রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২০
সারাদেশ
লালদীঘিতে শেখ হাসিনার সভায় গুলি
পাঁচ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড
মুহাম্মদ দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
Published : Monday, 20 January, 2020 at 4:23 PM
পাঁচ পুলিশের মৃত্যুদণ্ডতিন দশক আগে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গুলি করে ২৪জনকে হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় চার আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদ-প্রাপ্ততরা হলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি অঞ্চলের তৎকালীন পেট্রোল ইন্সপেক্টর জে সি মণ্ডল, কন্সটেবল মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, শাহ মো. আবদুল্লাহ ও মমতাজ উদ্দিন। এদের মধ্যে ইন্সপেক্টর জে সি মণ্ডল পলাতক আছেন।
এছাড়াও ‘বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত সৃষ্টির’ দায়ে দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি বন্দরনগরীর লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভার দিন দুপুর ১টার দিকে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাক আদালত ভবনের দিকে যাওয়ার সময় নির্বিচার গুলি ছোড়া শুরু হয়। আইনজীবীরা মানববেষ্টনি তৈরি করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে নিরাপদে আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে যান। এতে রক্ষা পান শেখ হাসিনা। ওই ঘটনায় মে. হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথলেবার্ট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডি কে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বি কে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, সমর দত্ত, হাসেম মিয়া, মো. কাসেম, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ ও শাহাদাত হোসেন নিহত হন।
ওই সময় নিহতদের কারও মৃতদেহ পরিবারে কাছে হস্তান্তর না করে বলুয়ার দীঘি শ্মশানে পুড়িয়ে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকার। এরশাদের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ আইনজীবী শহীদুল হুদা ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করলেও বিএনপি সরকারের সময়ে তার কার্যক্রম এগোয়নি।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। দু’দফা তদন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর আট পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে পাঁচজন জীবিত আছেন। মৃত আসামিরা হলেন-সিএমপির কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদা, কনস্টেবল আব্দুস সালাম ও বশির উদ্দিন।
মামলায় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শেফালী সরকার, সাংবাদিক অঞ্জন কুমার সেন ও হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, সুভাষ চন্দ্র লালা, অশোক কুমার বিশ্বাস, হাসনা বানু, মাঈনুদ্দিন, আবু সৈয়দ এবং অশোক বিশ্বাস অন্যদের মধ্যে সাক্ষ্য দেন।
গত ১৪ জানুয়ারি ৫৩তম সাক্ষী আইনজীবী শম্ভুনাথ নন্দীর সাক্ষ্য দেন। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ায় ওইদিন আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১৯ জানুয়ারি দিন ঠিক করেন। নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপন শেষে পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
পরে আদালত আসামি পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সোমবার দিন রেখেছিলেন। কিন্তু আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন না করায় এদিনই আদালত রায় ঘোষণা করেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft