মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-কৃষি জমি
শৈলকুপা প্রতিনিধি :
Published : Sunday, 11 August, 2019 at 6:00 AM
গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-কৃষি জমিঝিনাইদহের শৈলকুপায় গড়াই নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে ছয়টি গ্রাম। এই ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাড়ি-ঘর, মসজিদ, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট। বছরের পর বছর ধরে এই নদী ভাঙছে কিন্তু তা রোধে কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন নদী তীরের মানুষ।
সরেজমিনে জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়ুলিয়া, কৃষ্ণনগর, মাদলা, মাঝদিয়া, উলুবাড়িয়া ও নলখোলা গ্রামে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি ও জমি। এক সময় এখানে ছিল চাষের জমি, ছিল রাস্তা ঘাট।
গত কয়েক বছরের নদী ভাঙনে এসব গ্রামের কয়েক হাজার বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতবাড়ি হারিয়ে ছিন্নমূল হয়েছেন গ্রামের প্রায় আশি ভাগ মানুষ। ২০১২ সালে ভাঙন রোধে কিছু অস্থায়ী কাজ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরোলেও ভাঙন রোধে নেওয়া হয়নি কোনো অস্থায়ী বা স্থায়ী ব্যবস্থা।
চলতি মৌসুমে নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কোথাও ফসলি জমি, আবার কোথাও বসতভিটা বা মসজিদ ভেঙে যাচ্ছে। প্রতিদিনই পাল্টাচ্ছে ভাঙনের চিত্র। অনেকেই বসতভিটা হারিয়ে পাশ্ববর্তী জিকে সেচ খালের জমিতে আবার কেউ সব হারিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন অন্যত্র।
বড়ুলিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল খান জানান, কয়েক বছর ধরে এ গ্রামের চার ভাগের তিন ভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ওয়াপদা থেকে লোক আসে। এমপি ও মন্ত্রী সবাই আসে, কিন্তু কাজ হয় না। কয়েক বছর আগে কিছুটা বাঁধ দিয়েছিল তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এবার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। তাই বাঁধ নির্মাণ করা খুবই জরুরি।
একই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত রফি উদ্দিন জানান, আট বছর আগেও তার আবাদি জমি ছিল প্রায় ১০ বিঘা। গড়াই নদীতে ভাঙন শুরু হওয়ার পর বছরের পর বছর সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শেষ সম্বল ছিল বসত বাড়ি। এবারের ভাঙনে সেটিও আর নেই। এখন পরের জমিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোনো রকম দিন কাটছে। দ্রুত এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ জরুরি।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান সুজন বলেন, ‘স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে আমরা জরুরি প্রস্তাব প্রেরণ করছি। গত মার্চ মাসে একটি প্রকল্প ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস হলেই শিগগিরই কাজ শুরু হবে।’
এদিকে, জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, ‘ভাঙনের কবলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের ত্রাণসহ আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, গড়াই নদী ঝিনাইদহের শৈলকুপা অংশে প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রবাহিত। আর এই এলাকার মধ্যে ছয়টি গ্রামে প্রায় ৩০ হাজার লোকের বসবাস। গত ১০ বছরে প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft