রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯
আন্তর্জাতিক সংবাদ
হামলার প্রমাণ পেশ, ইরানকে দায়ী করলো সৌদি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
Published : Thursday, 19 September, 2019 at 7:58 PM
হামলার প্রমাণ পেশ, ইরানকে দায়ী করলো সৌদিসৌদি তেল শোধনাগারে হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ প্রদর্শন করেছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এসময় তারা বলেছে, গত শনিবারের ওই হামলাটি হয়েছে উত্তর দিক থেকে, অর্থাৎ শনিবারের ওই হামলার পিছনে ইরানই জড়িত।
তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালযয়ের এই অভিযোগের জবাবে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান সরকার।
গত শনিবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি বৃহৎ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলার পর রিয়াদের তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। প্রথম দিন থেকেই ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছে সৌদি আরবের বন্ধু দেশ যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার জেদ্দ সফরের সময়ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানকে উদ্দেশ্য করে যুদ্ধের বার্তা দিয়েছেন।
তবে শুরু থেকেই সৌদি তেল শোধনাগারে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে ইরান সরকার। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এ হামলা দায় স্বীকার করেছে।
কিন্তু সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, আঠারোটি ড্রোন আর সাতটি ক্রুজ মিসাইল একটি জায়গা থেকেই ছোঁড়া হয়েছিলো কিন্তু এগুলো ইয়েমেন থেকে ছোড়া হয়নি।
বুধবার ওইসব ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ প্রদর্শনের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল মালকি বলেছে, এসব সমরাস্ত্র প্রমাণ করে যে, হামলা এসেছিলো উত্তর দিক থেকে এবং সেটি ‘প্রশ্নাতীতভাবেই ইরান দ্বারা পরিচালিত’।
তারপরেও যেখান থেকে হামলা হয়েছে সেই পয়েন্টটি চিহ্নিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সৌদি আরব।
যে সব ধ্বংসাবশেষ ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে তার মধ্যে ইরানের ইউএভি বা ড্রোন বিমানের 'ডেল্টা উইং' ছিলো বলেও দাবি করা হয়।
মালিকি দাবি করেন, কম্পিউটারে ইউএভি ডাটা পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে এটি ইরানের।
তিনি বলেন, ১৮টি চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) দিয়ে হামলা হয় আবকাইক তেল শোধনাগারে এবং সাতটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে আরো দুটি স্থাপনায়। এর মধ্যে চারটি খুরাইজ তেলক্ষেত্র ও তিনটি পড়ে আবকাইকে। যেসব ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে সেগুলো এসেছিলো উত্তর অভিমুখে।
তিনি এসময় ম্যাপ ও ক্ষয়ক্ষতির ছবিসহ আবকাইকে ড্রোন হামলার ভিডিও প্রদর্শন করেন।
তবে ঠিক কোথা থেকে হামলাটি এসেছে সে জায়গাটি এখনও চিহ্নিত করা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বের করা মাত্রই প্রকাশ করা হবে।
সৌদি আরবের এই অভিযোগের বিরুদ্ধে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। তবে বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে , ‘ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে তারা দ্রুত তার পাল্টা জবাব দেবে।’
সৌদি আরবের মতো একই অভিযোগ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। বুধবার জেদ্দায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তেলক্ষেত্রে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ইরাকের দিক থেকে হামলা হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ইরানই সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
শুরু থেকেই এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর প্রতিশোধ হিসাবে কোনো যুদ্ধে জড়ানোর পক্ষপাতী নন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, সামরিক সংঘাতে জড়ানো সহজ। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অভিজ্ঞতা হলো, যুদ্ধ শুরু হলে পরে এটি জটিল হয়ে উঠে। তবে এই হামলার পর ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন ট্রাম্প।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft