মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
রাজশাহীতে দুটি বালুমহাল বন্ধ করল জেলা প্রশাসন
রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Wednesday, 22 January, 2020 at 5:08 PM
রাজশাহীতে দুটি বালুমহাল বন্ধ করল জেলা প্রশাসনরাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠের দুটি বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পদ্মা নদী তীরবর্তী নিরাপত্তা বেষ্টনী বাঁধের নির্ধারিত সীমানা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় পবা উপজেলাধীন হারুপুর নবগঙ্গা ও কসবা মদনপুর চর হরিপুর মৌজায় অবস্থিত এই দুটি বালুমহালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মতিক্রমে বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনা করেন পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল হায়াত। এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি একই অভিযোগে এই দুটি বালুমহালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।  
স্থানীয় দুজন প্রভাবশালী জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এক বছরের জন্য ইজারা নিয়ে এই বালুমহাল দুটি পরিচালনা করে আসছিলেন। যাদের একজন রজব আলী; তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও এক নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর। অপরজন আনোয়ার হোসেন; তিনি রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি।
বালুমহাল সংশ্লিষ্টদের দাবি, এখন যে এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলন করতে বলা হচ্ছে, তা ভারতীয় বর্ডার বা নোম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় হওয়ায় সেই চর থেকে বালু উত্তোলন সম্ভব নয়। ইজারার পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় জরিপ না করেই বালুমহাল ইজারা দেওয়ায় ইজারাদারেরা এখন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
রাজশাহী জেলার নদী তীরবর্তী এলকায় এমন ১১টি বালুমহাল রয়েছে। যেগুলোর অধিকাংশের বিরুদ্ধেই নানা অনিয়মের অভিযোগ আছে। বালুমহাল ইজারা শর্ত অনুসারে, নদী তীরবর্তী নিরাপত্তা বিষ্টনী বাঁধ থেকে দুই কিলোমিটার দূরে নদীর বুক থেকে বালু উত্তোলন করতে হবে। তবে ভ্রাম্যমাণ আদলতের দেওয়া তথ্য মতে, বালুহমাল দুটি বাঁধ এলাকার ৫শ মিটারের মধ্যেই বালু উত্তোলন করছিলেন। যা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে পরিচিত নদীর বাঁধের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
কসবা মদনপুর ও চরহরিপুর মৌজার বালুমহাল ইজারাদার আনোয়ার হোসেন জানান, বালুমহাল ইজারার পূর্বে হাইড্রোলিক জরিপ করার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এর ভিত্তিতে ইজারার কাগজে ওই এলাকায় বালুর সম্ভাব্য পরিমাণ, মৌজা, দাগ নম্বর উল্লেখ করা হবে। তবে ইজারার সময় সিডিউল পেপারে জেলা প্রশাসন এই বিষয়গুলো উল্লেখ করেনি। ফলে ৪ কোটি ৯২ লাখ টাকায় বালুমহাল ইজারা নিয়ে তিনি এখন বিপদে পড়েছেন।
তিনি জানান, বর্তমানে যে সীমানায় বালু তুলতে বলছে জেলা প্রশাসন সেই সীমানায় ভারতীয় বর্ডার নয়তো নোম্যান্স ল্যান্ড রয়েছে। সেখান থেকে বালু উত্তোলন সম্ভব নয়। রজব আলীসহ তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন যাতে তাদের নদী তীরের এক কিলোমিটার সীমানার মধ্যে বালু তুলতে দেওয়া হয়।   
পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল হায়াত জানান, বালু উত্তোলনের ইজারা শর্ত ভঙ্গ করায় মঙ্গরবার হারুপুর নবগঙ্গা ও কসবা মদনপুর এলাকায় অবস্থিত দুটি বালুমহালে অভিযান পরিচালনা করে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নদীর বুকে চর এলাকায় লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে এই সীমানার মধ্যে কেউ বালু উত্তোলন না করে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft