বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০
শিক্ষা বার্তা
বিভিন্ন সঙ্কটে কলাপাড়ায় ১৭৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
অভিভাবকেরা ঝুঁকছেন কিন্ডারগার্টেনের দিকে
এইচ,এম,হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Saturday, 24 August, 2019 at 5:13 PM
অভিভাবকেরা ঝুঁকছেন কিন্ডারগার্টেনের দিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ১৭৩টি সরকারি এবং ১৫টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিভিন্ন সমস্যা ও সঙ্কটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এসব বিদ্যালয়ের গুলোতে ২২হাজার শিক্ষার্থী মান সমম্পন্ন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে অভিভাবকেরা তাদের ছেলে মেয়ের ভবিষৎ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। এই উপজেলায় সমুদ্র সৈকত পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা ও তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং ষ্টেশন ও কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কলাপাড়ায় স্থাপিত হওয়ায় গুরুত্ব বিবেচনা কলাপাড়া উপজেলা অন্য উপজেলার চেয়ে অন্যতম। সব দিক থেকে সমুদ্ধশালী হলেও প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখতে পারেনি।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানাগেছে, উপজেলায় দু’টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৭৩টি এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫টি। বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থী রয়েছে ২২হাজার। এখানকার ১৮৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুনগত মান সন্তোষকজনক নয় বলে অভিযোগ অভিভাবকের।
পরিসংখ্যানে জানাগেছে, এসব বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী উপবৃওি পায় কেবল তারাই কিছুটা ক্লাস করে। অন্যরা ক্লাসের প্রতি তেমন আগ্রহী নয়। অনেক শিক্ষার্থী অনিয়মিতভাবে স্কুলে যাতায়াত করে। পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। অনেক অভিভাবক ছেলে মেয়েদের ভাল লেখাপড়ার জন্য কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছেন। অভিভাবকদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা মেধার দিক দিয়ে ততটা মানসম্পন্ন নয়। সমাপনী পরিক্ষাগুলোতে পাসের হার সন্তোষজনক হলেও তা অভিভাবকদের কাছে গ্রহন যোগ্য নয়। অনেক অভিভাবক জানান, শিক্ষকেরা নিজেদের ও স্কুলের স্বার্থে এসব পরীক্ষায় সহানুভুতির সাথে উওরপত্র দেখে শিক্ষার্থীও ভালো নম্বর দিয়ে প্রশাসনের কাছে বাহবা কুড়ান।  
কলাপাড়া শিক্ষা অফিস সুত্রে আরো জানাগেছে, উপজেলায় ১৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জন প্রধান শিক্ষকের পদ ও ১১২জন সহকারী শিক্ষকের দীর্ঘ দিন শুন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এই বিদ্যালয়গুলো তদারকি জন্য একজন শিক্ষা কর্মকর্তা ও পাঁচজন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা পদ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে রয়েছে তিন জন সহকারি শিক্ষাকর্মকর্তা। তার মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি দুইজন ৮৮টি বিদ্যালয় পরিদর্শনের কাজ করছেন। দুইজন সহকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনসহ তদারক চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না ফলে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তদারকি না থাকায় সরকারের অগ্রাধিকার ভিক্তিক প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্্রম ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে  শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা কোনো কোনো স্কুল বছরে একবারও মনিটরিং করেন না এবং স্কুলগুলো পরিদর্শনে যায় না শিক্ষকেরা স্কুলে ক্লাস করেন না করেন এ খোঁজ খবর তাদের কাছে নেই। আর এ সুযোগে উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকÑশিক্ষিকা নিয়মিত বিদ্যালয়ের পাঠদানে হাজিরা হচ্ছেনা। সময়মতো অনেক শিক্ষক হাজিরা হচ্ছেনা। আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেয়া হচ্ছে। অনেক শিক্ষক Ñশিক্ষিকা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে পারিবারিক ও রাজনৈতিক কাজে সময পার করছেন। প্রতিদিনই কিছু শিক্ষক বিদ্যালয় চলাকালিন উপজেলা শিক্ষা অফিসে আনাগোনা ব্যস্ত থাকেন। এ কারনে ২২হাজার শিক্ষার্থী মান সমম্পন্ন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে অভিভাবকেরা তাদের ছেলে মেয়ের ভবিষৎ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন।  
উল্লেখ্য,কলাপাড়া উপজেলা সদর থেকে কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকার দুরত্ব কয়েক কিলোমিটার। ফলে অনেক শিক্ষকই শহরে থেকে নিজেদের সন্তনদের উপজেলা শহরের বিদ্যালয় গুলোতে লেখাপড়া করান। ফলে তারা উপজেলা শহরে স্বপরিবারে বসবাস করেন। তারা  প্রতিদিন সকালে কলাপাড়ায় থেকে গ্রাম গঞ্জে যার যে জায়গা চাকরি সে জায়গা যান। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদানে বিঘœ সৃষ্টি হয়। সেই সাথে বিদ্যালয়ের প্রধানরা উপজেলার শহরে অবস্থান করায় যথাসময়ে বিদ্যালয়ে না আসায় বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার অভাবও পরিলক্ষিত হয়। এ নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। কোনো কোনো  বিদ্যালয় পরিদর্শনে শিক্ষা কর্মকর্তারা বছরে একবারো ও বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান না। এ ভাবে বহু বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে ।  
শিক্ষক স্বল্পতায় থাকা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা নিজেদের ইচ্ছে মতো ক্লাস নিয়ে থাকেন। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে অফিসের কাজের পাশাপাশি এক শিক্ষককে দু’টি ক্লাসে ও পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হয়। তাই শিক্ষককেরা যেমন অতিরিক্ত কাজ আর পাঠদান কার্যক্রমে ক্লান্ত হচ্ছেন। তেমনি এক বা দু’টি বিষয় সারা দিন পড়া নিয়ে শিক্ষার্থীরাও বিরক্ত হচ্ছে। আর এ কারনেই অনেক বিদ্যালয় খুদে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় যেতে আগ্রহ হারাচ্ছে।
দীর্ঘ দিন ধরে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের পদ শুন্য থাকায় ওই সব প্রতিষ্টানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলাও ভেঙ্গে পড়েছে। শিক্ষক স্বল্পতায় মানসম্মত ফলাফলের দিক দিয়েও পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই অভিভাবকদের। তারা বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারনে নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এর সমাধান না নিলে আগামী দিনে উপজেলায় ভালো ফলাফল আসবে না। ওই বিদ্যালয়গুলোতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রশাসনিক ও পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষক সঙ্কটে পড়ে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনের পাঠদান কার্যক্রম চলছে কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে। ফলে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন ।
 কুয়াকাটার খাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুস ছালাম গাজী বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার মান উন্ন্য়নে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কিছু শিক্ষকের আন্তরিকতার অভাবে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুনগতমান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।  শিক্ষার গুনগতমান বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও এ নিয়ে বিরক্ত। বারবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকতার্কে জানিয়ে ও এ সমস্যার সমাধান হচ্ছেনা। তাই ক্ষুক্ক অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা প্রতিদিনের কার্যত্রম আর সময়মতো সিলেবাস সম্পন্ন শিক্ষা ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
অভিভাবকেরা জানান, আমরা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা ছেলে মেয়েদের টাকা পয়সা খরচ করে উপজেলা সদরে কিন্ডারগার্টেন স্কুল নিয়ে পড়াশুনা করাতে হয়। কি করার আছে ভাই?। প্রাইমারি স্কুলে দিয়া ছেলে মেয়র ভবিষ্যত শেষ হইর‌্যা দিমু। প্রাইমারি স্কুলে স্যারের এ্যাহন শহরে থাহে হেরা হেগো মাইয়া পোলা ভাল জায়গায় নিয়া পড়া লেখা করায়। এজন্য দেহেনা ১০টার স্কুল শহর দিয়া আইয়্যা ১১টা স্কুল করে। তাই ক্ষুক্ক অভিভাবক বলেন দেখার তো কেউ নাই ?।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, যে সব স্কুলে শিক্ষক নিয়ে সঙ্কট চলছে তা কিছু দিনের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান হবে। আর যে শিক্ষকেরা স্কুলে পাঠদানে বিলম্ব করে তা কমিটির লোকজন আমাদেরকে জানালে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft