সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সম্পাদকীয়
নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ইতিবাচক উদ্যোগ
Published : Saturday, 7 September, 2019 at 6:25 AM
সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে ২০ সদস্যের শক্তিশালী টাস্কফোর্স। সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে কমিটি যে ১১১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছিলো তাতে সামান্য কিছু সংশোধনী এনে গ্রহণ করেছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল। ২০ সদস্যের টাস্কফোর্স ওই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৭তম সভা শেষে এ তথ্য জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক।
সড়কে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা বহুদিনের কাঙ্খিত দাবি। সরকারসহ ওইখাতের দায়িত্বশীল বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ নিরাপদ সড়কের কথা বললেও নিয়মিতভাবে ঘটে চলেছে দুর্ঘটনা। গত ঈদের আগে ও পরে মাত্র ১২ দিনে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনাগুলোতে মোট ২৫৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
গতবছর জুলাই মাসে দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যুতে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনে পরিবহন খাতের বিভিন্ন স্তরে বিশৃঙ্খলার বিষয়গুলো নতুন করে সামনে চলে আসে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সে সময় সড়ক দুর্ঘটনাকে সরকারের ‘সবচেয়ে বড় দুর্ভাবনার বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রধান মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পরিবহন মালিক, শ্রমিক, পুলিশ, গবেষক ও বিআরটিএসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে ২২ সদস্যের এই কমিটি করা হয়।
সেই কমিটিই সড়ক নিরাপত্তায় যা সুপারিশ করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সড়ক নিরাপত্তায় জোর দেয়া, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া, জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, প্রশিক্ষিত চালক তৈরি, চালকদের সচেতনতা বাড়ানোর মত নানা বিষয়ে দিক নির্দেশনা।এছাড়া সুপারিশে সচেতনতা বাড়াতে সড়কে আচরণবিধি ও সচেতনতামূলক নাটিকা গণমাধ্যমে বিনামূল্যে প্রচার বাধ্যতামূলক করতে বলা হয়েছে। এগুলো দিতে হবে বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড এবং বাসের টিকেটেও। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে ধারণা দিতে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
কমিটির সুপারিশে আরো রয়েছে- অবিলম্বে সড়ক পারিবহন আইনের বিধিমালা জারি, সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি স্কুলের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা, সড়ক উন্নয়নে নেয়া প্রকল্পের ৫ শতাংশ অর্থ সড়ক নিরাপত্তার জন্য রাখা, জেলা ও উপজেলা সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ক্ষমতা বৃদ্ধি, চালক প্রশিক্ষণে সরকারি খরচে ইন্সট্রাক্টর তৈরির কার্যক্রম নেয়া, ইন্সট্রাক্টর নিয়োগে সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার দেওয়া, চাকরিতে নারী চালকদের অগ্রাধিকার দেয়া, ট্রাফিক পুলিশের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ, রাজধানী থেকে রিকশা তুলে দেয়া, রাইড শেয়ারিং কোম্পানির জন্য গাড়ির সংখ্যা বেধে দেয়া, কেবল লাইসেন্সধারী চালকদের মোটরসাইকেল বিক্রি করা, দৈনিক ভিত্তিতে চালক নিয়োগ না দেয়া, চালকদের সুনির্দিষ্ট মজুরি নির্ধারণ, সড়কে ডিজিটাল মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।
সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যু কারোরই কাম্য নয়। আমাদের ধারণা, সরকার নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক এবং সাংবিধানিকভাবে দায়িত্বপালনে দায়বদ্ধ। সড়কে নিরাপত্তার বিষয়ে তারা টাস্কফোর্সসহ সবার কাজে ইতিবাচক সহযোগিতা করলে টাস্কফোর্স এই বিষয়গুলো বাস্তবতার নীরিখে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে বলে আমাদের আশাবাদ।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft