শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯
সম্পাদকীয়
মিয়ানমার এখন কী করবে?
Published : Wednesday, 2 October, 2019 at 6:32 AM
রাখাইনে জাতিগত নিধন চালিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করেছে মিয়ানমার। বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠী মিয়ানমার থেকে সৃষ্টি হয়েছে, যাদের অধিকাংশকেই পুরোপুরি মানবিক কারণে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে।
ওইসব রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবার পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই সময়ের মধ্যে প্রত্যাবাসনে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও তা মিয়ানমারের কূটকৌশলের কারণে সম্ভব হচ্ছে না।
চরম গোয়ার্তুমি আর নির্লিপ্ত আচরণ করে মিয়ানমার এমন এক ভাব করছে, যেন কিছু করেনি তারা, বা কিছুই হয়নি। মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের নামে নাটক আর উল্টো বাংলাদেশকে দোষারোপ করছে যে, তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চাইলেও বাংলাদেশের জন্য ফেরত নিতে পারছে না।
এই অবস্থায় রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচারের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)। আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে ওআইসির পক্ষে এই মামলা করবে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। বিষয়টি কিছুটা হলেও আশা জাগানিয়া।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরেকটি ইতিবাচক সম্ভাবনার সূচনা হয়েছে এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে। রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরাতে আনুষ্ঠানিক সংলাপে চীনকে সম্পৃক্ত করে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ত্রিপক্ষীয় যৌথ কার্যনির্বাহী’ ফোরাম গঠনে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। অধিবেশনের সাইড লাইনে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের সঙ্গে বৈঠকের পর নিউইয়র্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের এ খবর জানান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার প্রতিটি কর্মসূচি ও ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যুটি জোরালোভাবে আলোচনা করছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে চার দফা প্রস্তাব উত্থাপনের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। যা বিশ্বনেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
ওআইসির মামলা ও ত্রিপক্ষীয় ওই ফোরামের উদ্যোগ দেশের পররাষ্ট্র তৎপরতার একটি সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। ওই দুই উদ্যোগের ফলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হয়তো মিয়ানমার বাধ্য হবে, নয়তো কিছুটা আন্তরিক হবে বলে আমাদের ধারণা। বিষয়গুলি সামনে রেখে নিয়মিত ফলোআপ ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী থাকবেন বলে আমাদের আশাবাদ।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft