শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
এসএসসি পরীক্ষায় খরাপ হওয়ায় আত্মহত্যা
মোঃ সেলিম হোসেন, রাজশাহী প্রতিনিধি
Published : Wednesday, 12 February, 2020 at 6:23 PM
এসএসসি পরীক্ষায় খরাপ হওয়ায় আত্মহত্যারাজশাহীর বাগমারায় খাতা কেড়ে নেওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় এসএসসি পরীর্ক্ষাথী। তার নাম সেলিম রেজা। এ নিয়ে একই উপজেলায় দু’জন এসএসসি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিল। এসব ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সেলিম রেজা (১৬) বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও একই এলাকার মরুগ্রামের মেহের আলী ছেলে। মঙ্গলবার রাতে সে আত্মহত্যা করে। বুধবার গণিত পরীক্ষা খারাপ হওয়ার কারণে আত্মহত্যা করে বলে জানা যায়। সেলিম রেজা ভবানিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের পরীক্ষা দিচ্ছিল।
জানা যায়, সেলিম রেজা গত মঙ্গলবার উপজেলার সাঁকোয়া শিকদারী উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষার কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যায়। ওই দিন গনিত পরীক্ষায় ভাল করতে না পেরে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরে শুয়ে পড়েন। সবার অজান্তে তিনি রাতের কোন এক সময়ে শয়ন ঘরের তীরের সঙ্গে গলাই ফাঁস দিয়ে আত্ম হত্যা করে। ভোরে বাড়ির লোকজন তাকে ডাকাডাকি করলে তার কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলতে দেখতে পায়। বাড়ির লোকজনের চিৎকারে পাড়ার লোকজন জড় হয়ে গলার ফাঁস কেটে তাকে মৃতবস্থায় মাটিতে নামিয়ে ফেলে। খবর পেয়ে বাগমারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং লাশটির সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরী করে। পরিবার ও এলাকার লোকজনের অভিযোগ না থাকায় পুলিশ সেলিম রেজার লাশটি দাফনের অনুমতি দেন।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফারজানা আক্তার নামের আরকে পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। ওই দিন বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ফারজানা আক্তারের খাতা কেড়ে নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহমেদ। এতে ক্ষোভে রাগে ওইদিন রাতে বাড়িতে ফিরে ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে ফারজানা। সে কাঠালবাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ভবানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিল।
ফারহানার সহপার্ঠি সুত্রে ও অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত ফারহানা ভবানীগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ নং কক্ষে বাংলা নৈবত্তিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। ওই সময় কক্ষ পরির্দশক ছিলেন নরসিংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বেলাল উদ্দিন, তাহেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সাবিনা খাতুন ও বৈলসিংহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহসিন আলী। কক্ষ পরিদর্শক মহসিন আলী ও বেলাল উদ্দিন উদ্দেশ্যমূলক ভাবে কারণ ছাড়াই বার বার কক্ষ পরিদর্শক সাবিনা খাতুনকে দিয়ে দেহ তল্লাশির নামে নাজেহাল করে। এতে করে মেধাবী ওই পরীক্ষার্থী ফারহানা খাতুনের পরীক্ষা খারাপ হয়। পরে ফরহানা মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে। বিষয়টি তার বাবা জেনে মেয়েকে শান্তনা দেয়। কিন্তু সে কোন শান্তনায় মেনে নিতে পারছিল না। যে কারণে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হবে জেনে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
এদিকে ফারহানার অকাল মৃত্যুতে তার সহপাটি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষককেরা ভেঙ্গে পড়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বলেন, ফারহানা অত্যান্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। সে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। তার এমন মৃত্যু কোনে ভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft