বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরের মহাসড়ক উন্নয়ন ও ভৈরব খনন স্বচ্ছ করতে স্মারকলিপি
হাজার কোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ
জাহিদ আহমেদ লিটন :
Published : Wednesday, 18 September, 2019 at 6:04 AM
হাজার কোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগযশোরে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যশোর-খুলনা-বেনাপোল মহাসড়ক সংস্কার কাজ ও ভৈরব নদ খননে এ অনিয়মের অভিযোগ করেছেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তারা এসব কাজ দরপত্র অনুযায়ী করার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
মঙ্গলবার নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠক ও স্মারকলিপি দিয়েছেন।  
যশোর-খুলনা মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটার উন্নয়নে ৩২১ কোটি টাকা ও যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ৩৮ কিলেমিটার উন্নয়নে ৩২৮ কোটি টাকা সরকার প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ দেয়। যার মোট উন্নয়ন বরাদ্দ হচ্ছে ৬শ’৪৯ কোটি টাকা। সড়ক উন্নয়নে এতবেশি রেকর্ড পরিমান বরাদ্দের টাকা আগে কখনো যশোরে আসেনি। সড়ক দুটিই নতুন করে ডাবল লেনে উন্নিত হচ্ছে। যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের পরিচালনায় ও তদারকিতে উন্নয়ন কর্মকান্ড চলছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ১৭ অক্টোবর বেনাপোল সড়কের কাজের ওয়ার্কওডার দেয় সড়ক বিভাগ। এরআগে ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ খুলনা সড়ক উন্নয়ন কাজের ওয়ার্কওডার দেন কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই মহাসড়ক দুটির উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। দুটি সড়কের কাজ সমাপ্তির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর।
যশোরের আলোচিত এ দুটি মহাসড়ক দুটি প্যাকেজে উন্নয়নের কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ও খুলনার তাহের অ্যান্ড ব্রাদার্স, মাহবুব এন্ড ব্রাদার্স ও তমা কনস্ট্রাশন এন্ড কোং। শুরু থেকেই মহাসড়ক দুটির পাশে বসবাসকারী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। একইসাথে দরপত্রের কোন নিয়ম মানছেন না ঠিকাদার। তারা ইচ্ছামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সড়কটি ৫ ফুটের স্থলে ৩ থেকে ৪ ফুট গর্ত করা হয়েছে। পুরনো ইটের খোয়া ও নি¤œমানের বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। একইসাথে সড়কটি নির্ধারিত উচ্চতার চাইতে দু’থেকে আড়াই ফুট উচুঁ করা হয়েছে। যা নিয়ে সড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
যশোরের আলোচিত ভৈরব নদ খনন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির রশি টানাটানিতে থমকে রয়েছে।
২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে এ প্রকল্পে ২৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে নদ খননের টার্গেট নিয়ে ১ জুলাই ২০১৭ সালে খনন কাজে হাত দেয়া হয়। ২০১৯ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা বেধে দেন পাউবো কর্তৃপক্ষ। এ কাজে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাড়ায় নদের ১শ’ ১৮টি অবৈধ স্থাপনা। এসব অবৈধ স্থাপনার আংশিক উচ্ছেদের পর ২০১৮ সালের মার্চ মাসে খনন কাজ শুরু হয় সদর উপজেলার কনেজপুর গ্রাম থেকে। এরপর ফতেপুর, ঘোড়াঘাছা ও রাজারহাট অংশে নদের ৮০ ভাগ খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন। কিন্তু খনন কাজের শুরু থেকেই জনগণ দাবি করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সঠিক পন্থায় কাজটি করছে না। তারা দরপত্রের নিয়ম মানছেন না। ইচ্ছামত নদের সাইড থেকে কোনমতে মাটি কেটে পাড়ে তুলে, পাড় বাধাই করার মাধ্যমে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে।
যশোরের তিনটি প্রকল্পের হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের শুরু থেকেই অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের নেতৃবৃন্দ। ইতোমধ্যে তারা টিম গঠন করে যশোর-বেনাপোল ও যশোর-খুলনা মসহাসড়ক এবং ভৈরব নদ খনন স্থল পরিদর্শন করেছেন। নেতৃবৃন্দ এসব অনিয়মের তথ্য উপস্থাপন করেছেন যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌাশলী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে। কিন্তুকোন ফলাফল আসেনি।
এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার যশোর নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফের সাথে বৈঠক করেন এবং এ বিষয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় সংগঠনের আহবায়ক মাস্টার নূর জালাল জেলা প্রশাসককে রেকর্ড সংখ্যক টাকার এসব বরাদ্দের অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং তিনি এর প্রতিকার দাবি করেন। একইসাথে নেতৃবৃন্দ দরপত্র অনুযায়ী কাজ করার দাবি জানান। পরে জেলা প্রশাসক আশ্বাস দেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন এবং যাতে দরপত্র অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিদুল হক খান শিলু, আলী জাহাঙ্গীর, বোরহানুস সুলতান, কামরুজ্জামান চৌধুরী, আহসানুল্লাহ ময়না, ইকবাল আনোয়ার, সমন্বয়ক মাসুদুজ্জামান মিঠু প্রমুখ।
সড়ক উন্নয়ন কাজের ব্যাপারে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সড়ক বিভাগ যশোরের প্রধান দুটি সড়কের উন্নয়ন কাজে কোন ছাড় দিচ্ছে না। তারা যথাযথ তদারকি করছেন। সব সময় এ কাজের সাথে থাকছেন দু’জন ইঞ্জিনিয়ার ও তিনি ঝটিকা সফরে গিয়ে কাজের মান যাচাই করছেন। তারপরও যদি কোন সমস্যা হয়ে থাকে তিনি তার যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft