মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল, ২০২০
জাতীয়
বিরোধী রাজনীতিকে ধ্বংস করার জন্য সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে : ফখরুল
ঢাকা অফিস :
Published : Tuesday, 5 November, 2019 at 8:18 PM
বিরোধী রাজনীতিকে ধ্বংস করার জন্য সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে : ফখরুলগণতন্ত্র ও বিরোধী রাজনীতিকে ধ্বংস করার জন্য সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন,’সরকার ২৬ লাখ বিএনপির নেতাকর্মীদের আসামি করেছে। পাঁচশোর অধিক মানুষকে গুম করে দিয়েছে। হাজারের বেশি মানুষকে তারা পঙ্গু করে দিয়েছে। সবশেষে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গত ২৯ তারিখ রাতে ক্ষমতা দখল করে দিয়েছে। আজকে সমগ্র দেশে যে নির্যাতন-নিপীড়ন, তা অনেক সময় মনে হয় ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি নির্যাতন কেউ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
মঙ্গলবার ৫ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে তরিকুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের আয়োজিত তরিকুল ইসলামের স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার সচেতনভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করছে। তার একটি মাত্রই উদ্দেশ্য, এই দেশটিকে তারা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।
সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করে তিনি, কয়েকদিন আগে সিপিবির একটা গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলেছে, বাংলাদেশের যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে সেটা সঠিক নয়। তারা বলছে, বাংলাদেশের প্রতিটি অর্থনীতির স্তম্ভ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার লুট, টাকা পাচার— এক লক্ষ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে ব্যাংকের মাধ্যমে, যা দিয়ে পাঁচটি পদ্মা সেতু নির্মান করা যেত।
বিএনপির এই মহাসচিব বলেন, একদিকে বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস, প্রশাসন ধ্বংস, অন্যদিকে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মানুষের সমস্ত অধিকারকে হরণ করা হয়েছে। তাই, বেগম খালেদা জিয়া এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছিলেন বলে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনসাধারণকে আত্মত্যাগের আহবান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপরে, তাই তাকে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা যদি তরিকুল ইসলাম ও সাদেক হোসেন খোকার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাই তাহলে অবশ্যই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমাদের মুক্ত করতে হবে। তাই, বেগম জিয়াকে মুক্তি, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, এবং একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। আসুন সে লক্ষ্যে আমরা সবাই আত্মত্যাগ করি।
মির্জা ফখরুল বলেন, খেটে খাওয়া মানুষের নেতা ছিলেন মরহুম তরিকুল ইসলাম।গতকাল একই দিনে আমরা আরেকজন জনদরদী নেতা ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে আমরা হারিয়েছি। তাদের চলে যাওয়া যদি সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশে হতো তাহলে আমরা কিছু মনে করতাম না। কিন্ত তাদের মৃত্যু কষ্টের। তাদেরকে মামলা দিয়ে এক কারাগার থেকে আরেক কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নির্যাতন করেছে।
স্মরণ সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মরহুম তরিকুল ইসলাম ছিলেন ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ। তার সাথে কারাগারে একসাথে জেল খেটেছি। কখনো দু:শ্চিন্তা না করে উৎসাহ প্রদান করতেন, সাহস যোগাতেন। ছাত্র জীবন থেকেই শেষ পর্যন্ত তরিকুল ইসলাম একজন সাচ্চা জাতীয়তাবাদের সৈনিক।আজকে দেশ বাঁচাতে হলে তার মতো রাজনীতিবিদদের আদর্শ সামনে রেখে এগোতে হবে।
মওদুদ আহমদ বলেন, তরিকুল ইসলামের মতো রাজনীতিবিদ আমাদের মাঝে আর দেখিনা। আর পাবো কি না জানি না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিলাসীতা করনেননি। তেমনই তরিকুল ইসলামও কখনো বিলাসীতা করনেননি। বহুবার জেল খেটেছেন। নিপীড়নের শিকার হয়েছেন কিন্তু মিতব্যয়ী ছিলেন। আজকের এই দিনে আমি তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
তিনি বলেন, আজকে রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। তা চলে গেছে দুর্বৃত্তদের হাতে। আজ জনগণের কাছে জবাবদিহি করার মতো সরকার নেই। এজন্যই সমাজে জুয়া চাঁদাবাজি আর ক্যাসিনো এবং অপসংস্কৃতি ছড়াচ্ছে। এসবই হচ্ছে বিরাজনীতিকরণের কারণে। দীর্ঘ দিনেও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা। তবে তিনি মুক্তি পাবেন। আসুন আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন পুনঃ প্রতিষ্ঠা করার শপথ নেই।
বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের সঞ্চালয় স্মরণসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ,মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বরকতউল্লাহ বুলু, মোঃ শাজাহান নিতাই রায় চৌধুরী, ডা:এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft