শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ
সরোয়ার হোসেন :
Published : Thursday, 15 August, 2019 at 6:19 AM
শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজআজ ১৫ আগস্ট-জাতীয় শোক দিবস। সমগ্র জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আজ থেকে ৪৪ বছর আগে ১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী সদস্যের হাতে নৃশংসভাবে নিহত হয়েছিলেন তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এটি শুধু বাংলাদেশেরই নয়, সারা বিশ্বের মধ্যে ভয়াবহ ও কলঙ্কিত এক অধ্যায়। একটি দেশের মহান স্থপতি ও রাষ্ট্রনায়ককে তাঁর পরিবারের সদস্যসহ এমন নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে পৈশাচিক পন্থায় কাপুরুষোচিত আক্রমণ চালায় ঘাতকের দল। সেদিন প্রতিটি তলার দেয়াল, জানালার কাঁচ, মেঝে ও ছাদে রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুঁড়ো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। গুলির আঘাতে দেয়ালগুলোও ঝাঁঝরা হয়ে যায়। চারপাশে রক্তের সাগরের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র। প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে নিথর পড়ে ছিল চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত বঙ্গবন্ধুর লাশ। তাঁর তলপেট ও বুক ছিল বুলেটে ঝাঁঝরা। নিথর দেহের পাশেই পড়ে ছিল তাঁর ভাঙা চশমা ও অতিপ্রিয় তামাকের পাইপটি। অভ্যর্থনা কক্ষে শেখ কামাল, টেলিফোন অপারেটর, মূল বেডরুমের সামনে বেগম মুজিব, বেডরুমে সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামাল, নিচতলার সিঁড়িসংলগ্ন বাথরুমে শেখ নাসের এবং মূল বেডরুমে দুই ভাবীর ঠিক মাঝখানে বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের লাশ।
ঘাতকের নির্মম বুলেটে সেদিন আরো শহীদ হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ, রিন্টু খানসহ অনেকে। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে সন্তানসহ জার্মানিতে অবস্থান করার কারণে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।
সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর হত্যাকারীদের বিচারের হাত থেকে রক্ষা করতে জারি করা হয় কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে বছরের পর বছর এ নৃশংস হত্যাকা-ের বিচারের পথ রুদ্ধ থাকা ছিল আইনের শাসনের পরিপন্থী। এর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর অবদান মুছে ফেলার প্রক্রিয়াও নানাভাবে চালানো হয়েছে। কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের পর দেরিতে হলেও বিচার কাজ সম্পন্ন হয়। কয়েক খুনির মৃত্যুদ- কার্যকর হয়েছে। অন্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন দেশে। পলাতক খুনিদের দেশে এনে শাস্তি কার্যকর করতে সরকার নানা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
ইতিহাসে যার স্থান সুনির্দিষ্ট ও স্বীয় মহিমায় সমুজ্জ্বল, তাঁকে অস্বীকারের মূঢ়তা বিভিন্ন সরকারের আমলে কম দেখানো হয়নি। এতে স্বল্পকালীন সুবিধা হাসিল করা গেলেও চূড়ান্ত বিচারে তা সফল হয়নি। বরং মৃত বঙ্গবন্ধু দিনের পর দিন হয়ে উঠেছেন আরও শক্তিশালী। জাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় অবদানই তাঁকে অজেয় করে রেখেছে।
বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবনে একটিই ব্রত ছিল-বাংলা ও বাঙালির মুক্তির জন্যে নিজেকে উৎসর্গ করা। এর শুরু ১৯৪৮ সাল থেকে। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, এই রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে আমরা বাঙালিরা নির্যাতিত-নিষ্পেষিত হবো। তাই এ থেকে জনগণের মুক্তির জন্যে তিনি বেছে নিয়েছিলেন আন্দোলন-সংগ্রামের পথ। ১৯৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৫৬-এর শাসনতন্ত্রের জন্যে আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৩-এর রবীন্দ চর্চা আন্দোলন, ’৬৪-এর সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ’৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়-প্রতিটি ক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধুর ছিল বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। বাংলাদেশ ও বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
বস্তুত বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ পরস্পর অবিচ্ছেদ্য। মাত্র ৫৫ বছরের জীবনের প্রায় প্রতিটি মুহূর্তই তিনি ব্যয় করেছেন এদেশের ভুখানাঙ্গা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। বারবার কারাবরণ করেছেন। ভোগ করেছেন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। তাঁকে ফাঁসিকাষ্ঠে চড়ানোর ষড়যন্ত্রও হয়েছে একাধিকবার। তারপরও তাঁকে থামানো যায়নি, দমানো যায়নি, যায়নি লক্ষ্যচ্যুত করা। বাঙালির প্রতি তাঁর বিশ্বাস ও আস্থা ছিল আকাশচুম্বী। সেজন্যেই হাসিমুখে, নির্ভীকচিত্তে মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সব ধরনের জুলুম-নির্যাতন বরণ করেছেন তিনি। আমৃত্যু একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিবাদী ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশের যথাযথ রূপায়ণই হবে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সর্বোত্তম উপায়।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft