বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
বাঁচার কথা বলে হাঁটার সাথী
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Thursday, 19 September, 2019 at 6:10 AM
বাঁচার কথা বলে হাঁটার সাথী সুস্থ দেহ ও মনন গঠনে কেউ ফজরের নামাজের পরপরই, কেউ আবার কাক ডাকা ভোরে দূর্বার গতিতে হেঁটে চলেন। ষাট বছরের বৃদ্ধ হয়ে ওঠেন ১৮ বছরের যুবক। আর এমনই কয়েক শত স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের সংগঠন হাঁটার সাথী যশোর।
যশোর পৌর পার্ক কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা এই সংগঠনটি ২০১৭ সালে আত্মপ্রকাশ করে। এখন বিশাল ব্যাপ্তির জানান দিয়েছে গোটা যশোরে। বিশিষ্ট অর্থোপেডিক ডাক্তার আব্দুর রউফ ও গাইনী কনসালট্যান্ট রবিউল ইসলামের নেতৃত্বাধীন হাঁটার সাথীর মুলমন্ত্র স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে শরীর, মন সবকিছুই ঠিক। মন মেজাজ সতেজ ও ফুরফুরে থাকে, কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং সমস্ত কাজে-কর্মে গভীর মনোসংযোগ থাকে। মস্তিস্ক শীতল থাকে বিধায় যে কোন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিজেকে সংযত রেখে সঠিক সময়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। যেকোনো বয়সেই শরীরচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাস্থ্য ও শরীর সচেতন লোকজনের মধ্যে হাঁটা একটি অত্যন্ত উপকারী ও জনপ্রিয় শরীরচর্চা বিষয়ক কসরত।
ভোর ৬ টায় যশোর পৌর পার্কে উপস্থিতি। আধাঘন্টা পার্কের বাউন্ডারী জুড় কয়েক পাক হাঁটার পর ঘড়ির কাটায় যখন সাড়ে  ৬ টা তখন সকলের প্রিয়মুখ রঘু দা, জলিল ভাই, আলম ভাই কিংবা তারু ভাইয়ের উচ্চ স্বরের ব্যায়ামের ধ্বনী জড়ো করে দেয় হাঁটার সাথীর বন্ধুদের। এরপর শুরু ৩০ থেকে ৪০ ধরণের ব্যায়াম। স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষ এখন কতো না সচেতন! প্রাইমারি স্কুলের গন্ডি পেরোনোর সময় স্কুলের আঙ্গিনায় যেমনটি লাফালাফি ছিলো, সেই ছেলেটি এখন মধ্য বা জীবনসায়াহ্নে এসেও তেমন ছুটোছুটি করতে পেরে দারুণ লাগে। দুনিয়ার এ সুন্দর মায়া ধরে রাখতে কার না ভাল লাগে। জন্ম যখন হয়েছে মৃত্যু তো অবধারিত। কিন্তু সেটাকে ধরে নিয়ে আনমনা হয়ে বসে থাকলে কী চলবে? সে সত্যকে মেনে নিয়েই সুন্দর এ পৃথিবীতে আরো সুন্দরভাবে মুহূর্তগুলোকে কাটানোর জন্য ব্যাকুলতা। যে ক’দিন বেঁচে থাকা, ভালভাবে বেঁচে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। এমনই মানসিকতা পোষণ করেন হাঁটার সাথীর সব সদস্য।
নিজেদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার পাশাপাশি হাটার সাথী নানা সামাজিক ও মানবিক কাজও করে থাকে। হাঁটাহাটির যে কতো উপকারিতা তার কি কোনো শেষ আছে! সকালের হাঁটাহাঁটিতে যেমন একটা প্রফুল্ল ও প্রশান্তির সুন্দর আবহ নিয়ে দিনকে শুরু করা যায়, তেমনি তা মস্তিস্কের সেলকে উদ্দীপ্ত করে মানুষকে অধিক জ্ঞানী করে তোলে। হাঁটা সবার হৃদয়কে শক্তিশালী করে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ভিটামিন-ডি ব্যাপ্তিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, এটি শরীরে ভালবোধের হরমোন বৃদ্ধি করে, মানসিক ক্ষয়রোধকে প্রতিরোধ করবে, খাদ্য হজমে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করে, গভীর ঘুমের জন্য অত্যন্ত কার্যকরি, উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা নিবারণে এর জুড়ি নেই, গ্লুকোজ কমিয়ে ডায়াবেটিকস্কে সহনীয় মাত্রায় রাখা, মোটকথা একজন মানুষকে সুখী রাখার মন্ত্র দেয় হাঁটার সাথী যশোর।
সম্প্রতি ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়ে একটি সেশনের আয়োজন করে হাঁটার সাথী যশোর। পৌরপার্কে বিশেষজ্ঞ দু’ডাক্তার নিয়ে এ আয়োজন ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধি করে ডেঙ্গু ইস্যুতে। আবার প্রতি বছরই বিনামূল্যে ক্যাম্প করে ডায়াবেটিক চিকিৎসা দেয়া হয়। সর্বশেষ গত ঈদের আগে ভারত থেকে যোগ ব্যায়ামবিদ সমীর মিত্রকে আনে হাঁটার সাথী যশোর। তিনি পর পর ৩ দিন হাটার সাথীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেন। শিখিয়ে যান বজ্রাসন, ভদ্রাসন, গোমূর্খাসন, উস্ট্রাসন। এগুলো ভারতের কয়েকটি জনপ্রিয় যোগ ব্যায়ামের নাম। সমীর মিত্র হাঁটার সাথীকে বলে যান, ব্যায়াম মানুষের শরীর সুস্থ ও ফিট রাখা বা অতিরিক্ত স্থূলতা কমানোর যথাযথ পন্থা।
এ ব্যাপারে হাটার সাথী যশোরের সভাপতি ডাক্তার আব্দুর রউফ ও ডাক্তার রবিউল ইসলাম গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, হাঁটার উপকারের কোনো শেষ নেই। হাঁটা হলো সর্বোৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক ওষুধ। সুস্থ্য থাকার জন্য একজন মানুষকে রোজ ৪৫ মিনিট করে হাঁটা জরুরি। সপ্তাহে সাত দিন অথবা সপ্তাহে কমপক্ষে ছয় দিন করে চল্লিশ মিনিট অথবা কমপক্ষে একঘন্টা করে সপ্তাহে চারদিন হাঁটাহাটি করা যেতে পারে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে হাটা যেতে পারে। আর বেশি হাঁটাহাঁটির জন্য যাদেরকে কৃপণ ভাবি, আসলে তারাই সবচেয়ে বুদ্ধিমান পুরুষ বা বুদ্ধিমতি নারী। হাঁটার সাথীর পতাকাতলে সবাইকে আসার আহবান জানান এই দুই সংগঠক।
বেশ কিছু গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, শরীরচর্চা করার সময় আমাদের মস্তিষ্কের হিপোকম্পাস অংশটির ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে চোখে পরার মতো। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সে রিপোর্ট অনুসারে গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে স্মৃতিলোপ বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্মৃতিশক্তিকে আগলে রাখতে হাঁটাটা যে কতোটা প্রয়োজনের তা নিশ্চয় আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়া নিয়মিত ৩০ মিনিট শরীর চর্চা করলে এনার্জির ঘাটতি দূর হয়। সেই সাথে শরীর এবং মন এতোটাই চনমনে হয়ে ওঠে যে স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। ফলে শুধু কর্মক্ষেত্রে নয়, জীবনের প্রতিটি যুদ্ধে সফলতা পেতে কোনও বাঁধারই সম্মুখীন হতে হয় না।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], edi[email protected]
Design and Developed by i2soft