মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
জেলা পরিষদের সিদ্ধান্তে হতবাক চৌগাছাবাসি
নামকরণের ইতিহাসের সাথে যুক্ত প্রায় ৩’শ বছরের বটবৃক্ষ বিক্রির ঘোষনা
শাহানুর আলম উজ্জ্বল, চৌগাছা (যশোর) :
Published : Saturday, 19 October, 2019 at 11:34 PM
নামকরণের ইতিহাসের সাথে যুক্ত প্রায় ৩’শ বছরের বটবৃক্ষ বিক্রির ঘোষনাযশোরের চৌগাছার নামকরণের ইতিহাসের সাথে যুক্ত চৌগাছা-যশোর রোডে অবস্থিত প্রায় ৩’শ বছরের বৃহৎ বটগাছটি বিক্রির ঘোষনা দিয়েছে জেলাপরিষদ। বিক্রির জন্য বটগাছে একটি প্লেট সেটে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি এলাকার জনগনের দৃষ্টিগোচর হলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে বটগাছটি রক্ষার্থে মানব বন্ধন করেছে ’চলো একসাথে হাসি’ নামের একটি ছাত্র সংগঠন। শুক্রবার বিকাল ৫ টায় ভাস্কর্যমোড়ে এই মানববন্ধন করা হয়।

তথ্য সূত্রে জানা গেছে, চারপাশে চার গাছকে কেন্দ্র করে চৌগাছা নামের উৎপত্তি। চৌগাছা নামকরণের ইতিহাস সন্মদ্ধে সাবেক গবেষক মরহুম ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম তাঁর নামকরণের ইতিহাস প্রবন্ধে লেখেন, চৌগাছা স্থানটির চারপাশে বৃহৎ চারটি বটবৃক্ষ বিদ্যমান ছিল। পশ্চিমে কংশারিপুর, পূর্বে কয়ারপাড়া সংলগ্ন, দক্ষিণে কুঠিপাড়া ও উত্তরে ইছাপুর এলাকায় ৪টি বটবৃক্ষ ছিল। প্রতিটি গাছের বয়স প্রায় ৩ থেকে ৪’শ বছর। কালের পরিক্রমায় কুঠিপাড়া ও ইছাপুর এলাকার দুটি বট গাছ কেটে ফেলা হয়। শুধু তাই নয় বৃহৎ এমন বটগাছ চৌগাছা বাজারের পূর্ব-দক্ষিণ দিকে জামলতা গ্রামেও রয়েছে। এই বটগাছটি এখনো পরিবেশের সাথে যুদ্ধ করে টিকে আছে। তিনি প্রবন্ধে উল্লেখ করেন অত্র এলাকার চারপাশে ৪টি এই গাছ থাকার কারনে এলাকার নামকরণ করা হয় চৌগাছা। এই এলাকা এক সময় বনেজঙ্গলে ভরা ছিল। 

চৌগাছার নামকরণের ইতিহাসের সাথে বট গাছ যুক্ত তা উপজেলা পরিষদের সরকারি ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা আছে। কিন্তু কয়ারপাড়া আহমদ নগরে ডিভাইন গ্রুপের গার্মেন্টস এর পাশে অবস্থিত ঐতিহ্য বটগাছটি বিক্রির জন্য যশোর জেলা পরিষদ ঘোষনা দিয়েছেন। জেলা পরিষদের পক্ষে বটগাছে একটি প্লেট সেটে দেয়া হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে জেলা পরিষদ, গাছ নম্বর-৭৯৮ (বিক্রির জন্য)। অতিসম্প্রতি বিক্রির প্লেটটি চৌগাছাবাসির নজরে পড়ে। একই সাথে বিভিন্ন মহল থেকে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। বটগাছটি বাঁচানোর জন্য চলো একসাথে হাসি’ ছাত্র সংগঠন শুক্রবার বিকালে ভাস্কর্য মোড়ে মানববন্ধন করেন।  নামকরণের ইতিহাসের সাথে যুক্ত প্রায় ৩’শ বছরের বটবৃক্ষ বিক্রির ঘোষনা

চলো একসাথে হাসি’ সংগঠনের সদস্য ইতিশা আক্তার, মাহিন মুনতাসিন রাহুল, নাহিদ মাফিনের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, চৌগাছার নামকরণের ইতিহাসের সাথে যুক্ত এই বটগাছটি বিক্রির করার সিদ্ধান্ত আমাদের সকলকে কষ্ট দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের মানুষ হিসাবে আমরা বলব, উপজেলার সকল ঐতিহ্য টিকে থাক। বটগাছটিও আমাদের ঐতিহ্য।
উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা শামীম রেজা জানান, ছোটবেলা থেকে আমরা জেনে আসছি চারটি বটবৃক্ষের কারনে চৌগাছার নামকরণ করা হয়। এই নামকরণের উৎপত্তির বিষয়টি আমরা বিভিন্ন  তথ্যউপাত্তে পেয়ে থাকি। আমি মনে করি ঐতিহ্যপূর্ণ স্থাপনা বা বৃক্ষ যেটাই হোক না কেনো তা আমাদের সংরক্ষণ করা উচিৎ। 

জেলা পরিষদের গাছ বিক্রির সিদ্ধান্তের বিষয়ে জেলা পরিষদ সদস্য দেওয়ান তৌহিদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চৌগাছা-যশোর রোড প্রশস্তকরণের জন্য জেলা পরিষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বটগাছের সাথে চৌগাছার নামকরণ জড়িত তা আমরা নানা তথ্যে পেয়ে থাকি। তিনি বলেন, আমি জেলা পরিষদের আগামী মিটিং এ বিষয়টি গুরুত্বেও সাথে তুলে ধরব। যাতে এই বটগাছটি বিক্রি না করা হয়। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft