মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
আবরারের দাদার বুকফাটা আর্তনাদ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
Published : Thursday, 10 October, 2019 at 8:28 PM
আবরারের দাদার বুকফাটা আর্তনাদক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নির্মম নির্যাতনে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। এই মৃত্যুর ঘটনায় গোটা দেশে নেমে এসেছে শোখের ছায়া।
কুষ্টিয়ায় আবরার ফাহাদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় আবরারের দাদা আবদুল গফুর বিশ্বাস নাতির কথা বলতে বলতে আর্তনাদ করছেন। বলছেন, আবরার কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আমার বড়ই আদরের নাতি ছিল আবরার। আবরারের সহপাঠীদের পেয়ে কান্না ভেঙে পড়েন এই বৃদ্ধ।
বাড়িতে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে আবদুল গফুর বিশ্বাস জানতে চান- কী হয়েছে? কিন্তু পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় সত্য আড়াল করে তাকে জানানো হয়, আবরার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং এখন ভালো আছেন।
আবদুল গফুর বিশ্বাসের পাঁচ ছেলে চাকরির সুবাদে বাড়ির বাইরে থাকেন। একসঙ্গে এত লোক কখনও তাদের বাড়িতে আসে না। অনেকে কান্নাকাটি করছেন, অনেকেই ভারাক্রান্ত। সব মিলিয়ে অজানা শঙ্কা আবদুল গফুরের মনে। যখন জানতে পারেন তার প্রিয় নাতি নেই তখন আর ঠিক থাকতে পারেন না। বারবার বিলাপ করতে থাকেন।
ছুটিতে বাড়িতে এলেই গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসত আবরার। খোঁজখবরও নিত। মেধাবী নাতিকে নিয়ে গর্বিত এ বৃদ্ধ জীবনের শেষলগ্নে এসেও স্বপ্ন দেখেন তার নাতি অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে। পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে। যদিও তার এবং পরিবারের একসময় চাওয়া ছিল আবরার ডাক্তার হবে।
কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয়েছিলেন আবরার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন। কিন্তু নিজের ইচ্ছাতেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। অত্যন্ত মেধাবী আবরার ফাহাদের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে থেমে থেমে ৫ ঘণ্টা অমানুষিক নির্যাতন চালায় ঘাতকরা। বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহার শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে রাত ৮টার পর থেকেই শুরু হয় নির্যাতনের পালা।
মূলত ৩ দফায় পেটানোর একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এ মেধাবী ছাত্র। রিমান্ডে থাকা আসামিরা ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল ২৪-২৫ জন। তবে বুধবার প্রকাশ হওয়া সর্বশেষ ভিডিও ফুটেজে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৬-৭ জনকে দেখা গেছে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft