মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯
আন্তর্জাতিক সংবাদ
আসামে এক বিদেশি সাংবাদিক বহিষ্কারের খবর নিয়ে তোলপাড়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
Published : Thursday, 5 September, 2019 at 5:08 PM
আসামে এক বিদেশি সাংবাদিক বহিষ্কারের খবর নিয়ে তোলপাড়কাশ্মিরের পর এ বার কি আসাম! রাজ্য জুড়ে এনআরসি সংক্রান্ত গরমিলের ঘটনা সামনে আসতেই সংবাদমাধ্যমের মুখ বন্ধ করার অভিযোগ উঠল নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রথম ধাক্কায় মূলত সরকারের কোপে পড়েছেন বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদেরা। সরকার শান্ত বলে দাবি করে এলেও কাশ্মির যে অশান্ত তা বিদেশি সংবাদমাধ্যমেই প্রথম সামনে এসেছিল। সেই খবরকে অস্ত্র করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হয় পাকিস্তান। কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকায় এ খবর প্রকাশ করেছে।
আনন্দবাজার জানায়, এতে অস্বস্তিতে পড়ে সরকার। অস্বীকার করে সব অভিযোগ। জানায়, দেশি-বিদেশি কোনো সংবাদমাধ্যমের উপরেই বিধিনিষেধ জারি করা হয়নি। কাশ্মিরের পরে আসামে এনআরসি নিয়েও এই ধরনের কোনো সংবাদ প্রকাশ হোক তা মোটেই কাম্য নয় সরকারের কাছে। পাকিস্তান জানিয়ে রেখেছে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে সরব হবে। ওই বৈঠকের আগে মানবাধিকার লঙ্ঘন-সংক্রান্ত কোনো তথ্য যেন বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না পায়, তার জন্য তলে-তলে সক্রিয় রয়েছে নয়াদিল্লি। অভিযোগ উঠেছে, নেতিবাচক খবর রুখতে সব বিদেশি সাংবাদিককে আসাম ছাড়তে বলা হয়েছে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের এক বিদেশিনি সাংবাদিককে পুলিশ পাহারায় বিমানবন্দরে ছেড়ে আসা হয়েছে। আসামকে সংরক্ষিত এলাকা বা‘প্রোটেকটেড এরিয়া’ বলে দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। যেখানে যেতে নিতে হবে ‘প্রোটেকটেড এরিয়া পারমিট (পিএপি)’।
আনন্দবাজার জানায়, ভারতের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। আসামের স্বরাষ্ট্র দফতরও জানিয়েছে, কোনো বিদেশি সাংবাদিককে রাজ্য থেকে বার করে দেয়া হয়নি। অসমকে ‘প্রোটেকটেড এরিয়া’ ঘোযণা করে কোনো নির্দেশও জারি হয়নি। যাদের সাংবাদিককে বার করে দেয়া হয়েছে বলে খবর, সেই সংস্থাও জানায়, ওই সাংবাদিক স্বেচ্ছায় অসম থেকে ফিরে এসেছেন। তাকে জোর করা হয়নি।
এতে বলা হয়, একটি বিষয় স্পষ্ট, ভবিষ্যতে সরকার-বিরোধী খবর রুখতে চাইলে বিধিনিষেধ জারি করতে পারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্তা পবনকুমার বাধে আনন্দবাজারকে বলেন, ‘‘শুধু আসামই নয়, জম্মু-কাশ্মির ও উত্তর-পূর্বের সব রাজ্যে যাওয়ার ক্ষেত্রেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয় বিদেশি সাংবাদিকদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পরে সেই অনুমতি দেয়া হয়। এটা নতুন নিয়ম নয়। এর সঙ্গে এনআরসির সম্পর্ক নেই।’’ এ প্রসঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির ৮২ নম্বর ধারা উদ্ধৃত করেন। পরে মন্ত্রণালয়ে টুইট করে জানায়, খবরটি ভুয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘প্রোটেকটেড এরিয়া’র তালিকায় হিমাচলপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড ও জম্মু-কাশ্মীরের অংশবিশেষ, অরুণাচল, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিমের নাম থাকলেও আসাম নেই। তবে কেন আসামে আসতে ‘পিএপি’-র ধাঁচে অনুমতিপত্র লাগবে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখ খোলেনি। পবন জানান, ‘পিএপি’ ও এই অনুমতিপত্র এক নয়। বিদেশি সাংবাদিকদের উত্তর-পূর্বে যেকোনো এলাকায় আসতেই অনুমতি লাগে।
আন্তর্জাতিক সমালোচনা রুখতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখপাত্র রবীশ কুমার আগেই বলেছেন, এনআরসির সঙ্গে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সম্পর্ক নেই। তা সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত ও পরিচালিত প্রক্রিয়া। তার দাবি, মানবাধিকার ভঙ্গের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু মুখ বন্ধ করা যাচ্ছে না অসমের মানুষের। চুপ নেই সংবাদমাধ্যমগুলিও। তাই প্রশ্ন উঠছে, মন্ত্রণালয়ের ‘সূত্র’ মারফত ইচ্ছাকৃত ভাবেই কি ছড়ানো হলো ঘটনাহীন রটনা! যাতে অন্তত বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে কৌশলে আসাম থেকে দূরে রাখা যায়!



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft