বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯
স্বাস্থ্যকথা
স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় নিরামিষভোজীদের যে ডায়েট
কাগজ ডেস্ক :
Published : Monday, 16 September, 2019 at 4:49 AM
স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় নিরামিষভোজীদের যে ডায়েটহৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে আজকাল অনেকেই রেড মিট বাদ দিয়ে নিরামিষ খাবারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কিন্তু সম্প্রতি এক ব্রিটিশ গবেষণায় দেখা গেছে, নিরামিষভোজীদের ডায়েট হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিলেও তা বাড়িয়ে দেয় স্ট্রোকের ঝুঁকি।
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়, প্রতি এক হাজার জনের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে নিরামিষভোজীদের মধ্যে করোনারি হৃদরোগীর সংখ্যা আমিষভোজীদের তুলনায় ১০ জন করে কম পাওয়া গেছে। কিন্তু স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে নিরামিষভোজীদের মধ্যে এমন সংখ্যা তিনজন করে বেশি পাওয়া গেছে।
গত ১৮ বছর ধরে ৪৮ হাজার মানুষের উপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে।
আর ডায়েট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনি আমিষ বা নিরামিষ যাই খান কেন, বিভিন্ন ধরণের বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো। কেবল এক ধরনের খাবার খেলে তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, তা যতই আপনি মাছ-মাংস বাদ দেন না কেন।
এপিক-অক্সফোর্ড স্টাডি মূলত একটি দীর্ঘ মেয়াদি গবেষণা প্রকল্প যা দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্য নিয়ে পরীক্ষা চালায় তাদের তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই গবেষণায়।
১৯৯৩ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অর্ধেকই ছিলেন মাংসাশী। ১৬ হাজারের কিছু বেশি ছিলেন নিরামিষভোজী। আর সাড়ে সাত হাজার অংশগ্রহণকারী জানান যে তারা আহার হিসেবে মাছ খেতেন।
অংশগ্রহণের সময় এবং ২০১০ সালে আবার নতুন করে এসব অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় তাদের স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য, ধূমপান এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডের বিষয়গুলোও আমলে নেয়া হয়েছিলো।
সব মিলিয়ে, করোনারি হৃদরোগ বা সিএইচডি'র সংখ্যা ছিলো ২৮২০টি। আর স্ট্রোকের সংখ্যা ১০৭২টি, যার মধ্যে ৩০০টি মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ জনিত স্ট্রোকের ঘটনাও রয়েছে। মস্তিষ্কের দুর্বল শিরা ছিড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে এ ধরণের স্ট্রোক হয়।
মাংসাশীদের তুলনায় মাছ ভোজীদের মধ্যে সিএইচডি'র ঝুঁকি ১৩ ভাগ কম ছিলো। আর নিরামিষভোজীদের মধ্যে এই হার ২২ভাগ কম ছিলো।
তবে নিরামিষভোজীদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি ২০ ভাগ বেশি ছিলো। গবেষকদের ধারণা, ভিটামিন বি১২ এর অভাবের কারণে এই ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদিও এ নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে রাজি নন ব্রিটিশ গবেষকরা। এর প্রকৃত কারণ খুঁজে পেতে হলে আরো গবেষণার দরকার রয়েছে বলে অভিমত তাদের।
তারা বলছেন, এমনও হতে পারে যে, খাদ্যাভ্যাসের সাথে আসলে এর কোন সম্পর্ক নেই। বরং যারা মাংস খায় না তাদের জীবনের অন্যান্য কারণের জন্যই হয়তো এই ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
তবে তাদের পরামর্শ হচ্ছে, কেবল এক ধরনের খাবার খাওয়া কারো জন্যই স্বাস্থ্যপ্রদ নয়। বরং সবচেয়ে ভালো হয় একটি পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন ধরণের খাবার খাওয়া উচিত।
যা খাওয়া উচিত
স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে খাবার সম্পর্কিত একটি নির্দেশিকা দিয়েছে ব্রিটিশ জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, যার নাম ‘ইট ওয়েল গাইড’। যে ধরনের খাবারই খান না কেন, আপনার খাবার প্লেটে নিচের খাবারগুলো থাকাটা জরুরি।
দিনে কমপক্ষে ৫ ভাগ ফল এবং শাক-সবজি খেতে হবে
মূল খাবার হিসেবে উচ্চ মাত্রায় আঁশ সম্পন্ন এবং শ্বেতসার বহুল খাবার যেমন আলু, রুটি, ভাত কিংবা পাস্তা রাখা উচিত
প্রোটিন হিসাবে রাখতে পারেন চর্বিহীন মাংস, মাছ, সামুদ্রিক খাবার, ডাল, তফু কিংবা লবণহীন বাদাম
থাকতে হবে দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবারও
উচ্চ মাত্রায় চর্বিযুক্ত খাবার, চিনি কিংবা লবণ যত কমানো যায় ততই ভালো
তবে যারা নিরামিষভোজী তাদের নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি গ্রহণ সম্পর্কে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কেননা যারা মাংস, দুগ্ধজাত খাবার এবং মাছ খায় তারা পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ পায় যা স্বাস্থ্যকর রক্ত এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয়। তাই যারা মাংস খান না তাই তাদের নিশ্চিত করতে হবে যা থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন পাওয়া যায়। যেমন- গমের রুটি, আটা, শুকনো ফল ও ডাল। নিয়মিত খেতে হবে এসব খাবার।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft