রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯
অর্থকড়ি
অস্বাভাবিকভাবে বেড়েই চলছে পেঁয়াজের দাম
অর্থকড়ি ডেস্ক :
Published : Monday, 30 September, 2019 at 4:55 PM
অস্বাভাবিকভাবে বেড়েই চলছে পেঁয়াজের দামঅস্বাভাবিকভাবে বেড়েই চলছে পেঁয়াজের দাম। গত কয়েকদিনে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম গড়ে প্রায় ৪০-৪৫ টাকা বেড়েছে। আর গতকাল (রোববার) ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার ঘোষণায় এই নিত্যপণ্যটির দাম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও একশ টাকার বেশি দামেও পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। মন্ত্রণালয় বলছে, পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তারপরও অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তাদের ধরতে মাঠে নেমেছে মনিটরিং টিম।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সেটি সরকারের নজরে আসায় তা নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং টিম মাঠে নামানো হয়। আর পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে ইতিমধ্যে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা দুই জাহাজ পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। সেটি আজই বাজারে পৌঁছে যাবে। তাই সরবরাহ কম এই অজুহাত দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফলে দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
এরআগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রফতানিতে ন্যূনতম মূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয় ভারত সরকার। এরপর থেকেই বেশি মূল্যে পেঁয়াজ আমদানি করে আসছে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। ফলে তখন থেকে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। সর্বশেষ গতকাল শনিবার পেঁয়াজের উৎপাদন সংকট দেখিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। আর এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খোলা বাজারে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কেজি প্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভারত সরকার নিজেদের রফতানি নীতি সংশোধন করে পেঁয়াজকে রফতানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় ঢুকিয়েছে। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকবে। তবে এ খবর পেয়েই দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এ সমস্যা বেশিদিন থাকবে না। মিশর, তুরস্ক ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত রফতানি বন্ধ করলেও বাজারে পেঁয়াজের সংকট হবে না। আর টিসিবি গতকালের তুলনায় আজ আরও ১৯টি পয়েন্টে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করবে।
এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে না পারলেও দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি হবে না। কারণ আমরা অন্যান্য আরো কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে মিয়ানমার থেকে দুই জাহাজ পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এসব পেঁয়াজ বাজারে আসলে আর সংকট থাকবে না। আমি মনে করি আজকের মধ্যেই পেঁয়াজের দাম কমবে।
তিনি জানান, আমাদের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মাঠে নেমেছে মনিটরিং টিম। তারা অবৈধভাবে পেঁয়াজ মজুত ও বাড়তি দামে বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের খবরে গতকাল রাত থেকেই দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। গত কয়েকদিনের ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় একধাপ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়ে একশ টাকা ছাড়িয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা। তারা বলছেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। দুইদিন আগেও বাজারে যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। একদিনের ব্যবধানে বাজার ভেদে সেই পেঁয়াজের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকায় আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সারাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর ঢাকার ৩৫টি পয়েন্টে আজ থেকে ৪৫ টাকা করে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি।
এ বিষয়ে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর মুখপাত্র হুমায়ূন কবির বলেন, হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীতে ৩৫টি পয়েন্টে আজ থেকে ৪৫ টাকা করে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। গতকাল পর্যন্ত ১৬টি পয়েন্টে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও আজ থেকে তা বাড়ানো হয়েছে। আমরা পেঁয়াজ মজুত রাখি না, সরাসরি সংগ্রহ করেই তা ট্রাকে  করে বিক্রি করি। সুতরাং পেঁয়াজ ঘাটতির সুযোগ নেই।
জানা গেছে, দেশের পেঁয়াজের চাহিদা ও জোগানের হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর চাহিদার ৬০-৭০ শতাংশ পেঁয়াজ দেশে হয়। বাকিটা আমদানি হয়। আমদানির প্রায় পুরোটুকুর উৎস ভারত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, আমদানি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯২ হাজার টন। ফলে চলমান সংকটে অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমাদানি করে ঘাটতি মেটানো যাবে কিনা সেটি পর্যালোচনা করছে সরকার।
এ বিষয়ে আমদানি ও রফতানি নিয়ন্ত্রণ দফতরের নিয়ন্ত্রক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ার জন্য নতুন করে কোন দেশ থেকে আরো বেশি পেঁয়াজ আমদানি করা হবে কিনা সে সিদ্ধান্তটি মন্ত্রণালয় থেকে আসে। মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা সেভাবেই ব্যবস্থা নেব। এ ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft