শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
মাথা গোঁজার জায়গাটুকোও নেই!
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল কেড়ে নিল ভিক্ষুক মনোয়ারার ঝুঁপড়ি ঘর!
জাবির হোসেন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) :
Published : Friday, 15 November, 2019 at 3:28 PM
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল কেড়ে নিল ভিক্ষুক মনোয়ারার ঝুঁপড়ি ঘর!পঁচাত্তর বছরের বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগম। সংসারে তার ছেলে সন্তান কিংবা স্বামী নেই। শুধু আছেন মানসিক প্রতিবন্ধি মেয়ে ফরিদা বেগম। ফরিদাকে নিয়েই তার সংসার। মানুষের বাড়িতে ভিক্ষা করে জীবন চালায় এই বৃদ্ধা। থাকতেন স্বামীর রেখে যাওয়া খরকুটোর ছোট্ট একটি ঘরে। এভাবে দীর্ঘদিন জীবন-যাপন করে আসছিলেন মনোয়ারা। কিন্তু ঘূর্ণিঝর বুলবুল তার অভাবের এই সংসারটিকেও ভেঙে চুরমার করে দিল। গত শনিবার ভোর রাতে ঘূর্ণিঝর বুলবুলের হানায় মনোয়ারার ঝুপড়ি ঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। তবে সাইক্লোনশেল্টারে গিয়ে আশ্রয় নেয়ার কারণে প্রাণে বেঁচে যায় বৃদ্ধা মনোয়ারা ও প্রতিবন্ধি ফরিদা। ঘরটি হারিয়ে যাওয়ায় এখন তাদের মাথাগোঁজার যায়গাটুকোও নেই। এমন ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নেরর টুঙ্গিবাড়িয়া গ্রামে। ঘূর্ণিঝর বুলবুল থেকে প্রায় একসপ্তহ সময় অতিবাহিত হলেও রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে দেয়া হয়নি কোনপ্রকার ত্রাণ সহায়তা।
জানাগেছে, মনোয়ারার স্বামী ছিলেন কৃষক শামসুল হক বয়াতী। ১০ থেকে ১২ বছর আগে মারা যায় সে। শামসুল হক বয়াতীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে নাসির বয়াতী কিছুদিন সংসারের হাল ধরেছিল। অভাব-অনোটনের মধ্যে কয়েক বছর মা ও বোনকে নিয়ে সংসার চালায় নাসির। এর পর গত ৫ বছর আগে হঠাৎ করে সংসার ফেলে  ঢাকা চলে যায় নাসির। এদিকে ছেলে চলে যাওয়ার পর মা মনোয়ারা অসহায় হয়ে পরেন। মানসিক প্রতিবন্ধি মেয়ে ফরিদাকে নিয়ে নতুন করে শুরু করেন জীবন সংগ্রাম। অন্যের বাড়িতে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তা দিয়েই কোনভাবে মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ে ফরিদাকে নিয়ে সংসার করে আসছিলেন মনোয়ারা বেগম। এভাবে দীর্ঘ কয়েক বছর  কষ্ট করে জীবন কাটিয়েছেন। বসাবাস করেছেন স্বামীর রেখে যাওয়া খরকুটোর ছোট্ট একটি ঝুঁপড়ি ঘরে। শত কষ্ট থাকলেও অন্তত মাথা গোঁজার ঠাই ছিল তাদের। কিন্তু গত ৯ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝর বুলবুল কেড়ে নেয় মনোয়ারা বেগমের খরকুটোর সেই ঘরটি। সাইক্লোনসেল্টারে গিয়ে আশ্রয় নেয়ার কারণে প্রাণে বেঁচে যান মনোয়ারা ও তার প্রতিবন্ধি মেয়ে ফরিদা। ঘূর্ণিঝর বুলবুল ঘরটি কেড়ে নেয়ায় এবার মাথাগোঁজার ঠাইও রইলোনা অসহায় এই বৃদ্ধার। ঘর হারিয়ে এখন পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। গত ৫-৬ দিন যাবৎ সেখানেই কোনভাবে আছেন। ঘূর্ণিঝর পরবর্তি সময়ে কোনপ্রকার ত্রাণও পায়নি এই বৃদ্ধা। আগামী দিনে কোথায় থাকবেন, কি খাবেন এনিয়ে চিন্তত সে।  এভাবেই অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন মনোয়ারা বেগম ও তার প্রতিবন্ধি মেয়ে ফরিদা বেগম।
মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘বাবা এ্যাকে এ্যাকে সব আরাইলাম। সব আরাইবার পর ভিক্ষা কইরা নাবুঝ মাইডারে লাইয়া খাইছি। আর ভাঙ্গা ঘরে থাকছি। বইন্নায় (বন্যা) হেই ভাঙ্গা ঘরডাও লইয়া গ্যাছে। এ্যাহন আমাগো মাথা রাহার যায়গাডাও নাই। এ্যাত বড় বইন্নাডা গ্যাল কেউ আমাগো খবর লইতে আইলোনা। সাহায্যতো পরের কতা বইন্নায় আমরা আছি না মরছি কেউ দ্যাখতেও আয় নাই।’
এব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাশফাকুর রহমান জানান, বিষয়টি আসলেই কষ্টের। আমরা খোঁজ নিয়ে অতিশিগ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft