সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
আল আমিন হত্যা মামলায় সাক্ষী হলেন মৃত ব্যক্তি!
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা :
Published : Sunday, 8 September, 2019 at 8:29 PM
আল আমিন হত্যা মামলায় সাক্ষী হলেন মৃত ব্যক্তি!ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আল আমিন হত্যা মামলায় ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ চেয়ে না পাওয়ায় মৃত ব্যক্তি ও বিদেশে থাকা লোককে সাক্ষী করে একটি সম্পূরক চার্জশিট দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশনের ইন্সপেক্টর মো. হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও এ মামলার আরও ২৪ স্বাক্ষী আদালতে হলফনামা দিয়ে বলেছেন, তারা কোন সাক্ষ্য না দিলেও তাদেরকে সাক্ষী হিসেবে দেখিয়েছেন তদন্তকারী ওই কর্মকর্তা।
রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ সব অভিযোগ করেন এ মামলার আসামি নবীনগরের বিদ্যাকুট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, তার কাছে ঘুষ চেয়ে ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন এই টাকা ডিআইজিসহ সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দিতে হবে। এ ঘটনায় তাকে ঘুষ বাবদ দু’বার ৬০ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, পিবিআই’র তদন্তকারী কর্মকর্তা মোট ৩৯ জনের জবানবন্দী গ্রহণ করেন। এর মধ্যে বিদ্যাকুট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রউফ (৭৩) অন্যতম। ২০১৮ সালের ২রা নভেম্বর আবদুর রউফ ইন্তেকাল করলেও সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দী নেয়ার তারিখ দেখানো হয়েছে ২০১৯ সালের ৩১শে জানুয়ারি। অর্থাৎ তার মৃত্যুর ২ মাস ২৯ দিন পর তার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। আরেকজন মেরাকুটা গ্রামের অজন্ত কুমার ভদ্র (৬৬) এর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৯ সালের ৩১ শে জানুয়ারি। কিন্তু তিনি বৈধ পাসপোর্টে ২০১৯ সালের ৯ই জানুয়ারি ভারত যান। দেশে ফেরেন ৮ই ফেব্রুয়ারি। এছাড়া ২৪ জন সাক্ষী আদালতে এফিডেভিট জমা দিয়েছেন- এই বলে যে, তারা পিবিআই’র ওই কর্মকর্তার কাছে কোন রকম সাক্ষ্যই দেননি।
নবীনগরের শিবপুর ইউনিয়নের বাঘাউড়া গ্রামে ২০১৫ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে আল আমিন (২২) নামে এক যুবক খুন হন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা কসবার খাড়েরা ইউনিয়নের সোনারগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বাদী হয়ে নবীনগর থানায় ১০ জনকে এজাহারনামীয় এবং ২-৩ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় পাশ্ববর্তী সেমন্তঘর গ্রামের আবদুল হান্নান ভূঁইয়া, তার ছেলে পলাশ (ইফতেখার মাহমুদ) সহ মোট ৫ জনকে আসামি করা হয়।
হত্যা মামলাটির সর্বশেষ তদন্ত করে পিবিআই। এর আগে প্রথমে সিআইডি এবং এরপর গোয়েন্দা পুলিশ এই মামলার তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ দু’টি সংস্থার তদন্তেই প্রকাশ পায় আবদুল হান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে আল আমিনের ভগ্নিপতি জাকির হোসেনের জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধ রয়েছে। আবদুল হান্নাকে শায়েস্তা করতে নিজের শ্যালককে হত্যা করে জাকির হোসেন। এরপর আবদুল হান্নান, তার ছেলেসহ ১০ জনকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়।
দু’টি সংস্থার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার আগের দিন ২০১৫ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি নিহতের স্ত্রী ইতির নানী বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায় আল আমিনের ভগ্নিপতি জাকির ও তার সহযোগী শাওন, বিল্লাল ও মোবারক। খাওয়ার পর জাকির ইতিকে ঘুমের ওষধ মিশ্রিত দু’টি সিঙ্গারা খেতে দিয়ে আল আমিনকে নিয়ে পাশের বাড়িতে নাছির ফকিরের মাহফিলে চলে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে তাকে হত্যা করে।
এরপর লাশ গ্রামের একজনের বাড়িতে ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর প্রেক্ষিতে সিআইডি এবং গোয়েন্দা পুলিশ জাকির হোসেন (৩৮), তার সহযোগি বিল্লাল (৩৭), শাওন ওরফে রানা (৪২), মোবারক মিয়া (৩৬) এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগপত্র দেয়। অন্যদিকে পিবিআই এ ৪ জনকে নির্দোষ বলে তাদের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে। এমনকি সিআইডি’র প্রথম দিকের তদন্তে ঘটনায় জড়িত যে ৬ জনের নাম প্রকাশ পায় তাদেরকে সাক্ষী বানিয়ে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই।
সাংবাদিক সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ খানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন আবদুল হান্নান ভূঁইয়া।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft