সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
সুন্দরগঞ্জের পিআইও’র দূর্নীতিসহ নানা অভিযোগ থাকলেও আছেন বহাল তবিয়তে
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
Published : Sunday, 8 September, 2019 at 3:07 PM
সুন্দরগঞ্জের পিআইও’র দূর্নীতিসহ নানা অভিযোগ থাকলেও আছেন বহাল তবিয়তেসুন্দরগঞ্জের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে নানা সময়ে তার নামে মামলাও হয়েছে চারটি। এরমধ্যে তিনটি দূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা। এছাড়া ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আরও একটি মামলাসহ থানায় জিডি আছে একাধিক। টিআর-কাবিখায়, গৃহ নির্মাণসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের হিসেব নেই পিআইও নুুরুন্নবীর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের তদন্তে বেশ কিছু  প্রমাণও মেলে। কিন্তু তারপরেও থেমে নেই পিআইও নূরুন্নবীর নানা অনিয়ম-দুর্নীতি আর লুটপাটের ঘটনা। সর্বশেষ জুন ক্লোজিং এ হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাকে চাপ ও হুমকি দিয়ে কাজ না করেই ১৪টি প্রকল্পের ৬ কোটি টাকার বিল স্বাক্ষর করেন নেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক গত ৩০ জুন সুন্দরগঞ্জ থানায় জিডি করেছেন। একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতি এখন পিআইও নুরুন্নবীর উপেন সিক্রেট। অনিয়ম-দুর্নীতি আর পিআইও বিচার দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করেন স্থানীয়রা। তারপরেও দাপট আর দাম্ভিকতায় ৫ বছর ধরে বহাল তবিয়তে আছেন তিনি।
২০১৫ সালের শুরুতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে (পিআইও) হিসেবে যোগ দেন নুরুন্নবী সরকার। যোগদানের পর থেকেই সরকারী বরাদ্দের টিআর, কাবিখাসহ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই অর্থ উত্তোলনসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠে নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে। এছাড়া এসব প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্যে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
অভিযোগের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নদী ভাঙন ও দু:স্থ-অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয় থেকে বরাদ্দ আসে নগদ টাকাসহ ৫২০ বান্ডিল ঢেউটিন। এরমধ্যে ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন আত্মসাতের অভিযোগ উঠে পিআইও’র বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আত্মসাত করা ঢেউটিন উদ্ধার করা হয় একটি মাদ্রাসা থেকে। এ ঘটনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবদুল মালেক তদন্ত করে সত্যতাও পান। টিন আত্মসাতের ঘটনার প্রমাণ মেলোয় পিআইও’র বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে রংপুর সম্বনিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তা। ওই বছর পিআইও নুরুন্নবী সরকারের বরাদ্দের বিভিন্ন প্রকল্প নামেবেনামে দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করেন। সুন্দরগঞ্জ রিপোর্টাস ক্লাবের উন্নয়ন ও একটি রাস্তা সংস্কারে টিআর-কাবিখা প্রকল্পের আওতায় নগদ টাকা ও ৫ মেট্রিব টন চাল বরাদ্দ হয়। কিন্তু ভুয়া প্রকল্প কমিটি দেখিয়ে তা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন পিআইও। এ নিয়ে অভিযোগের তদন্তের প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণও মেলে।
এছাড়া ২০১৬ সালের ৩ মার্চে ত্রাণের ব্রিজের কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে মের্সাস নিশা কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ছামিউল ইসলাম সামুর কাছে কয়েকজনের উপস্থিতি ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেয় নুরুন্নবী। কিন্তু ব্রিজের কাজ তাকে না দিয়ে অন্য ঠিকাদারকে দেয় পিআইও নুরন্নবী। পরে টাকা ফেরত চাইলে নানা ভাবে তালবাহনা করে নুরুন্নবী। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও হামলার ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে পিআইও নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় ৩০ নভেম্বর মামলার করে ছামিউল ইসলাম। একই সঙ্গে চাঁদা ও হামলার অভিযোগে এনে ছামিউল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি মামলা করেন নুরুন্নবী।  না দিয়ে নেতাসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ১২ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠে পিআইও নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে। ছামিউল ইসলাম বলেন, ব্রিজের কাজ পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে পিআইও’র বিরুদ্ধে মামলা করেছি। বর্তমানে মামলা আদালতে বিচারাধিন। একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতি আর সরকারী উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত করে আসছেন দুর্নীতিবাজ পিআইও। অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ ও তার অপসারণ দাবিতে একাধিক লিখিত অভিযোগ ও বিক্ষোভ-মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়। কিন্তু তারপরেও কোন ব্যবস্থাই হয়নি।  
এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দে রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও সোলার স্থাপন প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা কাজ না করেই উত্তোলন করে আত্মসাত করেন পিআইও নুরুন্নবী ও সংশি¬ষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তারা। ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় পিআইওসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়। ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই দুদুক সমন্বিত রংপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোজাহার আলী বাদি হয়ে এই মামলা করেন। এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের টিআর-কাবিখার বিশেষ বরাদ্দের দুই কোটি ২৮ লাখ টাকার কাজ না করে নয়ছয়ের অভিযোগ উঠে পিআিইও’র বিরুদ্ধে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সোলার স্থাপন, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাস্তা সংষ্কার এবং গৃহ নির্মাণ প্রকল্পেও ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে পিআইও নূরুন্নবীর বিরুদ্ধে। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জ আবদুল মজিদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গ্যালারী নির্মাণ ও মনিরাম গ্রামের একটি শহিদ মিনার নির্মাণ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ হয়। বর্তমানে প্রকল্প দুটির নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু বরাদ্দের অর্থ ছাড়ে তালবাহনা করছেন পিআইও। প্রকল্প সংশি¬ষ্টদের অভিযোগ, চাহিদা মতো উৎকোচ না দেয়ায় বিল পাশ করছেন না পিআইও।
সর্বশেষ চলতি অর্থ বছরে জুন ক্লোজিং এ সরকারী বরাদ্দের টিআর-কাবিখা ও গৃহ নির্মাণসহ ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৬ কোটি টাকার বিল দাখিল করেন পিআইও। কিন্তু বিল স্বাক্ষরে অপরগতা দেখালে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাকে চাপসহ গালিগালাজ করে পিআইও। এক পর্যায়ে তাকে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে বিলে স্বাক্ষর নেয় পিআইও। এ ঘটনায় পিআইও’র বিরুদ্ধে ২৯ জুন সুন্দরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরীসহ ঘটনাটি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করেছেন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা। এ বিষয়ে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ভুয়া আর অসঙ্গগতিপূর্ণ ১৪টি প্রকল্পে ৬ কোটি টাকার বিল স্বাক্ষরে চাপ দেয় পিআইও নুরুন্নবী। এসময় তিনি গালিগালাজ করে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে বিলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরী ও লিখিতভাবে ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করি।
একের পর অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে পিআইও নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে। দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুদকেরসহ চারটি মামলা বিচারাধীন। ওপেন সিক্রেটে নজীরবিহীন দুর্নীতি করে আসছেন তিনি। কিন্তু তারপরেও বহাল তবিয়তে ৫ বছর ধরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলাতে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দাপট-দাম্ভিকতা দেখিয়ে নানা প্রকল্পের অর্থ লোপাট করেও ধরাছোয়ার বাইরে আছেন তিনি। দুর্নীতিবাজ পিআইও’র বিচার ও অপসারণ দাবিতে  বিক্ষুব্দ হয়ে উঠেন জনপ্রতিনিধি, ক্ষমতাসীন দলের নেতাসহ স্থানীয়া। বিক্ষোভ-মানববন্ধন ও কুশপুত্তলিকা দাহ করে পিআইও’র বিরুদ্ধে আন্দোলন কর্মসূচি হয়। তারপরেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে বহাল তবিয়তে আছেন তিনি।
বামনডাঙ্গার সমাজকর্মী মাহাবুর রহমান খাঁন বলেন, মসজিদসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পিআইও’র বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। যোগদানের পর থেকেই নাম সর্বস্ব ও ভুয়া প্রকল্প দেখানোসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। একাধিবার তদন্তে অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। এছাড়া দুদুকসহ একাধিক মামলা থাকলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থাই হয়নি। পিআইও’র অদৃশ্য খুঁটির জোর কোথায় তা জানতে চায় এলাকাবাসী।
সুন্দরগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা ও ঠিকাদার রানু মিয়া বলেন, ব্রিজের কাজে ঠিকাদারদের পিআইওকে নির্দিষ্ট বরাদ্দের বিপরীতে উৎকোচ দিতে হয়। প্রতি অর্থ বছরে অধিকাংশ প্রকল্পের সংশি¬ষ্টদের কাছে নির্দিষ্টহারে কমিশন বাণিজ্যে করেন পিআইও। হালিম আকন্দসহ স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে অনিয়ম-দুর্নীতি করছেন করছেন পিআইও। তিনি কাউকে তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া অনিয়ম-দুর্নীতি করে বহাল তবিয়তে আছেন। অনিয়ম-দুর্নীতি ও উৎকোচ আদায়ের কারণে তিনিসহ অনেক ঠিকাদার প্রকল্প অফিসের ব্রিজের কাজ করছেন না।
এদিকে, পিআইও’র অনিয়ম-দুর্নীতি আর কমিশন বাণিজ্যে সিন্ডিকেটের প্রধান পৌর এলাকার বাইপাস এলাকার হুড়াভায়া খার (গাজীর কুড়া) হালিম আকন্দ। রিতিমতো কয়েক বছর ধরে হালিমকে অফিসে বসিয়েছেন পিআইও। পিআইও’র কার্যালয়ের সাধারণ শাখার চেয়ার টেবিলে বসে নিয়মতি দাপ্তরিক কাজও করেন হালিম। দুর্নীতিবাজ পিআইও’র সঙ্গে সখ্যতার সুযোগে কয়েক বছরেরই আখের গুছিয়ে অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন হালিম। অথচ ১০-১৫ বছর আগেও জীবিকার তাগিদে হালিম বাড়ি ছেড়ে ফেনী জেলায় ছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর পিআইও অফিসে থেকে তার অবস্থায় পাল্টে গেছে। নগদ টাকার ব্যাংক, ব্যালেন্স ছাড়াও একাধিক জমি কিনে বাড়ি করেছেন। গত এক বছরেই তিন জায়গায় জমি কিনেছেন প্রায় ২০ লাখ টাকায়।
সরেজমিনে হালিমের গ্রামে গিয়ে কথা হয় প্রতিবেশি ষাটার্ধ্বে লালু মাস্টারের সঙ্গে। তিনি বলেন, পিআইও অফিসে থেকে ৫-৬ বছর আগে তার কাছে সাড়ে ৬ শতক জমি চার লাখ টাকায় কেনে হালিম। সেই জমিতে পাকা বাড়ি করেছে। এছাড়া কিছুদিন আগেও হামিদ, আব্বাস আলী ও ভাটার পাড়ের হুদার কাছে প্রায় ২০ লাখ টাকার জমি কেনে হালিম। তবে অল্প সময়ে হালিমের পরিবর্তন ও টাকার উৎসহ সম্পর্কে জানা নাই তার।
লালু মাস্টারের ছেলে লাজু মিয়া বলেন, হালিমের বাবা-মার সংসারে এখনও অভাব। অর্থ হালিম একের পর জমি কিনে বাড়ি করছেন। গরুর খামার ও অন্য ব্যবসাও আছে তার। অভাবের কারণে হালিম বাড়ি ছেড়ে ঢাকা, ফেনিতে ছিলো। কিন্তু ১০ বছর আগে বাড়ি ফিরে পিআইও অফিসে চাকুরী করতে থাকে। চাকুরী বা দুর্নীতি নয় হঠাৎ করে হালিম আকন্দ অর্থ ও জমি-বাড়ির মালিক হয়েছেন গুপ্তধন পেয়ে। হালিম গুপ্তধন পেয়ে জমি ও বাড়ির মালিক হয়েছেন তা জানা আছে এলাকাবাসীর।
এসব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয় জানতে বৃহস্পতিবার বিকেলে পিআইও’র কার্যালয়ে যান প্রতিবেদকসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা। এসময় অভিযোগের বিষয় জানতে প্রশ্ন করতে উত্তেজিত হয়ে উঠেন পিআইও নুরুন্নবী আকন্দ। এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিকের হাতে ক্যামেরা দেখে আরও উত্তেজিত হয়ে উঠেন। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং চেয়ার থেকে উঠে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। শুধু তাই নয়, নিজের দাপট আর দাম্ভিকতা দেখিয়ে সাংবাদিকদের সামনে সিগারেট ধরিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। তবে হালিম আকন্দ অফিসের কেউ নয় বলে অস্বীকার করলেও অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, স্যাররা যখন যে কাজ করতে বলেন তাই করি। কয়েক বছর ধরে গরুর ব্যবসা করেই জমি ও বাড়ি মালিক হয়েছেন।
পিআইও নুরুন্নবীর এসব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয় জানা আছে স্থানীয় প্রশাসনের। জুন ক্লোজিং এ কাজ না করে ৬ কোটি টাকা উত্তোলনে অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসককে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছোলেমান আলী। এছাড়া পূর্বের অভিযোগে বিষয়ে সংশি¬ষ্ট দপ্তর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
এদিকে, পিআইও নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগেই পিআইও’র বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের ঘটনা ঘটে। কিন্তু কেন তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থ নেয়া হয়নি তা জানা নেই। তবে ইতোমধ্যে পিআইও’র বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়গুলো অবগত হয়েছি। দ্রুত এসব খতিয়ে দেখাসহ সংশি¬ষ্ট দপ্তরকে অভিযোগগুলো অবগত করা হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft