সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক স্যার
হরিপদ দা এক কর্মীকে দিয়ে আমাদের কলকাতায় পাঠিয়েছিলেন
ডাঃ মোঃ হাফিজুুর রহমান (পান্না), রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Wednesday, 22 January, 2020 at 7:01 PM
হরিপদ দা এক কর্মীকে দিয়ে আমাদের কলকাতায় পাঠিয়েছিলেনপ্রশ্ন : এরপর কি ভাবে আপনারা কলকাতায় ফিরে আসলেন?
রহুল আমিন প্রামাণিক স্যার : হ্যাঁ হরিপদ দা তাঁর এক কর্মীকে দিয়ে আমাদের কলকাতায় পাঠিয়ে ছিলেন। সি পি আই রাজ্য পরিষদের অফিসে এসে পৌঁছানোর পরদিন সকালের দিকে ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ পাই। তিনিই কোন কর্যবশতঃ সম্ভবত দিল্লী অথবা আগরতলা থেকে অফিসে টেলিফোন করেছিলেন। আমি যেঁচে তাঁর সঙ্গে কথা বলি। রাজশাহীর বন্ধুদের খবর তিনি রাখেন কিনা জানতে চাই। তিনি সরাসরি ইলা মিত্রের সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে বলেন। এরপর আমি আর বুলেট আমাদের নাচোল বিদ্রোহের বিপ্লবী নেত্রী ইলামিত্রের বাসায় যাই। সেখানে তিনিই আমাদের দরজা খুলে দিয়ে তাঁর ড্রয়িং রুমে বসতে বলেন।
আমরা রাজশাহীর ছেলে শুনে ইলাদি প্রথমে জননেতা এম.আতাউর রহমান এবং শহীদ বীরেন্দ্রনাথ সরকারের কথা জনতে চান। আলাপে বুঝলাম, বীরেনদাকে হত্যার ঘটনা তিন আগেই জেনেছেন। রাজশাহীর এ দু’জন ব্যাক্তি ছিলেন ইলামিত্র, রমেন মিত্রদের আতœার আতœীয়। পাকিস্থানে ইলাদির ঐতিহাসিক মামলার অন্যতম কৌশলী ছিলেন বিরেন্দ্রনাথ সরকার। আর আতা ভাই ছিলেন তাঁদেরই একজন সহযোদ্ধা। ইলাদিও ড্রয়িংরুমে একটি সাধারণ তক্তপোষে সে দিন রংপুরের প্রখ্যাত বামপন্থী নেতা মনিষ্ণ সেনকে বসে থাকতে দেখি। মানুষটি খালি গায়ে পদ্মাসনে গ্রীকদেবতার অবয়ব নিয়ে যেন বসেছিলেন। প্রায় ৭০ এর কাছাকাছি বয়স। অথচ কী পেটানো শরীর। ইলাদির বাড়ীতে আমাদের পাবনার ন্যাপনেত্রী সেলিনা বানুর মেয়ে ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী পাবনার প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেয়া নারী মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিথিলকে সেদিন দেখতে পেয়েছিলাম। চাক্ষুস আলাপ পরিচয় না থাকলেও সেদিন তাঁর সঙ্গে কথা হয়। ইলাদি আমাদের মালদহ যেতে বলেন। মালদাহ সি পি আই অফিসে গিয়ে তাঁর স্বামী রমেন মিত্রের সঙ্গে দেখা করলে তিনিই সব ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানান।
আমরা কলকাতার সি পি আই কেন্দ্রীয় কার্যলয়ে ফিরে যাই। মালদাহ রওনা দেবার আগে অফিসে (দোতালায়) কাঠের সিঁড়ি ভেঙ্গে একজন বয়স্ক ভদ্রলোাককে ধীর পদক্ষেপে উঠতে দেখি। তাঁর মোজাবিহীন পয়ে ছিল ক্যাম্বিসেরর জুতা। পরনে সাধারণ ধুতি আর পাঞ্জাবী। মাথায় কংগ্রেসী টুপি। সঙ্গে বেশ কয়েকজন পোশাকের পুলিশকেও উঠতে দেখি। দোতালায় হলরুমে মতো স্পেসটিতে আমরা যারা শুয়ে বসেছিলাম তারা সবাই সচেতন হয়ে নেড়ে চড়ে বসি। কিছুক্ষণ বাদে অফিস পিওন এসে রাজশাহীর আমাদের দু’নকে ডাক দেয়। আমরা প্রথমে ভয় পেয়ে দুরু দুরু বুকে বিশ^নাথ মুখার্জীও অফিস রুমে গিয়ে হাজির হই। যাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়াই তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী (সম্ভবত বাংলা কংগ্রেসের) অজয় মুখার্জী। রাজশাহী শহরে বাড়ী শুনে তিনি আমাদের জননেতা এম.আতাউর রহমান আতাভাই সম্পের্কে জানতে চান। তিনি বেঁচে আছেন কিনা? কোথায় আছেন? এসব বিষয় অমার কাছে জানতে চান। বীরেন দাকে কিভাবে হত্যা করা হয় সেটাও তিনি জেনে নেন। পাকিস্থানের ভিত কাঁপানো তেভাগা আন্দোলনে সাঁওতাল বিদ্রোহের কৃষকনেত্রী ইলামিত্র এবং মুখ্যমন্ত্রী মহোদয়ের আমাদেরই আপনজনদের সম্পর্কে আকুলতা দেখে আমরা সত্যিই সেদিন অভিভুত হয়ে পড়িছলাম। এই সামান্য দু’টি ঘটনার মধ্য দিয়ে অসামান্য দরদী হৃদয়ের পরিচয় পেয়ে তাঁদের স্মরণে আজো আমরা মাথা শ্রদ্ধানত হয়ে পড়ে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft