বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯
জাতীয়
বাংলাদেশে আরও ৬ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকতে পারে
কাগজ ডেস্ক :
Published : Wednesday, 18 September, 2019 at 6:17 PM
বাংলাদেশে আরও ৬ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকতে পারেমিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যা, নিপীড়ন, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে রাখাইন ছেড়ে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত ও সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশছাড়া বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বৈশ্বিক দৃষ্টিতে মানবিকতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যাপারে সব প্রস্তুতি নিয়েও দ্বিতীয় দফায়ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থেমে গেল।
ঠিক এমন সময় জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যে এখনও আরও ৬ লাখের মতো রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
সংস্থাটির এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন করে বাংলাদেশের জন্যও শঙ্কা আরও বেড়ে গেলো। কারণ, জীবনের নিরাপত্তা গণহত্যার মুখ থেকে বাঁচতে যেকোনও সময় এই ৬ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশ অভিমুখে ঢল নামতে পারে। যদিও এখনও তেমন কোনও আলামত পাওয়া যাচ্ছে না।
গেল সোমবার জাতিসংঘের তদন্তকারী একটি মিশনের দেয়া প্রতিবেদনে রাখাইনে ৬ লাখ রোহিঙ্গার গণহত্যা ঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
ইতোমধ্যে মিয়ানমার থেকে বিতারিত হওয়া ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনকে ‘প্রায় অসম্ভব’ উল্লেখ করে জাতিসংঘের তদন্তকারী দলটি বলছে, ‘মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি খুব নাজুক। বিশেষত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে। সেখানে লাখ লাখ রোহিঙ্গা এখনও গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে। এই অবস্থায় বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে থাকা এত সংখ্যক রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার এখন হয়তো কিছুতেই ফেরত নিতে চাইবে না।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের তিন সদস্যের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি জেনেভায় উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
এর আগে গেল বছর জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ২০১৭ সালে রাখাইনে পরিচালিত দেশটির সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা নিধন অভিযানকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করে সেনাপ্রধানসহ সামরিক কর্মকর্তাদের বিচারের আহ্বান জানানো হয়।
রাখাইনে শুধু মিয়ানমার সেনাবাহিনীই নয়, তাদের সহযোগী হিসেবে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, নির্যাতন, জ্বালাও-পোড়াও করে স্থানীয় উগ্রপন্থি রাখাইন বৌদ্ধরা।
গেল বছরের জাতিসংঘের সেই প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে জেনেভায় ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি দারুশম্যান বলেন, ‘এই গণহত্যা যুদ্ধাপরাধের শামিল। এখনও সেখানে সেনাবাহিনীর বন্দুকের মুখে আছে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা।’
এ অবস্থায় ‍বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিপরীতে নতুন করে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
২০১৭ সালের আগস্টের মাঝামাঝি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নিধনযজ্ঞ চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এর পর জান ও মানের ভয়ে অকুলপাথার পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। নতুন করে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা ‍বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে সাড়ে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী রয়েছে।
এ ব্যাপারে মারজুকি দারুশম্যান বলেন, ‘রাখাইনে মিয়ানমার সেনাদের গণহত্যা ও সেটি পরিচালনার অভিপ্রায়ের সব ধরনের প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। যুগের পর যুগ মিয়ানমার সেনারা এই পাশবিক অত্যাচার, নির্যাতন-নিপীড়ন চালালেও তাদের কোনও বিচায় হচ্ছে না এখনও।’
এদিকে নতুন করে রাখাইনে যে ৬ লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার ঝুঁকিতে পড়েছে, তারা যদি বাংলাদেশ অভিমুখে যাত্রা শুরু করে করে তবে কি আগের মতোই সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেবে বাংলাদেশ? নাকি যেকোনও মূল্যে নতুন করে রোহিঙ্গা প্রবেশ ঠেকাবে?




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft