শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
অ্যাপে নিবন্ধিত হতে কৃষকের কাছে ইউএনও
কাগজ সংবাদ :
Published : Tuesday, 3 December, 2019 at 6:16 AM
অ্যাপে নিবন্ধিত হতে কৃষকের কাছে ইউএনওজেঁকে না বসলেও শীতের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে প্রকৃতিতে। রাতে কুয়াশার চাদর যেমন মুড়ে রাখছে তেমিন সকালে ঘাসের ডগায় মুক্তকণার মতো শিশির জানান দিচ্ছে শীতের উপস্থিতি। এমনই এক শীতের সকালে যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামের ধানের ক্ষেতে কৃষকের কর্মচাঞ্চল্য। যে যার কাজে ব্যস্ত। কেউ কাটা ধানের আঁটি বাঁধছেন, কেউ ধান এক জায়গায় স্তুপ আকারে জমা রাখছেন। কেউ সেখান থেকে মাথায় করে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নিজের উঠানে। এমন কাজের মধ্যে কেউ কেউ আড়চোখে দেখছেন একজন ভদ্রলোক মাঠের আইল ধরে হেঁটে আসছেন। কারো ধারণা, হয়তো পথের দূরত্ব কমানোর জন্যে মাঠের মধ্যে দিয়ে কোনো পথিক যাচ্ছেন কারো বাড়ি মেহমান হয়ে। কিন্তু তাদের ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করে আগন্তুক এসে কয়েকজন কৃষকের কাছে কুশলাদি বিনিময় করে ধানের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। কতটুকু জমি চাষ করেছেন,ফলন কেমন,ধানের দাম কত, কোথায় বিক্রি করবেন ইত্যাদি। ধানের বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই মেজাজ তিরিক্ষি হলো সত্তরোর্ধ্ব জোহর আলীর।
চাঁদপাড়া গ্রামের মৃত মিকাইল সরদারের ছেলে জোহর আলী এক দমে বলে চললেন, ‘কোনো উপায় নেই তাই ধান চাষ করি। পাতো ফেলাতে শুরু কইরে পাকা ধান কাইটে বাড়ি নিয়ে যাওয়া শুধু কষ্টই সার। বাড়োয়, উড়োই বাস্তা ভইরে হাটে তুলতি হয় সার বীজ পানি আর জোনের খচ্চা মিটোতি। হাটে ধান তুললে দাম নেই। সাড়ে পাঁচশ, ছয়শ, সাড়ে ছয়শ এর উপরেই ওঠে না ধানের দাম। কিন্তু করবোডা কি! না বেইচেও উপায় নেই। ইরাম চললি চাষাভুষোগের মরা ছাড়া আর কোনো গতি নেই।’ জোহর আলীর দম ঘাটতির সুযোগে আগন্তুক বললেন সরকারতো ন্যায্য দামে ধান কেনে, সেখানে বিক্রি করেন না? এবার জোহর আলীর সুর সপ্তম ছাড়িয়েছে। চড়া গলায় বললেন ওসব আমাগের জন্যি না। হাট বাজারে যারা কম দামে আমাদের কাছ থেকে ধান কেনে তারাই চাষি সেজে গুদামে ধান দেয়। জোহর আলীর সাথে আলাপের সময় আশপাশ থেকে কৃষকেরা হাতের কাজ রেখে এগিয়ে আসেন কী হচ্ছে তা দেখার জন্যে। মাঠের মধ্যে তখন কৃষকের ছোট্ট জটলা। এবার আগন্তুক বললেন, সরকার আপনাদের কাছ থেকে নায্যমূল্যে ধান কিনবে। প্রতিবারই কেনেন তবে, এবার সদর উপজেলার কৃষকের ধান সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে কিনবে। কৃষকের অ্যাপে কীভাবে নিবন্ধন করতে হবে তিনি বিস্তারিত বুঝিয়ে বলেন। কৃষকদের চোখ তখন উৎসুক। কে তিনি? এই মাঠের মধ্যে এসে কৃষকের সাথে এসব নিয়ে কথা বলছেন। পরিচয় পর্বে যখন জানতে পারলেন তিনি যশোর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার তখন সবার চোখে বিস্ময় আর জোহর আলীর চোখে রাজ্যের লাজুকতা। অফিসার জানলে হয়তো এতো কথা বলতেন না। সুলতানপুর গ্রামের মধ্যবয়সী কুলসুম বেগম মাঠের মধ্যে ধান শুকাতে পা দিচ্ছিলেন। সালেহা বেগম, রিজিয়া খাতুনসহ নারীরা যখন কৃষিকাজে ব্যস্ত লিফলেট পেয়ে তারাও ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধান বিক্রির খুঁটিনাটি বিষয় জেনে নিয়েছেন তখনও তারা বুঝতে পারেননি তাদের উদ্বুদ্ধ করতে কে এসেছেন।
সোমবার  সকালে ডিজিটাল খাদ্যশস্য সংগ্রহে সরকারের উদ্ভাবনী উদ্যোগ কৃষকের অ্যাপে নিবন্ধন করতে গণসচেতনতায় মাঠে গিয়েছিলেন যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ ইব্রাহীম। ফতেপুর ইউনিয়নের হামিদুপর, চাঁদপাড়া, সুলতানপুরের বিভিন্ন মাঠে কৃষকদের সাথে তিনি মতবিনিময় করেন। একই সাথে তিনি তাদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন।
হামিদপুর গ্রামের কৃষক মহর আলী যখন জানতে পারেন তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলছিলেন তখন অন্য এক অনুভুতি ছড়িয়ে পড়ে তার মধ্যে। এক সময়  যে অফিসে পর্দা টেনে ভিতরে প্রবেশে বুক কাঁপতো সেই অফিসের প্রধান কর্মকর্তা কৃষকের সাথে কথা বলতে মাঠে মাঠে ঘুরছেন। কৃষকের অ্যাপে নিবন্ধন করে ধান বিক্রি লটারিতে টিকবেন কিনা কিংবা লটারি জিতে হাজার চল্লিশেক টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে তখন তাদের মাথাব্যথা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাঠে এসে তাদের স্বজন হয়েছেন তাতেই তারা আত্মহারা। সবাই যেন তার মতো হয় এমনটাই চাওয়া কৃষক মহর আলীসহ কৃষকদের।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft