বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ফিরে দেখা ৭১’
মহম্মদপুরের ৩ বীরযোদ্ধার আত্মবলিদানের দিন আজ
এস আর এ হান্নান, মহম্মদপুর ব্যুরো :
Published : Tuesday, 19 November, 2019 at 6:16 AM
মহম্মদপুরের ৩ বীরযোদ্ধার আত্মবলিদানের দিন আজশোকাবহ ১৯ নভেম্বর আজ। মহম্মদপুরের ৩ বীরযোদ্ধার আত্মবলিদানের দিন এটি। দিনটি ‘মহম্মদপুর যুদ্ধ দিবস’ নামে পরিচিত। স্বাধীনতার ইতিহাসে দিনটি ঐতিহাসিক এবং বেদনাবিধূঁর। ১৯৭১ সালের দামামায় এদিন পাক সেনাদের সাথে মহম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের এক ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে আহম্মদ হোসেন ও মহম্মদ হোসেন নামে আপন দুই সহোদরসহ ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালী সৈনিক মহম্মদ উল্লাহ নামের ৩ মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্থানী সেনাদের গুলিতে শহীদ হন।
এই দিনটি মহম্মদপুরবাসীর কাছে অত্যন্ত বেদনা বিধূর ও নিষ্ঠুরতম।  মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন ও মহম্মদপুরবাসী দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করে থাকেন। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার উপজেলার নাগড়িপাড়া গ্রামে শহীদদ্বয়ের নিজ বাড়িতে আলোচনা সভা, কোরআন খানি, মিলাদ মাহফিল, কাঙালী ভোজ ও কবর জিয়ারত অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯ নভেম্বর মহম্মদপুর উপজেলা সদরে সংগঠিত যুদ্ধে পাকিস্থানী বাহিনী ও তাদের দোসরদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন আপন দুই সহোদর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান মহম্মদ ও আহম্মদ হোসেন। এরা উপজেলার নাগড়িপাড়া গ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই বিরোচিত যুদ্ধ ‘মহম্মদপুর যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।  
১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে পাকিস্তানী সেনারা স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় টিটিডিসি ভবনে (বর্তমান উপজেলা পরিষদ) ক্যাম্প স্থাপন করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে লুটপাট ও নিরীহ মানুষের উপর নানা রকম অত্যাচার ও নির্যাতন চালায়। ওই ভবনেই তারা শক্তিশালী পর্যবেক্ষক চৌকি তৈরি করে। এই ক্যাম্প দখলের লক্ষ্যে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন মহম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধারা। ১৮ নভেম্বর আনুমানিক রাত একটায় উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ৭ কিলোমিটার দুরে ঝামা বাজারে সমবেত হন তারা। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে না পারায় ফজরের আজানের মাত্র আধা ঘন্টা আগে পাকিস্থানী সেনাক্যাম্পে মুক্তিবাহিনী আক্রমণ চালায়। দীর্ঘ সময় দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। হানাদার বাহিনীর ব্যাপক গোলাবর্ষনের মুখে এক সময় মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় একটি গুলি আহম্মদ হোসেনের মাথায় বিদ্ধ হয়। বড়ভাই মহম্মদ হোসেন ছোট ভাইকে বাঁচাতে ছুটে যাওয়ার প্রাক্কালে তিনিও গুলিবিদ্ধ হন। দুই ভাই পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে গড়াতে গড়াতে পুকুরের পানিতে পড়ে যান এবং সেখানেই তারা শহীদ হন। অল্প সময়ের ব্যবধানে শহীদ হন ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালী সৈনিক মহম্মদ আলী। এই দুই শহীদ সহোদর আহম্মদ, মহম্মদ ও মহম্মদ আলীকে উপজেলার নাগড়িপাড়া গ্রামে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
তাদের স্মৃতিচারণে মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ মহম্মদপুর শহরে শহীদ আহম্মদ-মহম্মদ মার্কেট এবং উপজেলা সদর থেকে নাগড়িপাড়া অভিমূখি সড়কটি আহম্মদ-মহম্মদ নামকরণ করা হয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের এই মহান দুই শহীদের শাহাদৎ বার্ষিকী নানা আয়োজনে মঙ্গলবার পালিত হবে।
অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, কুরআন খানী, মিলাদ মাহফিল, কাঙালী ভোজ ও কবর জিয়ারত। মহম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন শোক ও গৌরবের এই দিনটিকে সরকারিভাবে শহীদ দিবস ঘোষণার দাবি করেছেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft