বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
এহসান মাল্টিপারপাসের হাজার কোটি টাকা খোয়ানো গ্রাহকরা শোকে কাতর
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Friday, 11 October, 2019 at 1:10 AM
যশোরাঞ্চলের গ্রাহক ও লগ্নিকারীদের পথে বসিয়ে এক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে আত্মগোপনে যাওয়া এহসান ইসলামী মাল্টিপারপাস এবং এহসান রিয়েল এস্টেটের প্রতারকরা মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে গেছে। গ্রাহকদের সাথে দীর্ঘ ৪ বছর প্রতারণা করছে। তারা এখন ঢাকায় বসে স্থারব সম্পদ ভাগাভাগিতে লিপ্ত রয়েছে। পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা আশুলিয়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কেনা জমি ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ। টাকা ফেরত পওয়া আশায় এখনও পথ চেয়ে আছেন শ’শ  লগ্নিকারী। 
২০১২ সালের দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানসহ যশোরে এহসান ইসলামী মাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ সোসাইটি এবং এহসান ইসলামী রিয়েল এস্টেট লিমিটেড খুলে প্রতারণায় লিপ্ত হয় সংশ্লিষ্টরা। ২০১৪ সালের আগস্টে গা ঢাকা দেয় প্রতিষ্ঠানের এমডি পর্যায়ের পাঁচ জন। গ্রাহকদের টাকা আজ দেব কাল দেব বলে টালবাহানা  শুরু করলে নানা বিপাকে পড়েন লগ্নিকারীরা। এক পর্যায়ে সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে গা ঢাকা দেয় অর্ধশত কর্মচারিসহ পাঁচ এমডি। এ ঘটনায় রাস্তায় নামেন লগ্নিকারীরা। যশোরাঞ্চলের লগ্নিকারীর সংখ্যা আট হাজার । 
২০১২ সালে এহসান এস বাংলাদেশ, এহসান রিয়েল এস্টেট এবং এহসান মাল্টিপারপাস শরিয়া মোতাবেক ব্যবসার ধুয়ো তুলে মাসে এক লাখে ১৬শ’ টাকা মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা জমা নিতে থাকে। এ কাজে যশোরেরর বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়। সংস্থাটি প্রথম ক’মাস লভ্যাংশের টাকা দিলেও পরবর্তীতে টাকা দিতে টালবাহানা করে। 
সাধারণ মানুষ সরল বিশ্বাসে তাদের গচ্ছিত টাকা ব্যবসায় লগ্নি করে। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী লভ্যাংশ ও বিনিয়োগের টাকা ফেরত না দিয়ে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে পালিয়ে যায়। ওই সময় গ্রাহকদের টাকা আদায়ে আন্দোলন কমিটি করা হয়। ওই প্রতারকদের নিয়োগ দেয়া ১০৮ মাঠ কর্মী এহসানের নামে টাকা তুলে জমা দেন। লগ্নীকারীরা তাদের কাছে ধর্না দিলেও গত ৪ বছরে কোনো আশার বাণী শোনাতে পারেনি। 
যশোর থেকে টাকা গেছে দিনের পন দিন, কিন্তু শুধু গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা বজায় রাখতে মাস কয়েক লভ্যাংশ দেয়ার অভিনয় করা হয়েছে। হাজার কোটির টাকা উপরে পকেটস্থ করে কোম্পানির এমডি জুনায়েদ আলী, রবিউল ইসলাম, ম্যানেজার আতাউল্লাহসহ চক্রের সাঙ্গপাঙ্গরা ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা ডজন খানেক প্রতারক লাপাত্তা হন। 
এ অঞ্চলের মানুষের কাছ থেকে বিশাল অংকের টাকা আদায় করে আত্মসাত করায় এমডি রবিউল ইসলাম, খরিরুজ্জমান, জুনায়েদ আলী, ইউনুস আলী ও আতাউল্লাসহ ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দেয়া হয়। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে  শামসুর রহমান ৪০৬/৪২০/৩২৩/৫০-৬/১৮৬০ ধারায় এজাহার দেন। অন্তত ১২টি মামলা করা হয় ওই চক্রের বিরুদ্ধে।
কিন্তু আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে তারা জামিন পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান জুনায়েদ আলী ও এমডি রবিউল ইসলাম ঢাকার মুজিবর রহমান নামে একজনের সাথে লিয়াজো করে  তাদের সম্পদ বিক্রি করছেন। আর ডজন খানেক এমডি পর্যায়ের প্রতারক এহসানের সব সম্পদ স্ব স্ব নামে করে নিচ্ছেন।
বছর দুয়েক আগে ১০৮ জন মাঠ কমীর সমন্বয়ে টাকা আদায় আন্দোলন কমিটি করা হয়। কমিটিতে ডজনখানেক মাঠকর্মী রাখা হয়। এদের মধ্যে আতাউল্লাহ, বাবর আলীর, সেলিম আজম, আব্দুল হক ও কাজী মিজানুরকে  ঢাকার সাথে সমন্বয়ক করা হয়। ওই পাঁচজন ঢাকায় দৌঁড়ঝাপ করে এমডি জুনায়েত আর এমডি রবিউলের সাথে দেন দরবার করে আশুলিয়ায় ১শ ৫৭ শতক জমি আয়ত্বে আনতে সক্ষম হন। নীতি নির্ধারকদের পাঁচ জন ওই জমি প্রদানে স্বাক্ষর করলেও এমডি রবিউল টালবাহানা করেন। ঢাকার প্রতারক চক্র তাদের ২১ কোটি টাাকা ফেরত দেয়ার  আশ্বাস দিলেও শেষমেশ তা প্রতারণায় পর্যবসিত হয়। যে কারণে যশোরে এহসানের প্রতারণায় গ্রাহকরা হতাশা আর উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন।
হামিদপুরের কামরুজ্জামান, রূপদিয়ার শের আলী, বারান্দীপাড়ার আমিরুননেছা,  কুলসুম বেগম। পুরাতন কসবা মিশনপাড়ার আফসার উদ্দিন, সীতারামপুরের আবুল কালাম, বালিয়া ভেকুটিয়ার মোহাম্মদ হানিফ,  বারান্দীপাড়ার আমিনুন্নেছা, রাজারহাটের শাহাজাদী বেগম,  বারান্দীপাড়ার আলেয়া বেগম, পূর্ববারান্দী মাঠপাড়ার নাছিমা খাতুন, একই এলাকার রায়হানুল ইসলাম, নাজির শংকরপুরের তরিকুল ইসলাম  টাকা ফেরতের আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।। 
এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য এহসানের এমডি জুনায়েদ আলীর ০১১৯১৬৭৯৫৫৫ ও ০১৯৪৬৭০৭৩১৯, এমডি রবিউল ইসলামের ০১৯৫৫২৪০৭৪০ নম্বরে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।  



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft