বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২০
আন্তর্জাতিক সংবাদ
‘বিতর্কিত’ নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করলো ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
Published : Saturday, 11 January, 2020 at 4:59 PM
‘বিতর্কিত’ নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করলো ভারতভারতজুড়ে তুমুল প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মধ্যেই অবশেষে ‘বিতর্কিত’ নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) কার্যকর করলো দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) রাতে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইনটি কার্যকরের কথা জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার।
এতে এদিন থেকেই নতুন নাগরিকত্ব আইন কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। সংশোধিত এই নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ভারতজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়। শুরু হয় বিক্ষোভ। মারা যায় বেশ কয়েকজন মানুষ।
গেজেটে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সাব-সেকশন (২) এবং সেকশন-১ অনুযায়ী সরকার ঘোষণা করছে, ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে আইন কার্যকর হলো।
নতুন এই আইনের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে এদেশে আসা অ-মুসলমানরা (হিন্দু, শিখ, পার্সি, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, জৈন) ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অনিল মালিকের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯, ধারা ১, উপধারা ২ মেনে ১০, জানুয়ারি ২০২০ থেকে আইন কার্যকর করা হল।
গত ১১ ডিসেম্বর সংসদে পাস হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। তারপর থেকেই সিএএ ঘিরে উত্তাল ভারত। বিরোধীদের অভিযোগ, নতুন আইন ধর্মের ভিত্তিতে তৈরি। যা সংবিধানের পরিপন্থী। এটা বিজেপির দেশভাগের ষড়যন্ত্র। সিএএ প্রত্যাহারের দাবিতে পথে নেমে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনে শিক্ষার্থীরাও। এমনকী মুসলিম নারীও দিল্লি, কলকাতায় রাত জেগে প্রতিবাদ করছেন। বিক্ষোভ ঘিরে ঘটেছে হিংসার ঘটনা। বিজেপি শাসিত আসাম থেকে উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটকে নিহত হয়েছেন মোট ২৬ জন প্রতিবাদী। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশেই মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। বিক্ষোভের আঁচ এতই তীব্র ছিল যে রাজ্য প্রশাসনকে উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে। বন্ধ ছিল ইন্টারনেট পরিষেবা। বাংলাতেও প্রতিবাদ ও তা ঘিরে হিংসা লক্ষ্য করা যায়।
পথে নেমে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেরালা, বাংলা ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীরা ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছেন সিএএ মানা হবে না। কেরালায় এই আইনের বিরুদ্ধে বিধানসভায় শাসক-বিরোধী একযোগে প্রস্তাব পাস করেছে। যা সংবিধান বর্হিভূত কাজ বলে সরব বিজেপি। ইতোমধ্যেই নয়া আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হয়েছে।
বিক্ষোভের বিরোধীতায় সোচ্চার কেন্দ্র ও গেরুয়া শিবির। প্রবল বিক্ষোভে এনআরসি নিয়ে কিছুটা সুর নরম করলেও ভারতে সিএএ বাস্তবায়ন করতে মরিয়া মোদি সরকার। তাদের দাবি, নতুন আইন মানবতার প্রতীক। ধর্মের ভিত্তিতে তৈরি নয়, উল্টে এতদিন যারা নানা কারণে শরণার্থী ছিলেন তাদের নাগরিকত্ব প্রদান করে সম্মানিত করা হবে। এই আইন কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। সিএএ কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে না, বরং এই আইনের মাধ্যমে নাগরিকক্ত প্রদান করা হবে। পদ্ম বাহিনীর দাবি, প্রতিবেশী তিন দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু নিপীড়িতদের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, ধরে নেওয়া হচ্ছে মুসলিম প্রধান দেশে ধর্মীয় সংখ্যাগুরুদের ওপর ধর্মীয় অত্যাচার হয় না। তাই মুসলমানদের নয়া আইন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তিন প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা অ-মুসলমান শরণার্থীদের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হবে। তবে কেন তারা এদেশে এসেছেন তার উল্লেখ করতে হবে না। মন্ত্রণালয়ের এক আধিকারিকের কথায়, ‘ধরেই নেওয়া হবে আবেদনকারীরা সত্যি কথা বলছেন। তারা যে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার তা কোনও আবেদনকারীকেই প্রমাণ করতে হবে না।’ নানা বিতর্ক, বিক্ষোভ- তার মাঝেই অবশ্য সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন চালু করল মোদি সরকার। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft