সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সম্পাদকীয়
আসামে বাদ পড়া ১৯ লাখ মানুষ, বাংলাদেশের কোনো উদ্বেগ আছে কি?
Published : Monday, 2 September, 2019 at 6:15 AM
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের জাতীয় নাগরিক পঞ্জী বা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে। শনিবার এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই তালিকায় অনুসারে, ৩ কোটি এগারো লাখ ২১ হাজার ৪ জন ভারতের নাগরিক পঞ্জীতে অন্তর্ভূক্ত হবেন, আর ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন ওই তালিকায় স্থান পান নি।
বিষয়টি নিয়ে ভারতসহ সারাবিশ্বে আলোড়ন তৈরি হয়েছে, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বাদ পড়া এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কী হবে? আলোচনার ঢেউ ছড়িয়েছে বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমসহ মূলধারার গণমাধ্যমে।
আসামের ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস বা এনআরসির প্রথম তালিকাটি প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালে। বিপুল সংখ্যক মুসলমানদের আগমন হিন্দু-প্রধান আসামের জনসংখ্যার ভারসাম্যকে বদলে দিতে পারে এই আশঙ্কায় সেখানকার অসমীয়া জাতীয়তাবাদী দলগুলো আন্দোলন শুরু করে এবং নাগরিকত্বের প্রথম তালিকাটি তৈরি হয়। এরপরে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওই ইস্যু আবারও চাঙ্গা হয়। প্রাণ বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশী শরনার্থীদের মধ্যে একটি বিরাট অংশ আশ্রয় নেয় আসামে। তাদের অনেকে সেসময় আসামে রয়ে গেছে দাবি করে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) ১৯৭৯ সালে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৮৩ সালে এই আন্দোলন সহিংস রূপ নেয় যাতে ২০০০ সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসী প্রাণ হারান। এদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলমান।
নানা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে প্রায় তিন কোটি ২০ লাখ মানুষের দলিলপত্র যাচাই করার পরে আসাম সরকার ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম খসড়া তালিকা প্রকাশ করে। যাচাই বাছাইয়ের পর ঐ খসড়ার দ্বিতীয় তালিকাটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই। ওই এনআরসিতে যাদের নাম রযয়েছে তারা প্রমাণ করতে পেরেছেন যে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে তারা আসামে এসে হাজির হয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় ৪০ লাখ মানুষ এই তালিকা থেকে বাদ পডয়ে যান। এরপরে নির্বাচনের শোরগোল আর আন্দোলনের মুখে আবার তালিকা হাল নাগাদের কাজ হাতে নেয়া হয়, সেই তালিকাই প্রকাশ হয়েছে ৩১ আগস্ট। সেখানেও বাদ পড়েছে ১৯ লাখ মানুষ।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর একইসুরে কথা বলেছেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা মেনে নিলে ও বিশ্বাস করলে, বাংলাদেশের শঙ্কার কিছু নেই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে অনেকাংশ মিল থাকায় আসামের বাদ পড়াদের নিয়েও স্বাভাবিকভাবে উদ্বেগ থাকছেই।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দায়িত্বশীলরা এই বিষয়ে কার্যকর মনোযোগ আর কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন বলে আমাদের আশাবাদ।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft