সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২০
জাতীয়
দুবাই বসেই ঢাকার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান
কাগজ ডেস্ক :
Published : Friday, 4 October, 2019 at 4:24 PM
দুবাই বসেই ঢাকার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ইন্টারপোল রেড নোটিশধারী পলাতক আসামি জিসান আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা‌কে দ্রুতই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।
শুক্রবার (০৪ অক্টোবর) পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেল রানা বিষয়টি জানান।
তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি শাখার উদ্যোগে ও এনসিবি (ইন্টারপোল) দুবাইয়ের সহযোগিতায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনসিবি দুবাই বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে জিসানকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, দুবাই কর্তৃপক্ষ জিসানকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জিসান একটি ভারতীয় পাসপোর্ট বহন করছিল। সেখানে তার নাম আছে আলী আকবর চৌধুরী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত দেশের শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর একজন জিসান। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বাড্ডা, মতিঝিলসহ বেশ কিছু অঞ্চলে তার একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির একাধিক মামলা ছিল তার নামে।
ইন্টারপোল তার নামে রেড অ্যালার্ট জারি করে রেখেছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে জিসান সম্পর্কে হত্যাকাণ্ড এবং বিস্ফোরক বহনের অভিযোগ আছে।
২০০৩ সালের ১৪ মে ঢাকার মালিবাগে জিসানকে গ্রেপ্তার অভিযানে তারই সহকর্মীদের বার্স্টফায়ারে নিহত হন ডিবি পুলিশের দুই কর্মকর্তা। ওই হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অপারেশন ক্লিনহার্ট চলাকালে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নান নিহত হলে জিসান ভারতে পালিয়ে যান। সেখান থেকে পরে তিনি দুবাইয়ে পাড়ি জমান।
সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে দুই যুবলীগ নেতা জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটকের পর জিসানের নাম আবার নতুন করে আলোচনায় আসে।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা-বাহিনী সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে পালিয়ে ভারতে প্রবেশ করে জিসান। এরপর নিজের নাম পরিবর্তন করে আলী আকবর চৌধুরী নামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন।
অপরাধ জগৎ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জিসানের ১০ বছর মেয়াদি ভারতীয় পাসপোর্টের কপি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ।
ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ঠিকানা দেখানো হয়েছে সারদা পল্লী, ঘানাইলা, মালুগ্রাম শিলচর, চাষার, আসাম। বাবার নাম হাবিবুর রহমান চৌধুরী। মায়ের নাম শাফিতুন্নেছা চৌধুরী আর স্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে রিনাজ বেগম চৌধুরী।
২০০৯ সালের ৭ জুন প্রদান করা পাসপোর্টটির মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ২০১৯ সালের ৬ জুন। আর পাসপোর্ট ইস্যুর স্থান উল্লেখ আছে দুবাই।
সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে দুবাই অবস্থানরত এ শীর্ষ সন্ত্রাসী। সেখানে বসেই ঢাকার অপরাধ জগতের অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। ঢাকায় তার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধ স্বাভাবিকভাবেই চলছে।
পাশাপাশি তার বিষয়ে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিয়েছেন জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদ বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft