বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
বাঁচার আকুতি ওমর ফারুকের
ভালোবাসার হাতটা বাড়িয়ে দিন
এইচ,এম, হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Sunday, 6 October, 2019 at 8:39 PM
বাঁচার আকুতি ওমর ফারুকের  পটুয়াখালীর কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের বেতমোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ওমর ফারুক। এ বছরের শুরুতে ২০১৯ সালে তৃতীয় শ্রেনীতে থাকার সময় দুরারোগ্য ব্যাধি হার্টের বাল্ব নষ্ট হয়ে গেছে। এক রৌদ্রজ্জ্বল সকালে যখন স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে ওমর। উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ক্ষণিক সময়ের জন্য সুস্থ্য হলেও আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে ঢাকায় নেয়া হয়। সেখানে ধরা পড়ে তার হার্টের বাল্ব নষ্ট হয়ে গেছে। যে বয়সে সহপাঠীদেরর সাথে হৈ-হুল্লোর, খেলাধুলা করে সময় কাটানোর কথা, সেই বয়সে বিছানায় শুয়ে জানালা দিয়ে সমবয়সীদের স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা দেখে সময় কাটে আর নীরবে কাঁদে। শারীরিক অক্ষমতায় হাঁটা চলা, খেলাধুলার উপর বিধিনিষেধ থাকায় মায়ের কোলে করে দিন কাটায়। প্রতিটি মা-বাবার কাছেই তাদের সন্তানের অতি আদরের,হোক না সে অন্ধ, বোবা ,কুৎসিত , কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধী। কোনো মা-বাবাই এসব কারনে তাদের সন্তানদের রাতের অন্ধকারে মাটিচাপা দিয়ে আসেন না কিংবা ডাস্টবিনে ফেলে রেখে আতœগোপন করেন না। বরং সুস্থÑসবল স্বাভাবিক সন্তানদের চেয়ে ও তাদের প্রতি দরদ আরো বেশি থাকে তাদের। তাই তো অনেকেই সম্পন্ন অবস্থা থেকে গরিব হতে হতে একবারে নিঃস্ব হওয়া পর্যন্ত এমন সন্তানের সুস্থ করে তোলার প্রানান্ত চেষ্টা চালিয়ে যান হাসিমুখে। প্রায় তিন বছর আগে স্বামী কালামকে হারিয়ে যে সন্তনের মুখ চেয়ে কঠোর শ্রম বিক্রি করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছিলো ওমরের অসহায় মা শেফালী বেগম। ছেলের এ অসুস্থতার খবরে সে ভেঙ্গে পড়ে। নিজের জমানো শেষ সম্বলটুকু দিয়ে ছেলের চিকিৎসা করালেও টাকার কারণে বন্ধ হয়ে যায় ওমরের চিকিৎসা। এতে ক্রমশ মৃত্যু দিকে পতিত হয় ওমর ফারুক। ছেলের চিকিৎসা খরচ যোগাতে অষ্টম শ্রেণি পড়-য়া মেয়ে রিয়ামনিরও পড়া লেখা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আর্থিক সংকটে অষ্টম শ্রেণি পড়ু-য়া রিয়ামনির পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার পথে। ওমরের অসহায় মা শেফালী বেগম, যিনি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় তার সন্তানের প্রকৃত অবস্থা মানবদরদি মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন। ‘ভালোবাসার হাতটা বাড়িয়ে দিন’। “আমি একজন  দুরারোগ্য ব্যাধি হার্টের বাল্ব নষ্ট হওয়া সন্তানের মা। আমার ছেলেটি-যে বয়সে দুরন্ত বালক হয়ে পধঘাট ঘুরে বেড়ানোর কথা, সারা বেলা দস্যিপনায় মেতে ওঠার কথা ,মা মা ডাকে আমাকে অস্থির করে রাখার কথা, আমার চিবুকে আদরের চুমুতে ভরিয়ে দিয়ে মাতৃত্বকে পরিপুর্ন করার কথা। কিন্তু হায়! আমার ছেলেটি এমন অসহায় অবস্থা শুয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে চার দিকে । দু ’চোখ ফুটে উঠেছে তার বেঁচে থাকার আর্তি। আমি বিশ্বাস করি নিশ্চয় আপনাদের রয়েছে দীর্ঘশ্বাস মিশ্রিত মমত্ববোধ। আপনারা এই অসহায় ছেলেটির কথা এবং পরিবারের সার্বিক অবস্থা বিবেচনাপুর্বক বাড়িয়ে দেবেন, ভালোবাসার হাত। যে হাতটি হবে এই পরিবারের জন্য অত্যন্ত নির্ভরতার। সর্বশেষ আমার আর্তনাদ Ñওকে বাঁচান, ওর আতœাকে বাঁচান, ওকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। এজন্য ওমরের অসহায় মা শেফালী বেগম সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft