বুধবার, ২৭ মে, ২০২০
সারাদেশ
পীরগঞ্জে ১১ বছর ধরে শিকল বন্দি মুন্না
টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ
এন এন রানা, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি :
Published : Tuesday, 17 September, 2019 at 9:12 PM
পীরগঞ্জে ১১ বছর ধরে শিকল বন্দি মুন্নাঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট  গ্রামে তার বাড়ি। সেখানে তার বাড়িতে শিকলবন্দী  অবস্থায় জীবন যাপন  করছেন মুন্না। তার মা মনোয়ারা বেগম জানান, অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা করাতে পারেনি। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় গত কয়েক বছর থেকে সে এলাকাবাসীর বিভিন্ন লোকসান করে। কারো গরু ছাগল মারধর, মানুষ মারধর, অনেকের সবজি-ক্ষেত নষ্ট করে। মেয়ে মানুষ দেখলে ঝাপটে ধরার চেষ্টা করে এমনকি নিজের পরিবারের লোকজনদের কাছে পেলে আঘাত করার চেষ্টা করে। এজন্যই পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে তাকে।
৭বছর বয়সে হঠাৎ করেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে মনোয়ারুল ইসলাম মুন্না। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা করা হলে কিছুদিন সুস্থ থাকার পর আবার আগের মতো অসুস্থ হয়। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে আর চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি মুন্নার। তার বয়স বর্তমানে ১৮ বছর। ১১ বছর ধরে পায়ে শিকল দিয়ে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে বারান্দার খুঁটির সাথে। পীরগঞ্জ উপজেলা ইউএনও এ ডব্লিউ এম রায়হান সাহের সহযোগিতায় পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করলে কিছুটা সুস্থ হলেও পুরোপুরি ভালো হচ্ছেনা তার মানসিক রোগ। পাবনা মানসিক হাসপাতালে তার অবস্থার উন্নতি না দেখে তাকে সেখান থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন তার পরিবার। সোমবার সকাল সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের চালার একটি ঘরের বারান্দায় শিকল পাঁয়ে মাটিতে বসে আছে মুন্না। শরীরে শুধু পেন্ট পরা আর কোন কাপড় নেই। ৩ বোনের মধ্যে মুন্না  সবচেয়ে বড়। তাঁর বাবা মুনসুর আলী (৫৫) একজন সামান্য গরু ব্যবসায়ী।
বর্তমানে পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তার বাবা মুনসুর আলী । মুনসুর বলেন, সামান্য একজন গরুর দালালির কাজ করি আমি। কাজ না থাকলে আমি দিনমজুরের কাজ করি। দৈনিক ৩০০-৩৫০টাকা আয় করে এই টাকা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব। তার ছেলে  মুন্নার চিকিৎসা করবো কিভাবে। তারপরেও সে টাকা দিয়ে বিভিন্ন ভাবে তার চিকিৎসা করছি। দৈনিক ১০০ টাকার ঔষুধ লাগে মুন্নার। অবশিষ্ট টাকায় সংসারের খরচ চালাই। এভাবেই কষ্টের মধ্যে চলছে আমাদের সংসার জীবন। অর্থের অভাবে পুরোপুরি ভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে না পেরে ছেলেকে শিকলে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। আমি বাবা হয়ে আর ছেলের কষ্ট সইতে পারিনা। সরকারিভাবে আমাদের কোন ভাতাও দেওয়া হচ্ছে না। যদি ভিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসতো ও সহযোগিতা পেলে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ পরিবারের খরচ চালাতে পারতাম। প্রতিবন্ধী মুন্নার চিকিৎসা এবং পরামর্শ আশা করেন তার অসহায় বাবা। তিনি সরকারি সহায়তা চান ছেলের চিকিৎসার জন্য।
এ ব্যাপারে ১০নং জাবরহাট ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন,তার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। মুন্নাকে চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এখন যে কি অবস্থা জানিনা। খবর নিয়ে জানাতে পারবো।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft