রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক স্যার
না, তবে বিপদের সম্মুখীন হতে পারতাম
ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Sunday, 19 January, 2020 at 6:58 PM
না, তবে বিপদের সম্মুখীন হতে পারতামপ্রশ্ন : ভারতে যাবার পথে আপনারা কোন বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছিলেন?
রুহুল আমিন প্রামাণিক স্যার : না, তবে মারাত্œক বিপদের সম্মুখীন  আমরা হতে পারতাম। কেননা যাবার পথে পদ্মার চরের বুকে এদিকে সেদিক ছড়ানো বেশ কিছু লাশ আমরা দেখতে পেয়েছিলাম। ৩ এপ্রিল থেকেই পাকিস্তানী হানাদাররা বিমান থেকে রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান গুলোতে গোলাগুলি বর্র্ষন শুরু করে। সেদিনের সব পথই ছিল মৃত্যকীর্ণ। পদ্মার চরেও পলায়নপর নিরীহ নিরস্ত্র জনগণের উপর তারা নির্বিচারে গোলাগুলি বর্র্ষণ করতে ছাড়েনি। ভারতে যাবার সময় হানাদার বিমানটি  আকাশে ছিলনা বিধায় আমরা বেঁচে গিয়েছিলাম। নইলে, অন্য অনেকের মত পদ্মার বুকে ভবলীলা সাঙ্গ হতে পারতো।
শুনেছি, আমাদের মুক্তিবাহিনীর অবরোধ থেকে পাকিস্তনীরা রাজশাহীর ক্যান্টনমেন্ট দখল করার পর ১৫ এপ্রিল শহরের সর্বত্র ব্যাপক হারে গোলাগুলি, হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভীত সন্ত্রস্ত জনগণ বাড়ীঘর ছেড়ে পথে নামে।। পদ্মাচরে সেদিন ওঁতপেতে থাকা পাকিস্তানী হায়েনারা ভারতের উদ্দেশ্যে হিজরত রত হাজার হাজার ভয়ার্ত সহয় সম্বলহীন মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ খবর ভারতে আশ্রিত শরণার্র্থীদের অনেকেই নিকট আতœীয়দের স্মরণে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধে নয়মাস পদ্মার বুকে এইভাবে কত শত অহ¯্র মানুষ প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন তার হিসাব কেউ না রাখলেও এর দিকে তাকিয়ে আজো আমরা অনেকে সেইসব মৃত্যুদীর্ণ দিনগুলোর কথা স্মরণ করে শিউরে উঠি। কেননা, স্বাধীনতার নয় মাস এই পদ্মার বুকটাই ছিল যেন পাকবাহিনীর বধ্যভুমি।
মনে পড়ে যায় পদ্মার চরে আবিস্কৃত আর এক বধ্যভুমির কথা। স্বাধীনতা যুদ্ধে শেষ হয়েছে। আমরা পৃথিবী একম্পিত করে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্র্জন করেছি। কিন্ত সারাদেশে ৩০ লক্ষ স্বজন হারিয়েছি। সেই  হারানো স্বনদের খঁজতে  গিয়ে রাজশাহীর বোয়ালিয়া ক্লাবের সামনের বাঁধের নীচে পদ্মাচরের বাবলা বনে এক বধ্যভুমির সন্ধান আমরা পেয়ে যাই। সেইদিন ছিল ৭১’এর ৩০ ডিসেম্বর। বালির স্তপ সরিয়ে  সরিয়ে একটি দড়ির সঙ্গে বাঁধা ১৪টি লাশ আমরা পাই। লাশ গুলোর অন্তর চার পাঁচ জনকে আমি ব্যাক্তিগতভাবে চিনতাম এবং জানতাম। এঁদের অনেককে ২৫ নভেম্বর ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। লাশ উদ্ধারে অনেকের সঙ্গে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় মনোবিজ্ঞান বিভাগের শহীদ অধ্যাপক আব্দুল কাইউমের বড় শ্যালক মোস্তাফিজুর রহমান খান আলম ভাই উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক মীর আব্দুল কাইউম, মনজুবোডিং এর মালিক আজিজুল হক চৌধুরী তাঁর আর এক ভাই মকবুল চৌধুরী, বিশিষ্ট কন্ট্রাকক্টর আলতাফ হোসেন, রেডিও মেকানিক্স নওরোজদ্দৌলা, আলাউদ্দিন চেয়াম্যান সহ ১৪ টি লাশ আমরা উদ্ধার করি। বধ্যভুমির ধারে দাঁড়ানো আতœয়স্¦জনদের আহজারি আজো মোস্তাফিজুর রহমান খান আলম ভায়ের মুখের দিকে আমি তাকাতেই পারছিলাম না। অমন সর্বস্ব হারা নিঃস্¦ চেহারা কেউবা দেখতে চায়, বলো?



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft