বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রমাণিক স্যার
নিজেকে খুবই বিচ্ছিন্ন বলে মনে হয়েছিল
ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Monday, 20 January, 2020 at 8:13 PM
নিজেকে খুবই বিচ্ছিন্ন বলে মনে হয়েছিলপ্রশ্ন : ভারত গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে প্রথমে আপনারা কিভাবে সংগঠিত হলেন এবং কেমন মনে হয়েছিল তখন?
রুহুল আমিন প্রমাণিক স্যার : বাংলাদেশের ভেতরে প্রাথমিক প্রতিরোধ যুদ্ধে আমাদের অস্ত্রের অভাব মারাতœকভাবে অনুভুত হয়েছে। ভারতে প্রবেশ করে প্রথমে নিজেকে খুবই বিচ্ছিন্ন বলে মনে হয়। ছাত্র ইউনিয়ন ন্যাপ এবং কমিউনিষ্ট পার্টির বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, আমাকে একাকীত্বের এক ভয়াবহ অসহায়তত্ব আঁকড়ে ধরেছিল। এমতাবস্থায়, রাজশাহীর সর্বজন শ্রদ্ধেয় জননেতা এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান ও এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম ভাই’র খবর পাই যে তাঁরা বেঁচে আছেন। আমাদের আতা ভাইও বেঁচে আছেন এবং তিনি প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলে আতœগোপন করেছেন বলে জানতে পাই। দু’একজন বন্ধুর সংবাদ পেলাম তারা ভগবানগোলার আশে পাশে উপস্থিত হয়েছেন। কয়েকদিন বর্ডার এলাকায় ঘোরাঘুরিও করি। ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী ছোট ভাই সারওয়ারুল ইসলাম বুলেট ভগবানগোলায় এসে আমার সঙ্গে দেখা করে। তার কাছে জানতে পারি যে আমার বিশিষ্ট বন্ধু সিকান্দার আবু জাফর এবং সাইদুল ইসলাম বেঁচে আছে এবং তারা অক্ষত অবস্থায় ভারতে প্রবেশ করছে। কোথায় তারা অবস্থান করেছে এটা সে জানেনা। যাই হোক, এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহের মাঝামাঝি আমি বুলেটকে সাথে নিয়ে কলকাতায় যাই। সঙ্গী সাথীদের খোঁজে আমরা প্রথমে কলকাতায় সিপিআই কমিউনিষ্ট পাটি অফ ইন্ডিয়া অফিসে গিয়ে উপস্থিত হই। তখন সিপি আই পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য শাখার সেক্রেটারী ছিলেন বিশ^নাথ মুখার্জী। রাজ্যের এই কেন্দ্রীয় অফিসে রাজশাহীর বিশ^বিদ্যালয়ে পড়া উত্তর বঙ্গের কিছু ছেলের সাথে আমাদের দেখা হয়। তারা আমাকে বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্রনেতা হিসেবে চিনতো। জানলাম এরা এই অফিসের হলরুমেই কয়েকদিন থেকে যাত্রিযাপন করছে।
বিশ^নাথ মুখার্জী এবং সি পি আই রাজ্য শাখা অফিসের সেক্রেটারী (নাম মনে নেই) আমাদের সাদরে গ্রহণ করে অফিসেই থাকার কথা বললেন এবং দিন কয়েক অপেক্ষা করলে রাজশাহীর বন্ধুদের খবর পেয়ে যেতে পারি বলে জানালেন। পরের দিন আমাদের দ’জনকে বিশ্¦নাথ মুখার্জী তাঁর অফিস কক্ষে ডেকে পাঠালেন। তিনি ইতোমধ্যে বিশ^বিদ্যালয়ের পড়া ছেলেদের কাছে জেনেছেন যে আমি ভালো বলতে পারি। এইসূত্রে তিনি আমাকে তাঁদের আয়োজিত জনসভাগুলোতে বক্তৃতা দেবার জন্য বললেন। তিনি আরো বলেন, যুদ্ধ শুরু করার আগে তো মানুষজনের মস্তিস্ক পরিস্কার করতে হবে। তোমাদের যুদ্ধে জয়ী হতে হলে শুধু আমাদের মতো রাজনৈতিক দল ও ব্যাক্তির সমর্থন পেলে চলবেনা বরং সাধারণ মানুষদেরর বোঝাতে হবে কেনো এবং কোন এবং কোন পরিস্থিতিতে তোমরা তোমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছো। তাছাড়া প্রতিদিন তোমাদের দেশ থেকে যে হাজারে হাজারে শরণার্র্থী আসছে, আমাদের এপারের সাধারণ মানুষ যদি মন থেকে অয়েলকাম না জানায় তবে সমস্যা আরো বাড়বে।
সিন্ধান্ত হলো সেদিনই কলকাতা থেকে প্রায় শত মাইল দুরে রুপনারায়ন নদীর ধারে মেদিনীপুরের কোলাঘাট অঞ্চলে যেতে হবে। সে সময় কোলাঘাটের সি পি আই সেক্রেটারী হরিপদ প্রামাণিক স্টেশনে আমাদের স্বাগত জানালেন। চমৎকার মানুষ এই হরিপদ প্রামাণিক। মেদেনীপুর কোলাঘাট অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলোতে প্রায় প্রতিদিনের একাধিক জনসভায় আমাকে বক্তৃতা দিতে হয়েছে। ছিলো সারোয়ারুল ইসলাম বুলেট। জনসভার গুলোতে দ’জনকেই বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো। প্রতিটি জনসভায় হরিপদ প্রামাণিক এবং তাঁর কর্মীবাহিনী ও সমর্থকদের সাংগঠনিক ক্ষমতা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। প্রায় সপ্তাহে দেড়েক আমরা সেখানে ছিলাম। সকাল বেলা কোন একজন নেতার বাড়ীতে নাস্তা করলে দুপুুর বেলা আর এক সমর্থক এবং রাতের বেলায় অন্য আর একজনের বাড়ীতে আমাদের খাবার ব্যবস্থা করা হতো। এনিয়ে প্রশ্ন করলে হরিপদ আমাদের হাসতে হাসতে বলেছিলেন “দেহের সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ওয়ার্ম আপ করার মতো এর মধ্য দিয়ে সংগঠনের ওয়ার্ম আপটিও আমরা করে নিচ্ছি আর কি?” তাছাড়া কোলাঘাটের ব্যাপক জনসাধারণের সঙ্গের এর মাধ্যমে একটা মানবিক সম্পর্কও গড়ে উঠছিলো। কেননা যে বাড়ীতেই যেতাম সেই বাড়ীর আতœীয় স্বজন ছাড়াও পাড়া প্রতিবেশী আবাল বৃদ্ধ বণিতা আমাদের দেখতে আসতেন। এর মধ্যে হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রীষ্টান সবাই থাকতেন। মেদেনীপুরের এই কোলাঘাট অঞ্চলটি ছিল বিশ^নাথ মুখার্র্জীর স্ত্রী গীতা মুখার্জীও নির্বাচনী এলাকা। তিনি সপ্তাহের একটি দিনের একটি বড় জনসভায় এসে যোগও দিয়েছিলেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft