সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
কলাপাড়ায় স্লুইস গেটগুলো মুখে পলি ভরাট
পাউবোর শতকোটি টাকার সম্পদ বেদখল
এইচ,এম,হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Monday, 9 September, 2019 at 5:05 PM
পাউবোর শতকোটি টাকার সম্পদ বেদখল   পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত স্লুইস গেটগুলো মুখে পলি ভরাট। এজন্য স্লুইস গেট এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। নষ্ট হচ্ছে স্লুইজ গেটের পাকা ভবন। কোনটি বিধ্বস্ত দশার ভবন রয়েছে, কিন্তু দরজা-জানালার কাঠ পর্যন্ত নেই। কোনটির দেয়ালের ইটসহ ছাদের পলেস্তরা পর্যন্ত উধাও হয়ে গেছে। এমনকি ভবন নির্মাণ কিংবা খালাশি বসবাসের জন্য অধিগ্রহণ করা জমি পর্যন্ত বেহাত হয়ে গেছে। আর পলি পড়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পানি প্রবাহ খালগুলো। সরকারের নজরদারির অভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনে অরক্ষিত থাকায় এসব ভবনের এখন চরম জীর্ণদশা। পলেস্তরাসহ মূল ভবন পর্যন্ত ধসে পড়ছে। খালাশি ভবন পরিত্যক্ত, বিধ্বস্ত দশায় রয়েছে। একই দৃশ্য ১২টি ইউনিয়ন ২টি পৌর এলাকায়। অধিকাংশ স্লইসগেট নিয়ন্ত্রণ করছে সরকারী দলের একটি প্রভাবশালী মহল। তারা জাল পেতে মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করে স্লুইস।   
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫৯ বছর আগে ১৯৬০ সালে অর্থ বছরে বর্তমান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, তৎকালীন নাম (ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার ডেভেলপমেন্ড অথরিটি) উপজেলায় ৯০টি স্লুইজ গেট ও সেখানে বস বাসের জন্য একটি করে বাস ভবন নির্মান করে। ৯০টি স্লুইজ গেট বস বাসের জন্য ১৫ -৫০ শতাংশ জায়গা দেয়া হয় বাস ভবন নির্মান চলাচল করা জন্য। তখন স্লুজের সংখ্যা ছিল ১১৯টি। ওই সময় স্লুইজ গেটগুলো পুরোপুরি সচল থাকায় সুষ্টভাবে পানি নিস্কাশন হতো। তখন এলাকায় ব্যাপক ফসলের সমারোহ ছিল। এলাকার কোথাও কোনো জলাবদ্ধতা ছিল না।    
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ষাটের দশকের পরে নদী ও খালের লোনা জলের প্রবেশ ঠেকাতে উপজেলায় গোটা উপকূলে করা হয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে মানুষের প্রাণহানি রক্ষায় এবং কৃষিকাজের স্বার্থে এই বাঁধ করা হয়। এর পরেই ষাটের দশকের মাঝামাঝি বাঁধের অভ্যন্তরের খালের সঙ্গে পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে করা হয় স্লুইসগেট। এর মধ্যে ড্রেনেজ স্লুইস ও ফ্লাসিং স্লুইসের সংখ্যা ১১৯টি। শতাধিক স্লইসগেট রক্ষণাবেক্ষণসহ কৃষকের স্বার্থে পানি ওঠা নামানোর যথাযথ তদারকির জন্য স্লইসগেট সংলগ্ন এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়। নিয়োগ করা হয় খালাশি।  পাউবোর শতকোটি টাকার সম্পদ বেদখল
বর্তমানে উপজেলায় অধিকাংশ স্লুইজের মুখে ও নদী- খাল পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। এ কারনে প্রতি বছর পানি জমে ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এ এলাকার স্লুইস গেটগুলো পলি জমে মাটির নিচে দেবে যাচ্ছে। পাউবো কর্তৃপক্ষ ওই সব সম্পদ রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সরকারি কোনো প্রতিষ্টানই স্লইজ গেটের দিকে নজর দেয়নি। ফলে কোটি টাকার মুল্যবান জমি স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিচ্ছে। প্রতি বছর পাবোর জমি একসনা বন্দোবন্ত (ডিসিআর) নেওয়ার নিয়ম থাকলেও সেটি অজ্ঞত কারনে বন্ধ রয়েছে। যে কারনে লাক লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা স্লুইজের গেট মুখে পলি পড়ে এর সংযোগ খাল গুলো বর্তমানে পলি ভরাট হয়ে ভুমিতে পরিনত হয়েছে। এর সংযোগ খালগুলো প্রভাবশালীরা বাঁধ দিয়ে ছোট ছোট মিনি  পুকুর তৈরি করা হয়েছে। নয়াকাটা স্লুইজ খালটি মিলছে বাবলাতলা স্লুইজের সঙ্গে ও পক্ষিয়াপাড়া স্লুইজের সাথে পানি প্রবাহমান ছিল সেখানে নয়াকাটা স্লুইজের খালটি কিছু অংশ প্রভাবশালীরা খাল দখল ছোট ছোট পুকুর তৈরি করা হয়েছে। ফলে এলাকায় দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। আশির দশকের পুর্বে স্লুইস খালাশি ছিল তখন খালিরাই জোয়ার ভাটায় পানি ওঠানোর নামানোর ব্যবস্থা করতেন। কিন্তু আশির দশকের মাঝামাঝি সময় স্লুইস খালাশি নিয়োগ প্রক্রিয়া ১৯৯৮ সালে বন্ধ করে দেয় তৎকালীন সরকার। ফলে অবসরে যাওয়ার পর থেকে খালাশি ভবনগুলো পরিত্যক্ত হতে থাকে। এক পর্যায়ে সকল খালাশির পদ শুন্য হয়ে যায়। অরক্ষিত হয়ে যায় স্লুইসগেট। অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে কৃষকের স্বার্থে করা স্লুইসগেটসহ অভ্যন্তরীণ খালের পানি ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম। এখনই এসব রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়াসহ ফের স্লুইস খালাশি নিয়োগ দেয়ার দাবি কৃষকসহ সাধারণ মানুষের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড  কলাপাড়া পাউবোর নির্বাহী  প্রকৌশলী খান মো. ওয়ালিউজ্জামান জানান, কোনো ইউপি চেয়ারম্যান বলেন তার স্লুইজগেট পানি উঠানো নিয়ে সমস্যা তা হলে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাকে সভাপতি ও পাউবো একজনকে সদস্য সচিব এবং চেয়ারম্যানকে সদস্য ও স্কুল শিক্ষক কে সদস্য, কৃষি কর্মকর্তাকে প্রতিনিধি ও ২জন কৃষক কে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হবে। তিনি আরো জানান, পরিত্যক্ত খালাশি ভবনগুলোসহ অধিগ্রহণকৃত জমি উদ্ধারে কাজ করা হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft