। নিজেদের টাকায় আর কতটুকু করা যায়। শুধু মন্দিরের পাশের এ রাস্তা একটু উঁচু করার চেষ্টা করছি। এ পথ এত নীচু যে একটু বৃষ্টিতে পানি উঠে যায়। সেই পানি যেতে সময় লাগে। পুরো বর্ষার এ সময়ে মন্দিরের এ রাস্তা, পাড়ার অন্যান্য গলি থেকে শুরু করে কলেজের গেট পর্যন্ত আমরা প্রতিদিন জুতা হাতে খালি পায়ে ভাঙাচোরা এ পথ পাড়ি দিই’।
এলাকাবাসী তারক ঘোষ বলেন, ‘কী আর করবো, পৌর কর্তৃপক্ষতো আমাদের পানিতে ডুবিয়ে রেখেছে। ইচ্ছা করলে তারা ড্রেন সংস্কার করতে পারে, তাতে পুরো পাড়ার জলাবদ্ধতা দূর হয়ে যায়। আমাদের এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু তা করে না’।
সিটি কলেজ পাড়ার মুদি দোকানি শফিকুল ইসলাম হীরা বলেন, ‘আমি এ এলাকার পুরনো বাসিন্দা। বছরের পর বছর ধরে আমরা এ এলাকার মানুষ বর্ষার সময়ে চরম অসুবিধায় থাকি। সহ্য করতে না পেরে এলাকার ২০টি পরিবার মিলে মন্দিরের সামনের গলি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে হয়তো সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ ড্রেন সংস্কার না হলে রাস্তার আবদ্ধ পানি কলেজে আর কলেজের পানি মহল্লায় আসতে থাকবে। আমরা আর কতকাল অপেক্ষা করবো’।
এ বিষয়ে যশোর সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আনওয়ার হোসেন বলেন, ‘ড্রেন সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়। তাই পৌর কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত ব্যবস্থা নেবে তত তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হবে। আর কলা ভবন ও কলেজ সংলগ্ন রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে আমরা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে’।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জোবাইদা গুলশান আরা বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজ উদ্যোগে অনেক কাজ করে থাকি। আগে কলেজের মাঠ নীচু ছিল। সেখানে পানি আটকে থাকতো। কলেজের মাঠে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। রাস্তাও উঁচু করা হয়েছে কিন্তু ড্রেনেজ সিস্টেম না থাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন হচ্ছে না। ড্রেনেজ সিস্টেম করার বিষয়ে আমরা পৌরসভাকে জানিয়েছি। কমিশনার শাকিলের সাথে এ বিষয়ে কথাও হয়েছে আমাদের। পৌরসভা থেকে পরিদর্শক আসার কথা থাকলেও তারা এখনো আসেনি। রাস্তা ও কলা ভবনের সংস্কারের বিষয়ে আমরা সম্প্রতি একটা চিঠি পাঠিয়েছি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে। এ বিষয়ে বরাদ্দ দেয়া হবে বলে সেখান থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। দেড় ফুট উঁচু করা হবে রাস্তা। অন্যদিকে পৌরসভাকে ড্রেন সংস্কারের বিষয়ে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজগুলো হয়ে গেলে আশা করা যায় যে আগামী বছর বর্ষায় এ অচলাবস্থা আর থাকবে না’।    



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft