বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯
শিক্ষা বার্তা
যশোর বোর্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সংখ্যক ফলাফল পরিবর্তন
এইচএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষায় ফেল করা ৩০ জন পাস, এ প্লাস ২ জন
এম. আইউব :
Published : Saturday, 17 August, 2019 at 6:12 AM
এইচএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষায় ফেল করা ৩০ জন পাস, এ প্লাস ২ জনযশোর শিক্ষাবোর্ডের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সবচেয়ে কম সংখ্যক উত্তরপত্রের ফল পরিবর্তন হয়েছে। এবারই এইচএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষায় ফল পরিবর্তন হয়েছে মাত্র ৮৭ পত্রের। যা বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরে এত কম আর হয়নি।
কর্মকর্তারা বলছেন, নিবিড় তত্ত্বাবধান আর প্রশ্নব্যাংকের সুফল এটি। উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষায় আবেদন কমার কারণে ফলও কম পরিবর্তন হয়েছে। যেসব উত্তরপত্রে ফল পরিবর্তন হয়েছে তার সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে শিক্ষাবোর্ড। ওইসব শিক্ষককে আপাতত এক বছরের জন্যে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সুযোগ দেয়া হবে না। পাশাপাশি তাদেরকে হাজির করা হবে বোর্ডে। সেখানে ভুল করা শিক্ষকদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হবে তারা কী ভুল করেছেন।
এ বছর যশোর শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার জন্যে ২৩ হাজার ১শ’২৩ টি পত্রে আবেদন জমা পড়ে। এসব বিষয় পুনঃনিরীক্ষায় মাত্র ৮৭ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। তবে, এই ৮৭ জনের মধ্যে ৩০ জন ফেল করা পরীক্ষার্থী রয়েছে। মূল ফলাফলে যারা ফেল করা হয়েছে বলে দেখানো হয়। ফেল করা ৩০ জনের মধ্যে দু’জন এ প্লাস, তিনজন এ, ১৫ জন বি, সাতজন সি ও তিনজন ডি গ্রেড পেয়েছে। এছাড়া, পুনঃ নিরীক্ষায় এ থেকে এ প্লাস পেয়েছে ২২ জন, এ মাইনাস থেকে এ ২১ জন, বি থেকে এ তিনজন এবং এ মাইনাস আটজন, এছাড়া সি থেকে বি গ্রেড পেয়েছে তিনজন। এইচএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষা করতে এবার আবেদন জমা পড়ে ২৩ হাজার ১শ’ ২৩। গত বছর যার সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৫শ’ ৫৮।
২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার জন্যে যে আবেদন জমা পড়ে তার মধ্যে সর্বোচ্চ আবেদন পড়ে ইংরেজি প্রথমপত্রে ৩ হাজার ৮শ’ ৩২ টি। এরপর উল্লেখযোগ্য আবেদন যেসব বিষয়ে পড়ে তার মধ্যে ছিল ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রে ৩ হাজার ৬শ’ ৫ টি, আইসিটিতে ১ হাজার ৯শ’ ৮৪, বাংলা প্রথমপত্রে ১ হাজার ৮শ’ ৯৩, বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ১ হাজার ২শ’ ৫৩, পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্রে ১ হাজার ৪শ’ ৫৬, পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্রে ১ হাজার ১শ’ ৬২, রসায়ন দ্বিতীয়পত্রে ১ হাজার ১শ’ ৫১, রসায়ন প্রথমপত্রে ১ হাজার ৬১ ও উচ্চতর গণিতে ১ হাজার ৩৫ টি।
যশোর শিক্ষাবোর্ড থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ২৬ হাজার ২শ’ ২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে ছেলে ৬৫ হাজার ২শ’ ২০ জন এবং মেয়ে ৬১ হাজার ৯ জন। পরীক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ২১ হাজার ১শ’ ৪৬, মানবিক বিভাগে ৮২ হাজার ৪শ’ ৩ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২২ হাজার ৬শ’ ৮০ জন ছিল। এদের মধ্যে পাস করে মোট ৯৫ হাজার ৪শ’ ৯৫ জন। পাসকৃত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছেলে ৪৭ হাজার ৪শ’ ৪২ এবং মেয়ে ৪৮ হাজার ৫৩ জন ছিল। এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০ হাজার ২শ’ ৮৩ জন ছেলে, ৭ হাজার ৮শ’ ১৭ জন মেয়ে, মানবিক বিভাগ থেকে ২৬ হাজার ৬শ’ ৭১ জন ছেলে, ৩২ হাজার ১শ’ ৬৪ জন মেয়ে এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১০ হাজার ৪শ’ ৮৮ জন ছেলে এবং ৮ হাজার ৭২ জন মেয়ে পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে সর্বমোট ৫ হাজার ৩শ’ ১২ জন। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ৯শ’ ৭৪ জন ছেলে ও ১ হাজার ৫শ’ ৬৭ জন মেয়ে, মানবিক বিভাগ থেকে ৫শ’ ৪ জন ছেলে ও ৯শ’ ২৮ জন মেয়ে এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১শ’ ৪০ ছেলে ও ১শ’ ৯৯ জন মেয়ে ছিল।
বোর্ডের অধীন ৫শ’ ৭৬ কলেজের এসব পরীক্ষার্থী ২শ’ ২৪ টি কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ১শ’ ১ টি কলেজের ২৪ হাজার ৩শ’ ১২ জন পরীক্ষার্থী ৪২ কেন্দ্রে, বাগেরহাটের ৪৬ টি কলেজের ৮ হাজার ৫শ’ ৬৫ জন পরীক্ষার্থী ১৯ টি কেন্দ্র, সাতক্ষীরার ৭০ টি কলেজের ১৩ হাজার ৭শ’ ৫ জন পরীক্ষার্থী ২৩ টি কেন্দ্র, কুষ্টিয়ার ৬৭ টি কলেজের ১৩ হাজার ৪শ’ ৪৬ জন পরীক্ষার্থী ২২ টি কেন্দ্র, চুয়াডাঙ্গার ২৩ টি কলেজের ৭ হাজার ৭শ’ ৪০ জন পরীক্ষার্থী ১১ টি কেন্দ্র, মেহেরপুরের ২০ টি কলেজের ৪ হাজার ৬শ’ ৭৭ জন পরীক্ষার্থী ৭ টি কেন্দ্র, যশোরের ১শ’১৫ টি কলেজের ২২ হাজার ৪শ’ ৬৬ জন পরীক্ষার্থী ৪৫ টি কেন্দ্র, নড়াইলের ২৪ টি কলেজের ৬ হাজার ১শ’ ৪৭ জন পরীক্ষার্থী ১১ টি কেন্দ্র, ঝিনাইদহের ৭২ টি কলেজের ১৭ হাজার ৫শ’ ৭ জন পরীক্ষার্থী ২৫ টি কেন্দ্র এবং মাগুরার ৩৮ টি কলেজের ৭ হাজার ৬শ’ ৬৪ জন পরীক্ষার্থী ১৯ টি কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এসব পরীক্ষার্থীর মধ্যে যারা আশানুরূপ ফল করতে পারেনি তারাই উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেছে। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ধারণা, উত্তরপত্রে নতুন করে নম্বর দেয়া হয়ে থাকে। যেটি ভ্রান্ত ছাড়া কিছুই না। কারণ, নতুন করে নম্বর দেয়ার কোনো বিধি-বিধান নেই শিক্ষাবোর্ডের আইনে। কেবলমাত্র নম্বর গণনায় ভুল হয়েছে কিনা এবং কোনো উত্তরের নম্বর দেয়া ভুল হলে সেটি দেয়া হয় মাত্র।
পুনঃনিরীক্ষার ফল পরিবর্তনের বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্রের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের সভায় উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় অধিক যতœবান হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল উত্তরপত্র মূল্যায়ন এমনভাবে করতে হবে যাতে ফল পরিবর্তনের সংখ্যা একেবারে শূন্যের কোটায় চলে আসে। সেই কারণে এতটা কম পরিবর্তন হয়েছে। তবে, নম্বর গণনায় ভুল হওয়া ছাড়া বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। যেসব পরীক্ষক এই ভুল করেছেন তাদেরকে আগামী এক বছর উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে রাখা হবে না। কেবল তাই না, তলব করা হবে যশোর শিক্ষাবোর্ডে। এখানে এনে তারা কী ভুল করেছেন তা দেখিয়ে দেয়া হবে। যাতে করে ফের ভুল না করে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft