শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
জাতীয়
এলো ক্ষণকালের হেমন্ত
কাগজ সংবাদ :
Published : Thursday, 17 October, 2019 at 6:13 AM
এলো ক্ষণকালের হেমন্ত  শিশির স্নাত শুভ্র শিউলির ঘ্রাণের সাথে মৃদু শীতের ছোঁয়া নিয়ে উদিত হয়েছে কার্তিকের নতুন সূর্য। এলো হেমন্তের দিন। শরতের সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে হেমন্তের দিনে প্রকৃতি সাজবে নতুন রূপে। হিমেল বাতাসের পরশে ঊষ্ণতার বিকেল স্বল্পায়ু হয়ে গুটিয়ে যাবে সন্ধ্যার দিকে।
বিশেষ বৈচিত্র্যের গুণ সমৃদ্ধ হেমন্ত। কার্তিক আর অগ্রহায়ণ নিয়ে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে আবির্ভাব ঘটে হেমন্তের। গ্রীষ্ম, বর্ষা কিংবা শরৎ সব ঋতুর দুটি মাসেরই প্রায় একই রূপ বৈশিষ্ঠ্য থাকলেও বিপরীত ধর্মী দু’টি মাসকে সংযুক্ত করে হেমন্ত। এক সময় সারাবছরের  জন্যে জমিয়ে রাখা চাল শেষ হতো কার্তিকে। গোখাদ্য আর ধানের গোলার মজুদ গিয়ে ঠেকত শূন্যের কোঠায়। যদিও সে মরা কার্তিক এখন আর সেইভাবে প্রকট নেই, তবুও গ্রামীণ জনপদে চালের মজুদ শেষ হয়। নতুন ধান না ওঠায় এখনও অনেকেই কার্তিকে ভর করতে হয় সযতেœ জমিয়ে রাখা লক্ষ্মীর ভান্ডারে। অভাবের খরা শেষে সমৃদ্ধির ব্যস্ততা নিয়ে হাজির হয় নবান্নের অগ্রহায়ণ। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ জুড়ে পাকা সোনালী ধান কাটা শুরু  হয়। হেমন্তের বাতাসে ভেসে বেড়ায় পাকা ধানের ঘ্রাণ।
বারো মাসে তের পার্বণের দেশ বাংলাদেশ। উৎসব প্রিয় বাঙালির কাছে একটি মাসের শেষে আরেকটি মাস আসাটাও যেন উৎসবের। একসময় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই মেতে উঠতো কার্তিকের আবাহনে। সময়ের পরিক্রমায় দিন বদলালেও পরম্পরা আর আচার মেনে এখনও আশ্বিন সংক্রান্তি আর কার্তিক বরণ হয় গ্রামীণ অনেক সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীদের ঘরে। পুরানো চালের পিঠা পায়েস হয় ঘরে ঘরে। রোগ বালাই দূর করতে কুলার বাতাসে তাড়ানো হয় মশা মাছি। ধানের শীষ পুষ্ট করতে পরম্পরায় আর বিশ্বাসকে পুঁজি করে ধান ক্ষেতের মা গাছকে সাধ ভক্ষণ করানো হয়। শুধু তাই না, হেমন্ত এলে চারপাশে যেমন পরিবর্তনের ছাপ পড়ে তা যেন আর অন্য সময় হয় না। হেমন্তেই প্রতীক্ষা বাড়ে রুক্ষ শুষ্ক দিনের। হেমন্তেই গাছি খেজুর গাছে চাঁচ দেয় রস সঞ্চারের জন্যে। হেমন্তই ডেকে আনে হলুদ গাঁদা ফুল। হালকা কুয়াশার চাদরে মোড়া ভোর সকালে মুগ, কলাই, মটরশুটির ক্ষেতে মুক্ত দানা শিশির বিন্দুতে আলোর ঝিকিমিকি চোখে পড়ে এ ঋতুতেই। এ যেন বারবার  পেয়ে হারিয়ে ফেলার এক অতৃপ্ত অব্যক্ত আনন্দ। সব মিলিয়ে তাই হেমন্তকে অনুভবের ঋতু বলতে হয়। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষার মতো হেমন্ত তীব্র, প্রখর না; আবার বসন্তের মতো  নেই বর্ণ, গন্ধ। হেমন্ত কেবলই মৌন। এই রূপেই মিষ্টিক সাধক জীবনের চরম সত্যের চেহারাকে খুঁজে পেয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এ ঋতুতে যে পরিবর্তন আমাদের চোখে ধরা পড়ে তা মানবজীবনেরই প্রতিচ্ছবি। প্রকৃতির মতো মানবজীবনেও শৈশব থেকে যৌবন আসে রূপ রসে পরিপূর্ণ হয়ে কিছুক্ষণের জন্যে। তারপর আসে বার্ধক্য। ক্ষয়ে পড়ার ¯্রােতে তখন শুরু হয় পাতা ঝরার পালা। যা দেখা যায় হেমন্তের শেষে। হেমন্তের ঝরা পাতার সুর ধরেই শীত শেষে বারবার ফিরে আসে বসন্ত। প্রকৃতিতে বয়ে চলে আবার জীবনের জয়গান। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft