সোমবার, ২৫ মে, ২০২০
জাতীয়
বিদেশি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 3 October, 2019 at 8:11 PM
বিদেশি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ একটি মানবিক রাষ্ট্র। বিশ্বের অনেক দেশের মতো আমাদেরও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা জানি, কীভাবে চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করতে হয়। তাই আমি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বলব, বিশেষ করে ভারতের বিনিয়োগকারীদের বলব, আমাদের বিনিয়োগের অবাধ সুযোগ রয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত ভারত ইকোনমিক সামিট-২০১৯। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন দুপুর ১টায় সামিটে যোদ দেন। এ সামিটে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এবারের ইকোনমিক ফোরামের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ইনোভেটিং ফর ইন্ডিয়া: স্ট্রেনথদেনিং সাউথ এশিয়া, ইম্প্যাক্টিং দ্য ওয়ার্ল্ড।
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিজর (সিআইআই) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) এ সম্মেলন আয়োজন করেছে।
৪০টিরও বেশি দেশের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, শিল্প সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ফোরামের সদস্য দেশের প্রতিনিধি, সামাজিক উদ্যোক্তা, তরুণ নেতৃত্বসহ আট শতাধিক প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর সঙ্গী হিসেবে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, ব্যবসায়ী শিক্ষকসহ প্রায় ১২ জন অংশ নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ওপর কৌশলগত সংলাপে অংশ নিয়ে আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি মানবিক রাষ্ট্র। বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজমান। তাই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিন্তে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি।’
‘বিশ্বের অনেকেই মধ্য ও সমৃদ্ধ শ্রেণীর জনসংখ্যার বাজার এবং উন্নয়ন অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখেন। বুঝতে হবে, আমাদের শক্তি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ, বাংলাদেশের প্রতি মানুষের বিশ্বাস, জনগণের অগ্রগতির আকাঙ্ক্ষা, তাদের স্থিতিস্থাপকতা এবং সেই সঙ্গে আমাদের নেতৃত্বের প্রতি তাদের আস্থা। আমার পিতা, আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দারিদ্র্য এবং শোষণমুক্ত সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বির্নিমাণে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘পোশাক শিল্প ছাড়াও বাংলাদেশ দ্রুত জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে চলেছে। গত বছর আমরা কোরিয়ায় ১২টি শিল্প রোবট রফতানি করেছি। বাংলাদেশে তৈরি চারটি জাহাজ ভারতে এসেছে। সম্প্রতি রিলায়েন্স বাংলাদেশের প্রচুর রেফ্রিজারেটর কিনেছে। বাংলাদেশে ছয় লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। এটা বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং সম্প্রদায়।’
প্রচলিত ধারণা ছেড়ে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিশেষত ভারতীয় উদ্যোক্তাদের, শিক্ষা, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিক্স, মোটরগাড়ি শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার সময় এসেছে। বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়ন করছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের জনসংখ্যার প্রায় ৪৮ শতাংশ শহরে বাস করবে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ, শক্তিশালী এবং প্রযুক্তি নির্ভর।’
‘বাংলাদেশে ১১০ মিলিয়নের বেশি মানুষের সক্রিয় ইন্টারনেট রয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ৪১ শতাংশ মানুষের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে যাবে। অন্যান্য অনেক দেশের মতো আমাদেরও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা জানি যে কীভাবে চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে রূপান্তর করতে হয়। এ বছর আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.১ শতাংশ। যা একটি রেকর্ড। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় প্রায় ২০০০ ডলার,’ উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের কৃষি কাজ এখন আর শুধু জীবিকা নির্বাহই করে না, কৃষিতে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা এখন ধান উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ, পাটে দ্বিতীয়, আম উৎপাদনে চতুর্থ, শাকসবজি উৎপাদনে পঞ্চম। ২০০৯ সাল থেকে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করতে আমরা তৃণমূলের মানুষের জন্য শতভাগ আইসিটি অ্যাক্সেস নিশ্চিত করেছি। আমাদের ফোকাস হলো সাধারণ মানুষের উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বাধিক উদার বিনিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে। বৈদেশিক বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা, উদার রাজস্ব প্রণোদনা, যন্ত্রপাতি আমদানিতে ছাড়, অনিয়ন্ত্রিত বহির্গমন নীতি, লভ্যাংশের সম্পূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং বহির্ভূত মূলধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দৃষ্টান্তস্বরূপ। আমরা বাংলাদেশ জুড়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিসসহ ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি। তার মধ্যে এরই মধ্যে ১২টি কাজ করছে। দু’টি বিনিয়োগ অঞ্চল বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত। বেশ কয়েকটি হাই-টেক পার্ক প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্যও প্রস্তুত বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার মূল হলো আমাদের উন্মুক্ত সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রীতি, উদার মূল্যবোধ ও ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতি। এছাড়া আমাদের সমজাতীয় জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ তরুণ, যাদের বেশিরভাগ ২৫ বছরের কম বয়সী। তারা দ্রুত দক্ষতা অর্জনে সক্ষম, প্রযুক্তির সঙ্গে অভিযোজিত, প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতে নিযুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত।’



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft