রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
সারাদেশ
ডিমলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হতাহতের ঘটনা যে কারনে
নীলফামারী প্রতিনিধি :
Published : Wednesday, 4 September, 2019 at 9:33 PM
ডিমলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হতাহতের ঘটনা যে কারনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কালীগঞ্জে গরুর বিট-খাটাল চালুর এক মাসের মাথায় একই এলাকার জিরো পয়েন্ট নামক স্থান দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতীয় গরু আনতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ডিমলার দুইজন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে নিহত যুবক বাবুল মিয়া (২২)উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন সীমান্তের কালীগঞ্জ গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে। ওই ঘটনায় আহত কিশোর সাইফুল ইসলাম(১৫)উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে। ঘটনার পর ওই হতাহতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় বিএসএফ।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার আজ বুধবার(৪সেপ্টেম্বর)সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতের লাশ বুঝে না পেয়ে চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। নিহত বাবুলের পারিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,গত সোমবার সন্ধ্যায় বাবুল,সাইদুল সহ ৭/৮জন গরুর বিট-খাটাল সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট নামক স্থান দিয়ে ভারত থেকে ভারতীয় গরু আনবার কথা বলে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর)ভোরে ভারত থেকে গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসবার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের লক্ষ করে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই যুবক বাবুল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ও সাইদুল আহত হলেও বাকীরা পালিয়ে আসে। পরে নিহত বাবুলের লাশ ও আহত সাইদুলকে নিজেদের হেফাজতে নেয় ভারতীয় বিএসএফ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,গত জুলাই মাসের ২তারিখ হতে ওই এলাকায় ভারত থেকে অবৈধ পথে আসা বৈধতার সনদ দেয়া গরুর বিট-খাটাল চালুর পর থেকে এলাকায় পরিবারের অবাধ্য হয়ে স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছাত্র,কিশোর,যুবক,বৃদ্ধ সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষজন অধিক টাকার লোভে গরু ব্যবসায়ীদের হয়ে ভারত থেকে রাতের আধারে গরু পিটানী(রাখালের কাজ)দিয়ে বাংলাদেশে আনছেন।আর এ কাজের জন্য তারা পান প্রতি জোড়া গরু প্রতি ১০হাজার করে টাকা।এখন নিহতের লাশ ডিমলা সীমান্ত দিয়ে নিলে গরুর বিট-খাটাল বন্ধ হয়ে জেতে পারে মর্মে স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজসে লাশ নিয়ে চলছে ধ্রুমজাল।এবং এই বিট-খাটাল চালুর পর থেকেই এলাকায় চোরাকারবারীদের তালিকা ক্রমেই বাড়ছে।
তাদের অভিযোগ,হতাহতের দিন বিকেলে ৫১ ব্যাটালিয়ন বর্ডারগার্ড(বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার লে.কর্নেল ইছাহাক মিয়া ডিমলা থানারহাট বিজিবি ক্যাম্পে এসে দীর্ঘক্ষন বৈঠকের পর চলে যান! পরে থানার হাট ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা কমান্ডিং অফিসার আসার বিষয়টি অস্বীকার এড়িয়ে যান।
যদি ডিমলা সীমান্তের ঘটনা না হয়ে থাকে তবে তিনি কেনো নিহতের খবরে এই ক্যাম্পে এসেছিলেন এমন প্রশ্ন এখন অনেকের মুখে-মুখেই। তবে এ ব্যাপারে ৫১ বর্ডারগার্ড বিজিবির ডিমলার কেহই গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
নিহত বাবুল মিয়ার মা রুজিনা বেগম বলেন,বিএসএফের গুলিতে ছেলে নিহতের কথা লোক মুখে জেনে ঘটনার দিন আমি কালীগঞ্জ বিজিবি ক্যাস্পে গিয়ে তাদের হাত-পা ধরে মিনতি করে আমার ছেলের লাশ ফেরত চেয়েছি।তারা(বিজিবি)আমাকে বলেছেন আমরাও এ ব্যাপারে খুব টেনশনে রয়েছি দেখি কি করা যায়।পরে তারা জানান,ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম দহগ্রাম সীমান্তে।আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে দ্রুত আমার ছেলের লাশ ফেরত চাই।
পশ্চিম ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক আজ বুধবার বলেন,আমরা এ ব্যাপারে এখনো লাশের কোনো সন্ধ্যান পাইনি।
উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, আহত সাইদুলের পরিবারের কাছে শুনেছি তিনদিন আগে দহগ্রামে তার ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে গেছে।মঙ্গলবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তের বিএসএফের গুলিতে আহত হওয়ার খবর পাই।তিনি আরো বলেন,‘বিএসএফের আওতায় চিকিৎসাধীন থাকা সাইফুলের সঙ্গে তার পরিবারের আজ বুধবার মোবাইলে কথা হয়েছে। ভালো থাকার কথা জানিয়েছে সে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন শেখ এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন,‘বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছে।ওই দুই জনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে সত্যতা জানতে পেরেছি। বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছি।
রংপুর ৫১ বর্ডার গার্ড ব্যাটানিয়ন বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে.কর্নেল ইছাহাক মিয়ার ০১৭৬৯৬০২৩১০ নাম্বারে একাধিকবার ফোন করার পরও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।




আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft