মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যমেক হাসপাতাল
সরকারি ওষুধ থাকা সত্ত্বেও রোগীরা পাচ্ছে না
আশিকুর রহমান শিমুল :
Published : Wednesday, 9 October, 2019 at 7:38 PM
সরকারি ওষুধ থাকা সত্ত্বেও রোগীরা পাচ্ছে নাযশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও রোগীরা তা পাচ্ছে না। চিকিৎসকদের সদিচ্ছার অভার ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের খুশি করতে সরকারি ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। 

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায় দেয়ালে হাসপাতালে থাকা ওষুধের লম্বা তালিকা। যে ওষুধগুলো আছে সেগুলোর ঘরে ‘টিক’ চিহ্ন দেয়া, আর যেগুলো নেই সেগুলোর ‘ক্রস’ দেয়া। তবে ক্রসের ঘর ফাঁকা বললেই চলে। অর্থাৎ সব ওষুধই হাসপাতালে আছে। এসব তালিকার এসব ওষুধ বিনামূল্যে রোগীদের দেবার কথা। তালিকায় আছে শতাধিক ওষুধের নাম।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের মাঝিপাড়ার নুরুল বক্স বলেন, তিনি গরিব মানুষ। সরকারি হাসপাতালে আসছেন বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে। কিন্তু অর্থো-সার্জারি বিভাগের ডাক্তার তাকে ছয়শ’ টাকার ওষুধ লিখেছে, আর এক পাতা প্যারাসিটামল দিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালে সরকারি ওষুধ পাবার আশায় এসেছিলেন, কিন্তু এক পাতা প্যারাসিটামল ছাড়া কিছুই পাইনি। ডাক্তাররা বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলেছেন। হাসপাতালে আসলে প্যারাসিটামল, নাপা, এন্টাসিড ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না।
পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীদের চোখের সামনেও জ্বলজ্বল করছে দেয়ালে থাকা ওষুধের নামের তালিকা। তালিকাটি ইংরেজিতে। ওই তালিকার অল্প দূরে ঠাঁই পাওয়া রোগী আরজ আলীর জন্যে তার এক স্বজন বাইরে থেকে নিয়ে এলেন দুই আইটেমের ওষুধ। হাতে হাসপাতালের টিকিট। ওয়ার্ডে থাকা ওই রোগীর টিকিটে বেশ পরিষ্কার অক্ষরেই লেখা আছে একটি স্যালাইন আর দুটি ওষুধের নাম। একটি এজিথ, আরেকটি এলজিন। পাশে থাকা আরেক রোগীর স্বজন কৌতূহলী হয়ে ওষুধের পাতা হাতে নিয়ে দেয়ালে থাকা তালিকার সঙ্গে গভীর মনোযোগে মেলাচ্ছিলেন।

তালিকা থেকে চোখ সরিয়ে তিনি বলেন, দুটি ওষুধই তো হাসপাতালে আছে, তাহলে আপনারা বাইরে থেকে কিনলেন কেনো ? রোগীর স্বজন বললেন, ভেতরের ডাক্তাররাই তো আনতে দিলেন। ওষুধের স্লিপ নিয়ে সেবিকাদের কাছে গিয়ে জানতে চাইলে একজন বলেন, ওষুধ আছে, কিন্তু এই রোগী পাবে না। তার ভর্তি এখনো ক্লিয়ার হয় নি। যখন পাওয়ার তখন পাবে।

হাসপাতালে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বর্হিঃবিভাগে আসা রোগীদের চিকিৎসার জন্যে ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে ৩১ ধরনের ওষুধ। স্টকে থাকা ওষুধ প্রত্যকটি ওয়ার্ডে বিতরণ করার কথা, কিন্তু ওষুধ থাকার পরও রোগীদের সেবায় তা ব্যবহার না করে একটি চক্র বাইরে কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনে আনতে হচ্ছে।

সব থেকে বাজে অবস্থা অপারেশন কক্ষে। কেননা অপারেশনের আগের রাতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটে ভর্তি হওয়া চিকিৎসক ওষুধ সামগ্রী কেনার জন্যে তাদেরকে তালিকা করে দেন। এরমধ্যে অনেক ওষুধ হাসপাতালে সরকারিভাবে থাকলেও তা দেয়া হয়না।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, চিকিৎসক রোগীর দেয়া তালিকায় যেসব ওষুধ লিখেছেন তার অধিকাংশ হাসপাতালে সরবরাহ রয়েছে। শুধু মাত্র নামটা ভিন্ন। আবার কোন কোন ওষুধের নামের মিলও রয়েছে। যেমন স্যালাইন লেকটোরিড, হার্টসল, ইনজেকশন ইটোরাক, কোটামিন, আইভি ক্যানোলা, স্যালাইনসেট, পভিসেফ, ক্ষতস্থান সেলাই করার জন্যে প্রোলিন গ্লোবসসহ আরো কয়েক প্রকারের সুতা। এগুলো হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও রোগীর স্বজনদের দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি হাতানো হয়ে থাকে সুতা। যার প্রতিটির দাম তিনশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকা। রোগীর স্বজনদের দুর্বলতাকে পুঁজি করে তাদের কাছ থেকে তিন-চারটি করে হাতিয়ে নেয়া হয়।

মুজিবর রহমান নামে এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, তার বোনের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য ৩২শ’ টাকার ওষুধ কিনে দিয়েছেন। তারপরও শর্ট স্লিপ দিয়ে আরো দুটি সুতা কিনে আনতে বাঁধ্য করা হয়েছে।

সার্জারী বিভাগ, অর্থোপেডিক, ইএনটি ও গাইনী বিভাগের অস্ত্রোপচার কাজে নির্দিষ্ট কর্মচারী রয়েছে। তারাই রোগীর স্বজনদের বোকা বানিয়ে ওষুধ লুটপাট করছে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কামাল আজাদ জানিয়েছেন, সরকারিভাবে সরবরাহতকৃত ওষুধ রোগীদের সঠিকভাবে বিতরণের জন্যে কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া আছে। তার জানা মতে রোগীরা সরকারি ওষুধ পাচ্ছেন। তবুও অভিযোগ পেলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। যদি ওষুধ নিয়ে কেউ অনিয়ম করেন তাহলে বিষয়টি সহ্য করা হবেনা।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft